বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা গায়ে লাগিয়ে আইরিশদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে নবীন টেস্ট সদস্য আয়ারল্যান্ডের কাছেই কিনা ইংলিশরা অলআউট হয়ে যায় ৮৫ রানেই। কিন্তু সেই লজ্জা ঢেকে এবার উল্টো আইরিশদের দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ৩৮ রানেই থামিয়ে দিয়ে ১৪৩ রানের জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
১৮২ রানের লক্ষ্য নিয়ে আইরিশরা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ইনিংস নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। সর্বনিম্ন ইনিংসের তালিকায় তাদের অবস্থান এখন সপ্তম স্থানে। ২৬ রান নিয়ে তালিকার শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। ১৯৫৫ সালের ২৫ মার্চ ইংলিশদের বিপক্ষেই এই লজ্জায় ডুবেছিল কিউইরা। তালিকায় শীর্ষ পাঁচের ৪টিই দক্ষিণ আফ্রিকার।
৩৬ রান নিয়ে আইরিশদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। ইংলিশদের বিপক্ষে ১৯০২ সালে এই লজ্জায় ডেবেছিল অজিরা। তবে শীর্ষ দশের বাকি সবগুলোই গত শতাব্দীর। অর্থাৎ চলতি শতাব্দীর সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংসের মালিক এখন আয়ারল্যান্ড। অথচ প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের ৮৫ রানে অলআউট করে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষে ১২২ রানের লিড পেয়েছিলেন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডরা।
ম্যাচের মোড় আসলে ঘুরে যায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসেই। ৮৫ রানের লজ্জা ছাড়িয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০৩ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ব্যাট হাতে নাইটওয়াচম্যান হয়ে প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও দলকে ভালো অবস্থানে রেখে যান জ্যাক লিচ। সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে থেকে বিদায় নেন তিনি। জেসন রয়ের ব্যাট থেকে আসে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস। দুজনে ১৪৫ রানের দারুণ জুটি গড়েন। শেষে টম কারেনের ৩৭ ও স্টুয়ার্ট ব্রডের ২১ রানে ভর করে ১৮২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় ইংল্যান্ড।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে আইরিশরা। দুই ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস ও ব্রডের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ও’ব্রায়েন-স্টার্লিংরা। দুজনে মিলে ভাগ করে নিয়েছেন ১০ উইকেট। এর মধ্যে মাত্র ১৭ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন ওকস। ১৯ রান খরচে ৪ উইকেট নিয়েছেন ব্রড। আর কোনো ইংলিশ বোলারকে বলই হাতে নিতে হয়নি। কেননা আইরিশদের ইনিংস স্থায়ী হয়েছে মাত্র ১৫.৪ ওভার পর্যন্ত। দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন শুধু জেমস ম্যাককলাম (১১)।
এই জয়ে একমাত্র টেস্টের সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিতে নিল ইংল্যান্ড।
বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ























