১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

প্রথম চান্সেই বিসিএস ক্যাডার : সফলতার ভিত গড়েছেন মা

হাজী মোহাম্মদ

পৃথিবীর সব সন্তানের কাছেই তার মা সেরা। আমার মা সেরার সেরা। আজ আমি যে পর্যায়ে এসেছি তার পিছনে আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। মা আমার জন্য যে কষ্ট করেছেন তা কোনো কিছু দিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন, অসুস্থতায় মায়ের মমতায় সুস্থ করেছেন, রাত জেগে পড়াশোনা করিয়েছেন।

এখনও পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার কথা খুব মনে পড়ে। আমি ওই পরীক্ষায় টেলেন্টপুলে প্রথম স্থান অধিকার করি। এই ফলাফলের শতভাগ কৃতিত্বই আমার মায়ের। সারা বছর নিজে পড়ার টেবিলে বসে প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে আমাকে পড়াতেন। মা আমাকে এমনভাবে পড়াতেন যে, আমার সঙ্গে সঙ্গে পুরো লেসন মায়েরও মুখস্থ হয়ে যেত। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা শেষে মা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিজে নিজে বলতেন। আমি মিলিয়ে দেখতাম মায়ের উত্তরের সঙ্গে মিলিয়ে লিখতে পেরেছি কিনা।

গর্ব করার মতো আমার মায়ের নাম রিনা বেগম যিনি আমার দীর্ঘ ছাত্র জীবনের একটি শক্ত ফাউন্ডেশন তৈরি করে দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে মা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। মায়ের কথামতো আমি ওই বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেই। আল্লাহর রহমতে ও মায়ের দোয়ায় আমি আমার জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষাতেই (৩১তম বিসিএস) মেধা কোটায় বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে নির্বাচিত হই।

মা সবসময় নামাজ পড়ে দোয়া করতেন যেন আমি বিসিএস ক্যাডার হতে পারি। আমার বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার দিন মা ভোর রাত থেকে নামাজ পড়ে প্রার্থনায় বসেন এবং পুরো ভাইভার সময়টাতেই তিনি প্রার্থনায় থাকেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি- মায়ের দোয়াতেই আমার ভাইভা পরীক্ষা খুব ভালো হয় এবং আমি বিসিএস পুলিশের মতো একটি সম্মানজনক ক্যাডার পাই।

পরবর্তীতে সারদার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণে গেলে আমার মা আমাকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তা করতেন। প্রতিদিন রাতে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হতো। শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য এই প্রশিক্ষণ আমি যেন কোনো ধরনের ইনজুরি ছাড়াই শেষ করতে পারি তাই ছিল ওই এক বছরে আমার মায়ের একমাত্র কামনা।

এখনো হরতাল-অবরোধে ডিউটি করার সময় মা মুঠোফোনে খোঁজ-খবর নেন। খুব সাবধানে ডিউটি করতে বলেন। আমার ডিউটি নিয়ে আমার থেকে আমার মায়ের টেনশনই বেশি থাকে। মাস শেষে মায়ের কাছে টাকা পাঠাতে গেলে মা নিতে চান না এই ভেবে যে, যদি আমার পুরো মাস চলতে কষ্ট হয়। আমার মায়ের ঋণ কোন দিনই আমার পক্ষে শোধ করা সম্ভব নয়। শুধু একটাই চাওয়া- আল্লাহ যেন আমার মাকে দীর্ঘজীবী করেন।

লেখক: সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতয়ালী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা ২টি বাস পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে বাস মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মত চলছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

শুক্রবার সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা শহরের প্রবেশ পথগুলোতে পিকেটিং শুরু করে। বেশ কিছু ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ভাংচুর করে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শহরের মহারাজা মোড়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একটি বাসকে সাইড না দেয়ায় যাত্রীবাহী বাসের হেলপার ও চালকের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এসময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন ছাত্র ও ২ জন শ্রমিক আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শ্রমিকদের হাতে ছাত্র পেটানোর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এরপর ছাত্ররা ক্যাম্পাসের সামনে দিনাজপুর-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে জড়ো হয়ে যাত্রীবাহী বাস তৃপ্তি পরিবহন ও শাহী পরিবহনে আগুন দিলে বাস ২টির ক্ষতি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে জনসাধারণ।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে তার সম্মেলন কক্ষে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৈঠক করলেও কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সভা সমাপ্ত হয়।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, ৩ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

প্রথম চান্সেই বিসিএস ক্যাডার : সফলতার ভিত গড়েছেন মা

প্রকাশিত : ১২:১৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

হাজী মোহাম্মদ

পৃথিবীর সব সন্তানের কাছেই তার মা সেরা। আমার মা সেরার সেরা। আজ আমি যে পর্যায়ে এসেছি তার পিছনে আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। মা আমার জন্য যে কষ্ট করেছেন তা কোনো কিছু দিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন, অসুস্থতায় মায়ের মমতায় সুস্থ করেছেন, রাত জেগে পড়াশোনা করিয়েছেন।

এখনও পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার কথা খুব মনে পড়ে। আমি ওই পরীক্ষায় টেলেন্টপুলে প্রথম স্থান অধিকার করি। এই ফলাফলের শতভাগ কৃতিত্বই আমার মায়ের। সারা বছর নিজে পড়ার টেবিলে বসে প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে আমাকে পড়াতেন। মা আমাকে এমনভাবে পড়াতেন যে, আমার সঙ্গে সঙ্গে পুরো লেসন মায়েরও মুখস্থ হয়ে যেত। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা শেষে মা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিজে নিজে বলতেন। আমি মিলিয়ে দেখতাম মায়ের উত্তরের সঙ্গে মিলিয়ে লিখতে পেরেছি কিনা।

গর্ব করার মতো আমার মায়ের নাম রিনা বেগম যিনি আমার দীর্ঘ ছাত্র জীবনের একটি শক্ত ফাউন্ডেশন তৈরি করে দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে মা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। মায়ের কথামতো আমি ওই বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেই। আল্লাহর রহমতে ও মায়ের দোয়ায় আমি আমার জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষাতেই (৩১তম বিসিএস) মেধা কোটায় বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে নির্বাচিত হই।

মা সবসময় নামাজ পড়ে দোয়া করতেন যেন আমি বিসিএস ক্যাডার হতে পারি। আমার বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার দিন মা ভোর রাত থেকে নামাজ পড়ে প্রার্থনায় বসেন এবং পুরো ভাইভার সময়টাতেই তিনি প্রার্থনায় থাকেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি- মায়ের দোয়াতেই আমার ভাইভা পরীক্ষা খুব ভালো হয় এবং আমি বিসিএস পুলিশের মতো একটি সম্মানজনক ক্যাডার পাই।

পরবর্তীতে সারদার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণে গেলে আমার মা আমাকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তা করতেন। প্রতিদিন রাতে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হতো। শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য এই প্রশিক্ষণ আমি যেন কোনো ধরনের ইনজুরি ছাড়াই শেষ করতে পারি তাই ছিল ওই এক বছরে আমার মায়ের একমাত্র কামনা।

এখনো হরতাল-অবরোধে ডিউটি করার সময় মা মুঠোফোনে খোঁজ-খবর নেন। খুব সাবধানে ডিউটি করতে বলেন। আমার ডিউটি নিয়ে আমার থেকে আমার মায়ের টেনশনই বেশি থাকে। মাস শেষে মায়ের কাছে টাকা পাঠাতে গেলে মা নিতে চান না এই ভেবে যে, যদি আমার পুরো মাস চলতে কষ্ট হয়। আমার মায়ের ঋণ কোন দিনই আমার পক্ষে শোধ করা সম্ভব নয়। শুধু একটাই চাওয়া- আল্লাহ যেন আমার মাকে দীর্ঘজীবী করেন।

লেখক: সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতয়ালী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা ২টি বাস পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে বাস মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মত চলছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

শুক্রবার সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা শহরের প্রবেশ পথগুলোতে পিকেটিং শুরু করে। বেশ কিছু ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ভাংচুর করে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শহরের মহারাজা মোড়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একটি বাসকে সাইড না দেয়ায় যাত্রীবাহী বাসের হেলপার ও চালকের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এসময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন ছাত্র ও ২ জন শ্রমিক আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শ্রমিকদের হাতে ছাত্র পেটানোর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এরপর ছাত্ররা ক্যাম্পাসের সামনে দিনাজপুর-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে জড়ো হয়ে যাত্রীবাহী বাস তৃপ্তি পরিবহন ও শাহী পরিবহনে আগুন দিলে বাস ২টির ক্ষতি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে জনসাধারণ।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে তার সম্মেলন কক্ষে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৈঠক করলেও কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সভা সমাপ্ত হয়।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, ৩ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।