মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজীতে ৩০ হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর। এ শিল্পাঞ্চলে ২৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।
গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুতও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক চাহিদা নিশ্চিতে একটি ২০০ মিলিমিটার ঘনফুটের সিজিএস ও ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের দুটি ডিআরএস বসিয়েছে কেজিডিসিএল। প্রাথমিকভাবে গ্যাসের ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট ব্যবহার হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, বাকিটা যাবে কারখানায়। শিল্পনগর পুরোদমে চালু হলে গ্যাসের চাহিদা হবে সাড়ে ৭শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। কর্তৃপক্ষের আশা, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহে তাদের কোনো সমস্যা হবে না। এর আগে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগাহাট এলাকার মূল সরবরাহ লাইন থেকে মিরসরাই ইকোনমিক জোন পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শেষ করে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২৮৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। নির্মিত পাইপলাইন দিয়ে অর্থনৈতিক জোনটিতে দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
এছাড়া অর্থনৈতিক জোনটিতে নির্মাণাধীন মীরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজও শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে গ্যাস সংযোগের জন্য ইতোমধ্যে কেজিডিসিএল’র কাছে আবেদন করেছে বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড। অন্যদিকে জুজু জিনুয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানও গ্যাস সংযোগ দেওয়ার আবেদন করেছে। ‘কন্সট্রাকশন অব গ্যাস পাইপলাইন ফর মিরসরাই ইকোনমিক জোন’ এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আ ন ম সালেহ বলেন, পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ করে ৩০ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ উদ্বোধন করা হয়েছে। সীতাকুণ্ডের বড় দারোগাহাট গ্যাস লাইন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটারে এ পাইপলাইন বসানো হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য আলাপ-আলোচনা চলছে। ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বৃহৎ ইকোনমিক জোনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ভূমি অধিগ্রহণসহ নানান প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে শুরু হয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের হিসেবে, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রস্তাব এক হাজার ২৩৯ কোটি ডলারের। এখানে জমি নিয়েছে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান। মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি নিয়েছে ২টি প্রতিষ্ঠান। তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ ২৪৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের পুরো জমি নিয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। তাদের মোট বিনিয়োগ প্রস্তাব ১৩১ কোটি ডলার।
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, শিল্প কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার জন্যই দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হয়েছে।






















