ঈদের পর এক সপ্তাহ ধরে চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের আমদানি অনেক বেড়েছে। দামও কিছুটা কমেছে। তবে খুচরা বাজারের চেয়ে পাইকারি দরে যারা কিনছেন তারা লাভবান হচ্ছেন।
বর্তমানে চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের আমদানি বেশি পরিমাণে হওয়ায় রাতের বেলাও জমজমাট হয়ে উঠেছে পাইকারি বাজার। দুই-তিন দিন চাঁদপুর মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজী মালেক খন্দকার, আ. রব চোকদার ও কুদ্দুছ খাঁর আড়তে প্রচুর ইলিশের স্তূপ। ১৪ থেকে ১৬ হাজার, ২১-২২ হাজার থেকে ৩৯ হাজার টাকা মণ দরে তিন সাইজের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
সন্ধ্যার সময় আ. গফুর জমাদার ও ইউসুফ বন্দুকশীর আড়তেও প্রচুর ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এ ইলিশের সবই নামার (সাগর উপকূলীয় এলাকার) ইলিশ বলে পরিচিত। হাতিয়া থেকে অধিকাংশ ইলিশ আনা হচ্ছে এখানে। ভরা মৌসুমে লোকাল নদ-নদীতে (পদ্মা-মেঘনায়) ইলিশের তেমন দেখা না মিললেও জেলেরা সাগরে প্রচুর ইলিশ পাচ্ছে।
হাতিয়ার ইলিশ বেপারি ও ফিশিং বোটের লোকজন জানায়, ঈদের আগে ইলিশ পাওয়া গেছে কম। ঈদের পর দুই-তিন দিন বাতাস পেয়ে সাগর জেগে উঠায় আবারও ইলিশ পাচ্ছেন তারা। সেই ইলিশ কেউ ঝুড়িতে করে সড়কযোগে আবার অনেকে সমুদ্রের জেলে বোটে বোঝাই করে চাঁদপুর ঘাটে নিয়ে আসছে। সোমবার তিন থেকে চারটি ইলিশ ভর্তি ট্রলার চাঁদপুর মাছঘাটে আসে। পাশাপাশি পিকআপ বোঝাই হয়ে এসেছে আরও ক’টি গাড়ি। ইলিশের ব্যাপক আমদানি সত্ত্বেও চাঁদপুরের বাজারে কমছে না ইলিশের দাম।
এখনও এক কেজি ইলিশ ৯০০ থেকে হাজার টাকা। অন্যান্য সাইজের ইলিশের কেজি ৫০০ টাকার ওপরে। সাধারণ মানুষ ভরা মৌসুমেও এত দাম দিয়ে ইলিশ খেতে পারছে না। ঘাটের আড়তদার ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারি বলেন, ইলিশের দাম আগের চেয়ে বর্তমানে অনেকটা কম। তিন-চারজন মিলে পাইকারি দরে মাছ কিনলে ক্রেতার লাভ হয়।
সূত্র জানায়, আড়তদারদের দাদনের ইলিশ হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে চাঁদপুরের ইলিশের বাজার। এখানে ক্রয়-বিক্রয় হওয়া বিপুল পরিমাণ ইলিশ অন্যত্র চালান হয়ে যায়। রফতানি নিষেধ থাকলেও কৌশলে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জায়গা দিয়ে এখান থেকে ইলিশ ভারতে পাচার হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়। তবে এ কথা মানতে নারাজ স্থানীয় ইলিশ চালানিরা। তাদের মতে, দেশের অভ্যন্তরেই তারা বিভিন্ন মোকামে ইলিশ চালান করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম





















