০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮২জন এইডসে আক্রান্ত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৮২ জনকে এইডসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ শনাক্তদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। তাদের সবাইকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোহিঙ্গা যে হারে আসছে, সে হার অনুযায়ী এইচআইভি রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। এই মরণব্যাধি রোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, মাথাব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সরকারি-বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব রোহিঙ্গা রোগীদের জন্য উখিয়ায় ২৭টি ও টেকনাফে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। রয়েছে গর্ভবর্তী মা ও নবজাতক শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এইডস রোগের জন্য চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। এ কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকের শরীরে এইচআইভি জীবাণু থাকতে পারে। রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে দিন দিন বাড়ছে এইডস রোগীর সংখ্যা। এভাবে চলতে থাকলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রোগের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। তবে এসব রোগীদের রোগ প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইচআইভি রোগ ছাড়াও হাম, যক্ষ্মা, পোলিও, কলেরা ও ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে টিকা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কলেরা রোগ প্রতিরোধে ৯ লাখ রোহিঙ্গাদের টিকা খাওয়ানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া অপুষ্টিজনিত শিশুদের বিশেষ টিকা ও খাদ্য দেওয়া হয়েছে।’

উখিয়া সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সূত্রে জানা গেছে, এইডস আক্রান্তদের বিষয়টি খুব সতর্কতার সাথে দেখা হচ্ছে। তাদের মানবিক সেবার পাশাপশি রোগটি যেনো বিস্তার লাভ না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া ১৬ নভেম্বর থেকে চলমান পুষ্টি সপ্তাহে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ৪৫ হাজার শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। বর্বরোচিত গণহত্যা ও গণধর্ষণ এড়াতে পালিয়ে আসা এসব মানুষদের মৌলিক চাহিদা রক্ষায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮২জন এইডসে আক্রান্ত

প্রকাশিত : ০২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৮২ জনকে এইডসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ শনাক্তদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। তাদের সবাইকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোহিঙ্গা যে হারে আসছে, সে হার অনুযায়ী এইচআইভি রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। এই মরণব্যাধি রোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, মাথাব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সরকারি-বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব রোহিঙ্গা রোগীদের জন্য উখিয়ায় ২৭টি ও টেকনাফে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। রয়েছে গর্ভবর্তী মা ও নবজাতক শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এইডস রোগের জন্য চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। এ কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকের শরীরে এইচআইভি জীবাণু থাকতে পারে। রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে দিন দিন বাড়ছে এইডস রোগীর সংখ্যা। এভাবে চলতে থাকলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রোগের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। তবে এসব রোগীদের রোগ প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইচআইভি রোগ ছাড়াও হাম, যক্ষ্মা, পোলিও, কলেরা ও ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে টিকা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কলেরা রোগ প্রতিরোধে ৯ লাখ রোহিঙ্গাদের টিকা খাওয়ানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া অপুষ্টিজনিত শিশুদের বিশেষ টিকা ও খাদ্য দেওয়া হয়েছে।’

উখিয়া সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সূত্রে জানা গেছে, এইডস আক্রান্তদের বিষয়টি খুব সতর্কতার সাথে দেখা হচ্ছে। তাদের মানবিক সেবার পাশাপশি রোগটি যেনো বিস্তার লাভ না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া ১৬ নভেম্বর থেকে চলমান পুষ্টি সপ্তাহে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ৪৫ হাজার শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। বর্বরোচিত গণহত্যা ও গণধর্ষণ এড়াতে পালিয়ে আসা এসব মানুষদের মৌলিক চাহিদা রক্ষায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।