০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু, কাটছে না সংশয়

রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইলেই প্রত্যাবাসন হবে প্রত্যাবাসন কমিশনার

নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সেরেছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবাসন আদৌ শুরু করা যাবে কিনা তা নির্ভর করছে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছের উপর। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ছাড়পত্র পাওয়া তালিকার মধ্যে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ২২৫টি পরিবারের যারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহী হবেন তাদের বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ঘুমধুম মৈত্রী সেতু দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।

তবে রোহিঙ্গারা বলছেন, নাগরিকত্বসহ তাদের প্রধান তিনটি দাবি পূরণ না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। অন্যদিকে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, সরকারের সিদ্বান্ত কোনো রোহিঙ্গাকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রোহিঙ্গারা যেতে রাজি হলে বৃহস্পতিবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম মৈত্রী সেতু দিয়ে তিনশো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে মিয়ানমারও এসব রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

তবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে আজও প্রত্যাবাসন আটকে যেতে পারে- এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মিয়ানমারে সবশেষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসিত হয়েছিল ১৪ বছরের বেশি সময় আগে ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই। এই দীর্ঘ সময়ে প্রত্যাবাসনের বারবার সময়সীমা ঘোষণার পরও কোনো রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসিত করা যায়নি। উপরন্তু গত দুই বছরে নতুন করে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। নতুন-পুরনো মিলে এখন উখিয়া টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

এবারও রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও নিজ ভিটেমাটি ফেরত দেওয়াসহ বেশ কয়েক দফা দাবি-দাওয়া দিয়েছে। মিয়ানমার সরকার অন্তত নাগরিকত্ব ও পুরনো ভিটেবাড়ি ফিরিয়ে দিলে সব রোহিঙ্গা একযোগে ফিরে যাওয়ার কথাও বলছে রোহিঙ্গারা।

আজকের প্রত্যাবাসন সফল হবে কিনা তা নিয়ে কক্সবাজারের মানুষ বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফবাসী সন্দিহান। এজন্য তারা চরম ক্ষুব্ধও। তাই যে কোনো মূল্যে প্রত্যাবাসন শুরু করা দরকার। তবে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তাদের রাজি করানো কঠিন হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ-/এমএ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আজ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু, কাটছে না সংশয়

প্রকাশিত : ১১:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯

নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সেরেছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবাসন আদৌ শুরু করা যাবে কিনা তা নির্ভর করছে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছের উপর। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ছাড়পত্র পাওয়া তালিকার মধ্যে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ২২৫টি পরিবারের যারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহী হবেন তাদের বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ঘুমধুম মৈত্রী সেতু দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।

তবে রোহিঙ্গারা বলছেন, নাগরিকত্বসহ তাদের প্রধান তিনটি দাবি পূরণ না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। অন্যদিকে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, সরকারের সিদ্বান্ত কোনো রোহিঙ্গাকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রোহিঙ্গারা যেতে রাজি হলে বৃহস্পতিবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম মৈত্রী সেতু দিয়ে তিনশো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে মিয়ানমারও এসব রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

তবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে আজও প্রত্যাবাসন আটকে যেতে পারে- এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মিয়ানমারে সবশেষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসিত হয়েছিল ১৪ বছরের বেশি সময় আগে ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই। এই দীর্ঘ সময়ে প্রত্যাবাসনের বারবার সময়সীমা ঘোষণার পরও কোনো রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসিত করা যায়নি। উপরন্তু গত দুই বছরে নতুন করে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। নতুন-পুরনো মিলে এখন উখিয়া টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

এবারও রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও নিজ ভিটেমাটি ফেরত দেওয়াসহ বেশ কয়েক দফা দাবি-দাওয়া দিয়েছে। মিয়ানমার সরকার অন্তত নাগরিকত্ব ও পুরনো ভিটেবাড়ি ফিরিয়ে দিলে সব রোহিঙ্গা একযোগে ফিরে যাওয়ার কথাও বলছে রোহিঙ্গারা।

আজকের প্রত্যাবাসন সফল হবে কিনা তা নিয়ে কক্সবাজারের মানুষ বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফবাসী সন্দিহান। এজন্য তারা চরম ক্ষুব্ধও। তাই যে কোনো মূল্যে প্রত্যাবাসন শুরু করা দরকার। তবে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তাদের রাজি করানো কঠিন হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ-/এমএ