০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

আবু জাফর চৌধুরীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন

দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ-এর অবৈধ ব্যাংকিং ও লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়নসহ সকল অনিয়মের হোতা আবু জাফর চৌধুরীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানববন্ধন করেন। জানা গেছে, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নিয়মবহির্ভুতভাবে নামের শেষে ‘ব্যাংক’ শব্দটি ব্যবহারের পাশাপাশি অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সমবায় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সারা দেশব্যাপী অবৈধ ব্যাংকিং চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির এমন ব্যাংকিং এর কোনো বৈধতা নেই, সেহেতু দেশজুড়ে লাখো গ্রাহকের হাজার কোটি টাকার আমানত অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে।

ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক্টিভিস্ট মো: ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানব বন্ধনে মাইদ্রিস আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার বলেছে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো প্রকার ব্যাংকিং না করতে। কিন্তু এরপরও কী করে একটা সমবায় প্রতিষ্ঠান সারা দেশজুড়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে? অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ, দখলদার চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরিকে বিচারের আওতায় এনে গ্রাহকের আমানত নিরাপদ করতে হবে।’

অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরো জোরদার আন্দোলনের হুশিয়ারি প্রদান করা হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের নিয়ম বহির্ভুত ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং দুর্নীতির নানা দিক তুলে ধরা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির দখলদারিত্ব এবং সহযোগীদের নিয়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকটি লুটে পুটে খাওয়ার ভয়ংকর অভিযোগ। ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে সাধারন মানুষের অর্থে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরি ও তার সঙ্গীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহার ও সারা দেশে শাখা খুলে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এর পরই প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমবায় অধিদপ্তর থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু কী এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে বারবার প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আইনবিরোধী কর্মকান্ড সচল রেখেছে।

এসময় মানব বন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে অনেকেই বক্তব্য দেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারন একটি শেয়ার কেনার পর প্রভাব খাটিয়ে তিনি রাতারাতি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের আসন দখল করেন। বিমান বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন হওয়ার কারনে তিনি নানাভাবে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পদ দখল করার পর থেকে অবৈধ ব্যাংকিং এর ডালপালা মেলতে শুরু করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাকি উদ্দিন আহমেদকে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে আতাত করে আবু জাফর চৌধুরি এ প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেন। লুৎফুজ্জামান বাবরের বড় ভাইও বিমান বাহিনী কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সুবাদে আবু জাফর চৌধুরির সঙ্গে তাদের একটা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে কারখানায় সেনাবাহিনীর অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

আবু জাফর চৌধুরীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন

প্রকাশিত : ০৫:১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ-এর অবৈধ ব্যাংকিং ও লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়নসহ সকল অনিয়মের হোতা আবু জাফর চৌধুরীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানববন্ধন করেন। জানা গেছে, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নিয়মবহির্ভুতভাবে নামের শেষে ‘ব্যাংক’ শব্দটি ব্যবহারের পাশাপাশি অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সমবায় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সারা দেশব্যাপী অবৈধ ব্যাংকিং চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির এমন ব্যাংকিং এর কোনো বৈধতা নেই, সেহেতু দেশজুড়ে লাখো গ্রাহকের হাজার কোটি টাকার আমানত অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে।

ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক্টিভিস্ট মো: ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানব বন্ধনে মাইদ্রিস আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার বলেছে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো প্রকার ব্যাংকিং না করতে। কিন্তু এরপরও কী করে একটা সমবায় প্রতিষ্ঠান সারা দেশজুড়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে? অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ, দখলদার চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরিকে বিচারের আওতায় এনে গ্রাহকের আমানত নিরাপদ করতে হবে।’

অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরো জোরদার আন্দোলনের হুশিয়ারি প্রদান করা হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের নিয়ম বহির্ভুত ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং দুর্নীতির নানা দিক তুলে ধরা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির দখলদারিত্ব এবং সহযোগীদের নিয়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকটি লুটে পুটে খাওয়ার ভয়ংকর অভিযোগ। ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে সাধারন মানুষের অর্থে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরি ও তার সঙ্গীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহার ও সারা দেশে শাখা খুলে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এর পরই প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমবায় অধিদপ্তর থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু কী এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে বারবার প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আইনবিরোধী কর্মকান্ড সচল রেখেছে।

এসময় মানব বন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে অনেকেই বক্তব্য দেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারন একটি শেয়ার কেনার পর প্রভাব খাটিয়ে তিনি রাতারাতি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের আসন দখল করেন। বিমান বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন হওয়ার কারনে তিনি নানাভাবে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পদ দখল করার পর থেকে অবৈধ ব্যাংকিং এর ডালপালা মেলতে শুরু করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাকি উদ্দিন আহমেদকে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে আতাত করে আবু জাফর চৌধুরি এ প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেন। লুৎফুজ্জামান বাবরের বড় ভাইও বিমান বাহিনী কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সুবাদে আবু জাফর চৌধুরির সঙ্গে তাদের একটা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ