সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ঝিনাইদহে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে সংবাদ করেছেন দুই ভাইবোন। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন সদর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের মেয়ে লিমা খাতুন ও ছেলে ইকরামুল।
সেসময় অভিযোগ করা হয় আব্দুল মোত্তালেব অসৎ চরিত্রের হওয়ায় ২০১৬ সালে তার পিতা আজিজুল হক নাতি ইকরামুলের নামে ২ একর ৫ শতাংশ ও ২০১৭ সালে নাতনী লিমা খাতুনের নামে ২৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে ওই জমি ভোগদখল করে আব্দুল মোত্তালেব। কিছুদিন আগে ছেলে ও মেয়েকে না জানিয়ে বন্দক রেখেছে। সেই জমিতে এখন আর যেতে পারছেন না ছেলে ও মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়ে লিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার পিতা আব্দুল মোতালেব, চাচা আবু বক্কর ওরফে বাক্কা এবং সৎ দাদা জাহিদুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবারকে জমিজমা নিয়ে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার করে আসছেন। তিনি জানান, তার মা জীবিত থাকাকালে পিতা একাধিক বিয়ে করেন, যা নিয়ে পরিবারে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। তারা মোট পাঁচ ভাই-বোন, যার মধ্যে বড় ভাই ইকরামুল ইসলাম বিজিবি সদস্য হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত। তিনি নিজে ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে চাকরির চেষ্টা করছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, পিতার বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা- ও একাধিক বিয়ের কারণে পারিবারিক জীবনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
ছেলে ইকরামুল অভিযোগ করেন করেন, বাড়ির পাশের এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ধরা পড়ায় পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয় এবং সেই মামলা মীমাংসার অজুহাতে দাদার রেখে যাওয়া জমি কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের মোজাম নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ঝিনাইদহের কাঞ্চনপুর এলাকায় আবারও অন্য এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে স্থানীয়দের চাপে তাকে বিয়ে করানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। ওই নারীর পূর্বে একাধিক বিয়ে ও সন্তান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে আসার পর নিজস্ব বাড়িতে গেলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমি ও আমার ছোট শিশু সন্তান গুরুতর আহত হয়ে কয়েকদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম।
এছাড়া তিনি জানান, তার ফুফু জোসনা খাতুনের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিও জোরপূর্বক বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ঝিনাইদহ আদালতে বণ্টননামা মামলা করেছেন এবং তিনি আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে তার বড় ভাবিও উপস্থিত থেকে পারিবারিক নির্যাতন ও বঞ্চনার বিষয়গুলো সমর্থন করেন বলে জানান লিমা খাতুন।
নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা, ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
ডিএস./



















