যুক্তরাজ্যে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দেশটিতে তৃতীয় দফা সাধারণ নির্বাচন। ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নে প্রায় তিন বছর ধরে পার্লামেন্টে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্যই গত দু’বছরের মধ্যে দেশটিতে এ নিয়ে তৃতীয় দফা ভোট হতে চলেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করবে। একই আশা করছে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। আর ব্রেক্সিটের পরিবর্তে তাদের নানা ধরনেরর রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক কর্মসূচিকেই তাদের প্রচারণায় প্রাধান্য দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা) থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। নির্ধারিত সময়েই খুলে দেয়া হবে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্থ আয়ারল্যান্ডের ৬৫০টি ভোটকেন্দ্র খুলে দেয়া হবে। একটানা ভোট চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।
শুক্রবার সকাল নাগাদ ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে মোট বৈধ ভোটার হচ্ছেন সাড়ে ৪ কোটি। আর তাদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন হাউস অব কমন্সের সাড়ে ৬শ’ এমপি।
তবে এই নির্বাচনের পরই নির্বিঘ্নে ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কেননা ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে নজিরবিহীন তিক্ততা, বৈরিতা এবং বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এই বিভেদ দূর করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বেরিয়ে আসাটাই এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্রেক্সিট ব্রিটেনের সমাজ ও অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্রেক্সিটের বিরোধিতাকারীরা বলছেন, এর পরিণতিতে যুক্তরাজ্য ভেঙে যেতে পারে। কেননা স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে জোর জনমত আছে।
অন্য দিকে ব্রেক্সিটের প্রতিক্রিয়া পড়বে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ওপরও। অনেকের মতে ইইউর ঐক্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এক কথায় এটি গোটা ইউরোপেই অনেক সুদূর প্রসারী পরিবর্তন আসতে পারে। আর এগুলো সবই ঘটতে পারে ব্রেক্সিটের কারণে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান
























