০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রাজবাড়ীতে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা আটক

রাজবাড়ীতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে শাখাওয়াত হোসেন সোহান নামে এক যুবককে আটক করে থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে রাজবাড়ী বাজারের ডিউক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করে স্থানীয়রা। সোহান রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর এলাকার নুরু’র ছেলে।

ডিউক এন্টারপ্রাইজের মালিক রইচ উদ্দিন ডিউক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আমার মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে নিজের নাম ঠিকানা গোপন রেখে এক ব্যক্তি দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ টাকা না দিলে ওই ব্যক্তি আমাকে হত্যার হুমকিও দেয়। শাখাওয়াত হোসেন সোহান আমার পূর্ব পরিচিত এবং তাকে আমি ভাগ্নে বলে সম্বোধন করি।

তিনি আরো বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সোহান আমার দোকানে এসে বলে, মামা আপনার ম্যানেজারের মোটরসাইকেলে যে হেলমেটটি রয়েছে সেটি নিয়ে একটু ফাঁকে আসেন, ওই হেলমেটের মধ্যে হেরোইন আছে। আমাদের চারপাশে সিভিল পুলিশ আছে, এখানে খুললে ঝামেলা হবে। আমি তার কথামতো হেলমেটটি একটু আড়ালে নিয়ে দেখি তার মধ্যে সত্যিই হেরোইন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোহানের বাড়ির এলাকায় রয়েছে রাজবাড়ী সদর ফাঁড়ি। সে কারণে ওই ফাঁড়ির কিছু পুলিশের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। মাঝে মধ্যে সোহানকে ওই ফাঁড়ীর পুলিশের সাথে বিভিন্ন স্থানে মোটর সাইকেল চালকদের কাগজপত্র চেকিং করতে দেখা যেত এবং যেসব মোটর সাইকেলের কাগজপত্র নেই তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মোটর সাইকেলগুলো ছেড়ে দিতো। সোহান নিজেই বিভিন্ন মোটর সাইকেল সংকেত দিয়ে থামাতেন এবং পুলিশ চেকিং করতো। এছাড়াও সে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো।
সোহান আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন সে পুলিশের এএসআই পদে চাকরি করে। সে তার নিজ নামে বাংলাদেশ পুলিশের ‘এএসআই’ এর একটি ভিজিডিং কার্ডও দেখান। যে কারণে আমি সোহানকে চাঁদা দাবির ঘটনা খুলে বলি। ঘটনা শুনে সোহান আমাকে বলে মামা সমস্যা নেই আমি বিষয়টি দেখছি। এর দু’একদিন পর সোহান আমাকে বলে, মামা আমি বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছি। রাজবাড়ী থানার একজন এএসআইকে বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। এরপর আমি সোহানকে দুই হাজার টাকা দেই।

রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ তারিক কামাল জানান, অভিযুক্ত সোহান পুলিশে চাকরি করে না। তারপরও তার কাছ থেকে নিজ নামীয় পুলিশের ভিজিডিং কাড পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও হয়রানীর মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উর্পাজন করতো। বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

রাজবাড়ীতে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা আটক

প্রকাশিত : ০৪:১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

রাজবাড়ীতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে শাখাওয়াত হোসেন সোহান নামে এক যুবককে আটক করে থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে রাজবাড়ী বাজারের ডিউক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করে স্থানীয়রা। সোহান রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর এলাকার নুরু’র ছেলে।

ডিউক এন্টারপ্রাইজের মালিক রইচ উদ্দিন ডিউক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আমার মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে নিজের নাম ঠিকানা গোপন রেখে এক ব্যক্তি দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ টাকা না দিলে ওই ব্যক্তি আমাকে হত্যার হুমকিও দেয়। শাখাওয়াত হোসেন সোহান আমার পূর্ব পরিচিত এবং তাকে আমি ভাগ্নে বলে সম্বোধন করি।

তিনি আরো বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সোহান আমার দোকানে এসে বলে, মামা আপনার ম্যানেজারের মোটরসাইকেলে যে হেলমেটটি রয়েছে সেটি নিয়ে একটু ফাঁকে আসেন, ওই হেলমেটের মধ্যে হেরোইন আছে। আমাদের চারপাশে সিভিল পুলিশ আছে, এখানে খুললে ঝামেলা হবে। আমি তার কথামতো হেলমেটটি একটু আড়ালে নিয়ে দেখি তার মধ্যে সত্যিই হেরোইন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোহানের বাড়ির এলাকায় রয়েছে রাজবাড়ী সদর ফাঁড়ি। সে কারণে ওই ফাঁড়ির কিছু পুলিশের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। মাঝে মধ্যে সোহানকে ওই ফাঁড়ীর পুলিশের সাথে বিভিন্ন স্থানে মোটর সাইকেল চালকদের কাগজপত্র চেকিং করতে দেখা যেত এবং যেসব মোটর সাইকেলের কাগজপত্র নেই তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মোটর সাইকেলগুলো ছেড়ে দিতো। সোহান নিজেই বিভিন্ন মোটর সাইকেল সংকেত দিয়ে থামাতেন এবং পুলিশ চেকিং করতো। এছাড়াও সে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো।
সোহান আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন সে পুলিশের এএসআই পদে চাকরি করে। সে তার নিজ নামে বাংলাদেশ পুলিশের ‘এএসআই’ এর একটি ভিজিডিং কার্ডও দেখান। যে কারণে আমি সোহানকে চাঁদা দাবির ঘটনা খুলে বলি। ঘটনা শুনে সোহান আমাকে বলে মামা সমস্যা নেই আমি বিষয়টি দেখছি। এর দু’একদিন পর সোহান আমাকে বলে, মামা আমি বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছি। রাজবাড়ী থানার একজন এএসআইকে বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। এরপর আমি সোহানকে দুই হাজার টাকা দেই।

রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ তারিক কামাল জানান, অভিযুক্ত সোহান পুলিশে চাকরি করে না। তারপরও তার কাছ থেকে নিজ নামীয় পুলিশের ভিজিডিং কাড পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও হয়রানীর মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উর্পাজন করতো। বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।