১২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লামা ও  চকরিয়ায় পাহাড় ধসে নিহত ৩

অবিরাম বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও বান্দরবানের লামায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া সংবাদদাতা: চকরিয়ায় নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ ছাদেক (৩৬) ও তার স্ত্রী ওয়াজিয়া বেগম (২২)। বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বমুরকূল এলাকায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে তারা নিহত হন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব জানান, রাত দেড়টার দিকে পাহাড় ধসে ছাদেকের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ছাদেক ও তার স্ত্রী ঘুমে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করেছেন।

লামা সংবাদদাতা : লামায় নিহত বৃদ্ধার নাম নুর জাহান (৬৫)। তিনি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী। মধুঝিরীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসের এ ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ইসান ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। তাদের লামা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রাঙামাটি সংবাদদাতা : সপ্তাহ ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে বাড়িঘর, দোকানপাট এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচঙ্গ্যা বলেন, এ পর্যন্ত তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪০০ পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সব তালিকা হাতে পেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

বন্যায় প্লাবিত পাংখোয়া পাড়া এবং ফারুয়া ইউনিয়নের চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তক্তানালা, ওড়াছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, তারাছড়া, ফারুয়া বাজার, ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয়কেন্দ্র, গোয়াইনছড়িসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, ফারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালাল।

বান্দরবান সংবাদদাতা: এছাড়া শনিবার দুপুর থেকে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে জেলায় ৪১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে । সাইক্লোন সেন্টার এবং বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নেয়াদের এই স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিচ্ছে মেডিকেল টিম। জরুরি হলেই সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ।

এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম হোসেন জানান, জেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

বান্দরবানের পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবী জানান, জেলার ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে দুই বেলা করে রান্না করা খিচুড়ি ও মাংস দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেটও দেয়া হচ্ছে।

 

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : -বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ৬ দিন ধরে সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবান-কেরানীহাট সংযোগ সড়ক এবং অভ্যন্তরীণ রুটগুলো ৬দিন ধরে বন্ধ থাকায় খাদ্যপণ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে ব্যাপক। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। সবজিক্ষেত ডুবে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে সংকট। যদিও বা কিছু পাওয়া যাচ্ছে তার মূল্য তিন/চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

কক্সবাজার সংবাদদাতা:দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। সড়কের উভয় পাশে আটকে গেছে শতাধিক যানবাহন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন। আজ শনিবার বিকেল চারটা থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর এলাকায় বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যায়। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ। পানি কমলেই আবার যান চলাচল শুরু হবে।

হাসিমপুরে আটকে পড়া এক স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে কেরানীহাট এর উদ্দেশে বের হয় বাসে করে চন্দনাইশ হাসিমপুর এলাকায় পৌঁছালে পানির জন্য বাস আটকে যায়। বর্তমানে ওই স্থানে শতাধিক গাড়ি সড়কের পাশে আটকে আছে বলে জানান তিনি। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দোহাজারী দেওয়ানহাটের পর থেকে হাশিমপুর ইউনিয়নের বড় পাড়া পর্যন্ত নিচু এলাকা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :

শেষ মুহূর্তের গোলে চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল

লামা ও  চকরিয়ায় পাহাড় ধসে নিহত ৩

প্রকাশিত : ০৩:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯

অবিরাম বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও বান্দরবানের লামায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া সংবাদদাতা: চকরিয়ায় নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ ছাদেক (৩৬) ও তার স্ত্রী ওয়াজিয়া বেগম (২২)। বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বমুরকূল এলাকায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে তারা নিহত হন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব জানান, রাত দেড়টার দিকে পাহাড় ধসে ছাদেকের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ছাদেক ও তার স্ত্রী ঘুমে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করেছেন।

লামা সংবাদদাতা : লামায় নিহত বৃদ্ধার নাম নুর জাহান (৬৫)। তিনি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী। মধুঝিরীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসের এ ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ইসান ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। তাদের লামা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রাঙামাটি সংবাদদাতা : সপ্তাহ ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে বাড়িঘর, দোকানপাট এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচঙ্গ্যা বলেন, এ পর্যন্ত তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪০০ পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সব তালিকা হাতে পেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

বন্যায় প্লাবিত পাংখোয়া পাড়া এবং ফারুয়া ইউনিয়নের চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তক্তানালা, ওড়াছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, তারাছড়া, ফারুয়া বাজার, ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয়কেন্দ্র, গোয়াইনছড়িসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, ফারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালাল।

বান্দরবান সংবাদদাতা: এছাড়া শনিবার দুপুর থেকে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে জেলায় ৪১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে । সাইক্লোন সেন্টার এবং বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নেয়াদের এই স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিচ্ছে মেডিকেল টিম। জরুরি হলেই সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ।

এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম হোসেন জানান, জেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

বান্দরবানের পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবী জানান, জেলার ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে দুই বেলা করে রান্না করা খিচুড়ি ও মাংস দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেটও দেয়া হচ্ছে।

 

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : -বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ৬ দিন ধরে সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবান-কেরানীহাট সংযোগ সড়ক এবং অভ্যন্তরীণ রুটগুলো ৬দিন ধরে বন্ধ থাকায় খাদ্যপণ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে ব্যাপক। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। সবজিক্ষেত ডুবে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে সংকট। যদিও বা কিছু পাওয়া যাচ্ছে তার মূল্য তিন/চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

কক্সবাজার সংবাদদাতা:দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। সড়কের উভয় পাশে আটকে গেছে শতাধিক যানবাহন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন। আজ শনিবার বিকেল চারটা থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর এলাকায় বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যায়। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ। পানি কমলেই আবার যান চলাচল শুরু হবে।

হাসিমপুরে আটকে পড়া এক স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে কেরানীহাট এর উদ্দেশে বের হয় বাসে করে চন্দনাইশ হাসিমপুর এলাকায় পৌঁছালে পানির জন্য বাস আটকে যায়। বর্তমানে ওই স্থানে শতাধিক গাড়ি সড়কের পাশে আটকে আছে বলে জানান তিনি। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দোহাজারী দেওয়ানহাটের পর থেকে হাশিমপুর ইউনিয়নের বড় পাড়া পর্যন্ত নিচু এলাকা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম