০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জিতের ৩৬তম জন্মদিন আজ

ভারতের বিশেষত পশ্চিম বাংলা ছবির এই সময়ের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার জিৎ। তিনি একজন বিখ্যাত অভিনেতা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বহু হিট ও ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন এই অভিনেতা। জিৎ মানেই একটা ফ্রেশনেস। আজ তার ৩৬তম জন্মদিন।

তার এই শুভ দিনে ‘আজকের বিজনেস বাংলাদেশ’র পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো শুভকামনা। শুভ জন্মদিন জিৎ।

জিৎ প্রাথমিক জীবন শুরু করেন, সেন্ট জোসেফ এন্ড মারি স্কুলে, নিউ আলিপুর ও পরে ন্যাশনাল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-কতৃক পরিচালিত ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজ হতে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। এরপর তিনি তার পরিবারের ব্যবসায় দেখাশোনার কাজে যোগদেন। তবে সৃজনশীল কাজের প্রতি তার বরাবরই উৎসাহ ছিল।

মাঝেমধ্যে তিনি বিখ্যাত অভিনেতাদের অভিনয় অনুকরন করার চেষ্টা করতেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সিরিয়ালে অভিনয় করেন যেমন. বিষবৃক্ষ-এ তারাচরণ চরিত্রে, জননী-এ অনিল চরিত্রে সহ আরো কিছু সিরিয়ালে অভিনয় করেন। তিনি কলকাতার বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজকদের সাথে দেখা করেন। এরপর তিনি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার নামক এক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হন।

এই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন ইংরেজি নাটকে অভিনয় করেন যেমন. আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান, ম্যান অ্যাট দ্য ফ্লোর। তারপর মুম্বাতে গিয়ে এক তেলেগু ছবিতে অভিনয় করেন। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির নাম ছিল চাঁদু এবং পরিচালক ছিল দক্ষিণ ভারতীয়। তবে এই ছবিটি তাকে তেমন কোন পরিচয় এনে দিতে পারল না, যা তিনি আশা করেছিলেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে তিনি আবার কলকাতায় আসেন এবং পরিচালক হারানাথ চক্রবর্তীর কাছ থেকে দেখা করার প্রস্তাব পান এন.টি.ওয়ান. স্টুডিওতে। তার কাছ থেকে তিনি ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাথী ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান এবং এই ছবির দৃশ্যায়ন শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি, ২০০২ থেকে। এই ছবি জিৎকে বাংলা ছবির জগতে এক বিশেষ স্থান করে দেয়।

তার স্বাভাবিক কিন্তু ভাষাসমৃদ্ধ অভিনয় দ্রুতই তাকে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে দেয়। যদিও তিনি রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন, ক্রমশ তিনি একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৫ সালে থামস্‌ আপ-এর এক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে তিনি আরো সুপরিচিত হন। তার অভিনীত ১০০% লাভ ছবিতে প্রযোজনার মাধ্যমে ২০১২ সালে তিনি একজন সফল প্রযোজক হিসেবে সমাদৃত হন।

তার পরের ছবি আওয়ারা আগের অনেক রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড করে। এর মধ্যে শ্রাবন্তীর বিপরীতে অভিনীত দিওয়ানা এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বিপরীতে অভিনীত বস ছবি বেশ উল্লেখযোগ্য। বস ছবিটি ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মহেশ বাবুর পরিচালিত ব্লকবাস্টার তেলেগু ছবি বিজন্যাসম্যান ছবির পুনর্নির্মান। এই ছবিটি বাবা যাদব এর পরিচালনা ও রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট- এর প্রযোজনায় মুক্তি পায়।

তিনি স্টার জলসা পরিবার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন, টিভি শো কোটি টাকার বাজি রিয়েলিটি শো-এ সঞ্চালক হওয়ার জন্য। তিনি টলিউডের সর্বোচ্চ হিট ছবিতে অভিনয়ের গৌরব অর্জন করেন। ঐ ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবি হলঃ সাথী, জোশ, শত্রু, দুই পৃথিবী, ফাইটার, ১০০% লাভ, এবং ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রেকর্ড করা ছবি আওয়ারা। এরপর এবছরে তিনি ‘বস টু’, ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ ব তিনি ২০১২ সালের আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড পান এই আওয়ারা ছবিতে অভিনয়ের জন্য। বর্তমানে তিনি বাংলা ছবির অন্যতম সুপারস্টার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

“বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যই বাংলাদেশের শক্তি” :উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

জিতের ৩৬তম জন্মদিন আজ

প্রকাশিত : ০৩:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

ভারতের বিশেষত পশ্চিম বাংলা ছবির এই সময়ের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার জিৎ। তিনি একজন বিখ্যাত অভিনেতা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বহু হিট ও ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন এই অভিনেতা। জিৎ মানেই একটা ফ্রেশনেস। আজ তার ৩৬তম জন্মদিন।

তার এই শুভ দিনে ‘আজকের বিজনেস বাংলাদেশ’র পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো শুভকামনা। শুভ জন্মদিন জিৎ।

জিৎ প্রাথমিক জীবন শুরু করেন, সেন্ট জোসেফ এন্ড মারি স্কুলে, নিউ আলিপুর ও পরে ন্যাশনাল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-কতৃক পরিচালিত ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজ হতে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। এরপর তিনি তার পরিবারের ব্যবসায় দেখাশোনার কাজে যোগদেন। তবে সৃজনশীল কাজের প্রতি তার বরাবরই উৎসাহ ছিল।

মাঝেমধ্যে তিনি বিখ্যাত অভিনেতাদের অভিনয় অনুকরন করার চেষ্টা করতেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সিরিয়ালে অভিনয় করেন যেমন. বিষবৃক্ষ-এ তারাচরণ চরিত্রে, জননী-এ অনিল চরিত্রে সহ আরো কিছু সিরিয়ালে অভিনয় করেন। তিনি কলকাতার বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজকদের সাথে দেখা করেন। এরপর তিনি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার নামক এক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হন।

এই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন ইংরেজি নাটকে অভিনয় করেন যেমন. আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান, ম্যান অ্যাট দ্য ফ্লোর। তারপর মুম্বাতে গিয়ে এক তেলেগু ছবিতে অভিনয় করেন। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির নাম ছিল চাঁদু এবং পরিচালক ছিল দক্ষিণ ভারতীয়। তবে এই ছবিটি তাকে তেমন কোন পরিচয় এনে দিতে পারল না, যা তিনি আশা করেছিলেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে তিনি আবার কলকাতায় আসেন এবং পরিচালক হারানাথ চক্রবর্তীর কাছ থেকে দেখা করার প্রস্তাব পান এন.টি.ওয়ান. স্টুডিওতে। তার কাছ থেকে তিনি ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাথী ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান এবং এই ছবির দৃশ্যায়ন শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি, ২০০২ থেকে। এই ছবি জিৎকে বাংলা ছবির জগতে এক বিশেষ স্থান করে দেয়।

তার স্বাভাবিক কিন্তু ভাষাসমৃদ্ধ অভিনয় দ্রুতই তাকে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে দেয়। যদিও তিনি রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন, ক্রমশ তিনি একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৫ সালে থামস্‌ আপ-এর এক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে তিনি আরো সুপরিচিত হন। তার অভিনীত ১০০% লাভ ছবিতে প্রযোজনার মাধ্যমে ২০১২ সালে তিনি একজন সফল প্রযোজক হিসেবে সমাদৃত হন।

তার পরের ছবি আওয়ারা আগের অনেক রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড করে। এর মধ্যে শ্রাবন্তীর বিপরীতে অভিনীত দিওয়ানা এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বিপরীতে অভিনীত বস ছবি বেশ উল্লেখযোগ্য। বস ছবিটি ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মহেশ বাবুর পরিচালিত ব্লকবাস্টার তেলেগু ছবি বিজন্যাসম্যান ছবির পুনর্নির্মান। এই ছবিটি বাবা যাদব এর পরিচালনা ও রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট- এর প্রযোজনায় মুক্তি পায়।

তিনি স্টার জলসা পরিবার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন, টিভি শো কোটি টাকার বাজি রিয়েলিটি শো-এ সঞ্চালক হওয়ার জন্য। তিনি টলিউডের সর্বোচ্চ হিট ছবিতে অভিনয়ের গৌরব অর্জন করেন। ঐ ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবি হলঃ সাথী, জোশ, শত্রু, দুই পৃথিবী, ফাইটার, ১০০% লাভ, এবং ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রেকর্ড করা ছবি আওয়ারা। এরপর এবছরে তিনি ‘বস টু’, ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ ব তিনি ২০১২ সালের আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড পান এই আওয়ারা ছবিতে অভিনয়ের জন্য। বর্তমানে তিনি বাংলা ছবির অন্যতম সুপারস্টার।