কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পরিবারকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে । বুধবার সকালে তনুর পরিবারের পাঁচ সদস্য তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হবার কথা রয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ২০ মাস পার হয়েছে। তবুও অধরা হত্যাকারীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তবে তনুর ঘাতকরা আজও চিহ্নিত না হওয়ায় হতাশ পরিবারের লোকজনসহ স্বজনরা।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম সেলফোনে জানান, গত সোমবার (২০ নভেম্বর) কুমিল্লা সিআইডি অফিস থেকে একটি আমাদের নিকট একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে আমাকে (তনুর মা), আমার স্বামী (তনুর বাবা), দুই ছেলে ও লাইজুকে (তনুর চাচাতো বোন) নিয়ে ঢাকা সিআইডি অফিসে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মেয়ে হত্যার বিচারের আশায় আমরা যাব।
ক্ষোপ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের আর কতো জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি। আমি শুরুতে যাদের নাম বলেছি, বারবার একই কথাই বলে আসছি, যাদেরকে ধরতে বলেছি তাদের ধরলেই সব কিছু খোলাসা হয়ে যাবে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ জানান, তনু হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিআইডি কাজ করে যাচ্ছ। তবে তনুর পরিবার ঢাকায় যাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে লাশ উদ্ধারের পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন কুমিল্লা সিআইডি। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করে প্রতিবেদন দেয়ায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় দেখা দেয়।
শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এমন তথ্যও তারা নিশ্চিত হয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা কিংবা ফলাফল কী এ নিয়ে মুখ খুলছে না সিআইডি।






















