০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ

এখন ভাদ্র, ইলিশের ভরা মৌসুমের শেষ মাস। অথচ লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ। তাই জমে ওঠেনি জেলার ঘাট ও হাট-বাজার।

অথচ প্রতিবছর এসময় জেলেরা নদী থেকে ঝুড়ি ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতেন। আড়তে মাছ রাখতেই শুরু হতো হাঁক-ডাক। ক্রয়-বিক্রয়ে সরগরম থাকত ঘাট ও বাজারগুলো।

প্রত্যাশিত ইলিশ না পাওয়ার জন্য ডুবোচরকে দুষছেন জেলেরা। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, মাসটির শেষ দিকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র। এই তিন মাসকে ইলিশের ভরা মৌসুম বলা হয়ে থাকে। এ সময়টাই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির সময়। দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফলে সমুদ্র থেকে নদীতে নেমে আসে প্রচুর ইলিশ মাছ। জেলেদের জালে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। যার ফলে হাট-বাজার গুলোতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায় এবং দামও সস্তা থাকে।

অথচ এবার লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের মজু চৌধুরী হাট, কমলনগরের মতির হাট, রামগতির আলেকজান্ডার ঘাট, রায়পুরের হাজিমারা ঘাটসহ যেসব ঘাটে ইলিশের বড় আড়ৎ রয়েছে সেসব ঘাট এখনও জমে ওঠেনি। কারণ, যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তা প্রত্যাশার তুলনায় খুবই কম। এ নিয়ে স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদাররা হতাশা প্রকাশ করছেন।

রায়পুরের হাজিমারা মাছ ঘাটের ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘বাজারে ইলিশের দাম চড়া। তাই হাজিমারা মাছ ঘাটে ইলিশ কিনতে এসেছি। কিন্তু এখানেও দাম কম নয়। প্রায় সাড়ে ৩ কেজি ওজনের ৫টি ইলিশ মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা।’

মজু চৌধুরী হাট এলাকার জেলে মো. কামাল মাঝি বলেন, ‘আমরা ৪জন জেলে সারাদিন নদীতে জাল ফেলে যা ইলিশ পেয়েছি, তা মাত্র ৮শ’ টাকার। প্রায়ই এমন হয়। অথচ আগে এসময় আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়তো।’

অন্য এক জেলে জানান, বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর থাকায় এখানকার মেঘনায় সাগর থেকে মাছ আসছে না। তাইতো কাঙ্খিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অন্যান্য জেলায় জেলেরা এসময় প্রচুর পরিমানে ইলিশ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আড়ৎদার বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘এখনও প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে না। যার কারণে ইলিশের দাম এখনও কমেনি। ছোট ইলিশ প্রতি কেজির দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। বড় ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১২শ’ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে আড়ৎ গুলোতে দিনে যা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার দাম গড়ে ৩০-৪০ হাজার টাকার বেশি নয়।’

এবছর সর্বোচ্চ দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যাহ বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, ‘ডুবোচর নয়, এবছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ নামেনি। যে কারণে ভরা মৌসুমেও ইলিশের এই সংকট। এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও রয়েছে।‘

তবে এ মৌসুমের শেষ দিকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

 

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ

প্রকাশিত : ০৩:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯

এখন ভাদ্র, ইলিশের ভরা মৌসুমের শেষ মাস। অথচ লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ। তাই জমে ওঠেনি জেলার ঘাট ও হাট-বাজার।

অথচ প্রতিবছর এসময় জেলেরা নদী থেকে ঝুড়ি ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতেন। আড়তে মাছ রাখতেই শুরু হতো হাঁক-ডাক। ক্রয়-বিক্রয়ে সরগরম থাকত ঘাট ও বাজারগুলো।

প্রত্যাশিত ইলিশ না পাওয়ার জন্য ডুবোচরকে দুষছেন জেলেরা। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, মাসটির শেষ দিকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র। এই তিন মাসকে ইলিশের ভরা মৌসুম বলা হয়ে থাকে। এ সময়টাই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির সময়। দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফলে সমুদ্র থেকে নদীতে নেমে আসে প্রচুর ইলিশ মাছ। জেলেদের জালে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। যার ফলে হাট-বাজার গুলোতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায় এবং দামও সস্তা থাকে।

অথচ এবার লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের মজু চৌধুরী হাট, কমলনগরের মতির হাট, রামগতির আলেকজান্ডার ঘাট, রায়পুরের হাজিমারা ঘাটসহ যেসব ঘাটে ইলিশের বড় আড়ৎ রয়েছে সেসব ঘাট এখনও জমে ওঠেনি। কারণ, যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তা প্রত্যাশার তুলনায় খুবই কম। এ নিয়ে স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদাররা হতাশা প্রকাশ করছেন।

রায়পুরের হাজিমারা মাছ ঘাটের ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘বাজারে ইলিশের দাম চড়া। তাই হাজিমারা মাছ ঘাটে ইলিশ কিনতে এসেছি। কিন্তু এখানেও দাম কম নয়। প্রায় সাড়ে ৩ কেজি ওজনের ৫টি ইলিশ মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা।’

মজু চৌধুরী হাট এলাকার জেলে মো. কামাল মাঝি বলেন, ‘আমরা ৪জন জেলে সারাদিন নদীতে জাল ফেলে যা ইলিশ পেয়েছি, তা মাত্র ৮শ’ টাকার। প্রায়ই এমন হয়। অথচ আগে এসময় আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়তো।’

অন্য এক জেলে জানান, বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর থাকায় এখানকার মেঘনায় সাগর থেকে মাছ আসছে না। তাইতো কাঙ্খিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অন্যান্য জেলায় জেলেরা এসময় প্রচুর পরিমানে ইলিশ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আড়ৎদার বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘এখনও প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে না। যার কারণে ইলিশের দাম এখনও কমেনি। ছোট ইলিশ প্রতি কেজির দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। বড় ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১২শ’ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে আড়ৎ গুলোতে দিনে যা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার দাম গড়ে ৩০-৪০ হাজার টাকার বেশি নয়।’

এবছর সর্বোচ্চ দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যাহ বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, ‘ডুবোচর নয়, এবছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ নামেনি। যে কারণে ভরা মৌসুমেও ইলিশের এই সংকট। এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও রয়েছে।‘

তবে এ মৌসুমের শেষ দিকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

 

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম