০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুশফিক তান্ডবে দ্বিতীয় জয় পেল খুলনা টাইগার্স

একেই বলে ইট কা জবাব পাত্থার সে…। উইকেটের পিছনে থেকে শোয়েব মালিকের ব্যাটে বারংবার মাঠ ছাড়া হতে দেখেছেন নিজ দল খুলনার বোলারদের। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের একই কায়দায় মাঠ ছাড়া করছেন মুশফিকুর রহীম। তবে মাত্র ৪রানের জন্য বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরির মালিক হতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। তবে তাতে অবশ্য দলের জয় আটকায়নি। মি. ডিপেন্ডেবলের অনবদ্য ৯৬ রানে ভর করে টানা দ্বিতীয় জয় পেল খুলনা টাইগার্স।

রাজশাহী রয়ালসের দেয়া ১৯০ রানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেমে দুই বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিবিপিএল) নবম ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেটে ১৮৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ২৫ রানেই ২ উইকেট হারায় খুলনা। রাইলি রুশোর সঙ্গে ৭২ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন মুশফিক।

এরপর হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেরেন রুশো। কামুরুল ইসলাম রাব্বির বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেয়ার আগে ৩৫ বলে ৫টি চার আর ১ ছক্কায় ৪২ রান করেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক।

ফিফটির পরও তাণ্ডব চালিয়েছেন মুশফিক। তাকে দারুণ সমর্থন দিচ্ছেন শামসুর রহমান শুভ। দলীয় ১৫৮ রানে শুভ বিদায় নিলেও ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকেই হাঁটছিলেন মুশি।

কিন্ত আজ বোধহয় সৃষ্টিকর্তা তার সহায় ছিলেন না। ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে রবি বোপারার বলে শোয়েব মালিকের হাতে ধরা পরে ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। ৫১ বলে ৯টি চার আর ৪টি ছক্কায় ৯৬ রান করেন তিনি।

মুশফিক সাজঘরে ফিরলেও পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন রবি ফ্রাইলিংক। ততক্ষণে স্কোর বোর্ডে খুলনার পাশে ৫ উইকেটে ১৯২ রান উঠে যায়। মাত্র ৬ বলে ১টি চার আর ১টি ছক্কায় ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ফ্রাইলিংক।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি রাজশাহীর দুই ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও লিটন দাস। স্কোর বোর্ডে মাত্র ২৬ রান জমা করেন তারা। মোহাম্মদ আমিরের শিকার হওয়ার আগে মাত্র ১ রান করেন জাজাই। রবি ফ্রাইলিঙ্কের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১৬ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ১৯ রান করেন তিনি।

দ্রুত ২্ উইকেট হারানো রাজশাহীর হাল ধরেন শোয়েব মালিক ও আফিফ হোসেন। তাদের ব্যাটে চাপ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল রাজশাহী। কিন্তু দলীয় ৬৬ রানে শহিদুল ইসলামের শিকার হন আফিফ (১৯)। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন মালিক। এই পাকিস্তানিকে দারুণ সঙ্গ দেন বোপারা।

রাজশাহীর ব্যাটিং ইনিংস শেষ হওয়ার ৯ বল আগে স্বদেশি মোহাম্মদ আমিরের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন শোয়েব মালিক। তার আগে ৫০ বলে ৮ চার আর ৪ ছক্কায় ৮৭ রান করেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। শেষ দিকের ব্যাটিং ঝড়ে বোপারার সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। তাতে ১৮৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় রাজশাহী। মাত্র ২৬ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন বোপারা। ৬ বলে ১ চার আর ১ ছক্কায় ১৩ রান করেন রাসেল।

খুলনার হয়ে মোহাম্মদ আমির ২টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া শহিদুল ইসলাম ও রবি ফ্রাইলিঙ্ক ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে রাজশাহী রয়ালস। ঢাকা প্লাটুন ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ঝুলিতেও ৪ পয়েন্ট জমা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে তিনটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা।

অপরদিকে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে খুলনা টাইগার্স। সেখান থেকে পূর্ণ পয়েন্টই সংগ্রহ করেছে দলটি। দুই ম্যাচে অংশ নিয়ে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স একটিতে জয় ও একটিতে হার নিয়ে লাভ করেছে ২ পয়েন্ট।

রাজশাহী রয়ালস একাদশ : আন্দ্রে রাসেল (অধিনায়ক), হজরতউল্লাহ জাজাই, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), আফিফ হোসেন, শোয়েব মালিক, অলক কাপালি, রবি বোপারা, ফরহাদ রেজা, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি, কামরুল ইসলাম রাব্বি।

খুলনা টাইগার্স একাদশ : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), রহমানুল্লাহ গুরবাজ, শামসুর রহমান শুভ, নাজমুল হোসেন শান্ত, রাইলি রুশো, রবি ফ্রাইলিংক, মেহেদী হাসান মিরাজ, আমিনুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আমির, শহিদুল ইসলাম।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হিন্দুদের নিরাপত্তা কোনো দল নয়, রাষ্ট্র দেবে: ড. আতিক মুজাহিদ

মুশফিক তান্ডবে দ্বিতীয় জয় পেল খুলনা টাইগার্স

প্রকাশিত : ০৫:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

একেই বলে ইট কা জবাব পাত্থার সে…। উইকেটের পিছনে থেকে শোয়েব মালিকের ব্যাটে বারংবার মাঠ ছাড়া হতে দেখেছেন নিজ দল খুলনার বোলারদের। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের একই কায়দায় মাঠ ছাড়া করছেন মুশফিকুর রহীম। তবে মাত্র ৪রানের জন্য বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরির মালিক হতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। তবে তাতে অবশ্য দলের জয় আটকায়নি। মি. ডিপেন্ডেবলের অনবদ্য ৯৬ রানে ভর করে টানা দ্বিতীয় জয় পেল খুলনা টাইগার্স।

রাজশাহী রয়ালসের দেয়া ১৯০ রানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেমে দুই বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিবিপিএল) নবম ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেটে ১৮৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ২৫ রানেই ২ উইকেট হারায় খুলনা। রাইলি রুশোর সঙ্গে ৭২ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন মুশফিক।

এরপর হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেরেন রুশো। কামুরুল ইসলাম রাব্বির বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেয়ার আগে ৩৫ বলে ৫টি চার আর ১ ছক্কায় ৪২ রান করেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক।

ফিফটির পরও তাণ্ডব চালিয়েছেন মুশফিক। তাকে দারুণ সমর্থন দিচ্ছেন শামসুর রহমান শুভ। দলীয় ১৫৮ রানে শুভ বিদায় নিলেও ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকেই হাঁটছিলেন মুশি।

কিন্ত আজ বোধহয় সৃষ্টিকর্তা তার সহায় ছিলেন না। ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে রবি বোপারার বলে শোয়েব মালিকের হাতে ধরা পরে ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। ৫১ বলে ৯টি চার আর ৪টি ছক্কায় ৯৬ রান করেন তিনি।

মুশফিক সাজঘরে ফিরলেও পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন রবি ফ্রাইলিংক। ততক্ষণে স্কোর বোর্ডে খুলনার পাশে ৫ উইকেটে ১৯২ রান উঠে যায়। মাত্র ৬ বলে ১টি চার আর ১টি ছক্কায় ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ফ্রাইলিংক।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি রাজশাহীর দুই ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও লিটন দাস। স্কোর বোর্ডে মাত্র ২৬ রান জমা করেন তারা। মোহাম্মদ আমিরের শিকার হওয়ার আগে মাত্র ১ রান করেন জাজাই। রবি ফ্রাইলিঙ্কের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১৬ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ১৯ রান করেন তিনি।

দ্রুত ২্ উইকেট হারানো রাজশাহীর হাল ধরেন শোয়েব মালিক ও আফিফ হোসেন। তাদের ব্যাটে চাপ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল রাজশাহী। কিন্তু দলীয় ৬৬ রানে শহিদুল ইসলামের শিকার হন আফিফ (১৯)। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন মালিক। এই পাকিস্তানিকে দারুণ সঙ্গ দেন বোপারা।

রাজশাহীর ব্যাটিং ইনিংস শেষ হওয়ার ৯ বল আগে স্বদেশি মোহাম্মদ আমিরের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন শোয়েব মালিক। তার আগে ৫০ বলে ৮ চার আর ৪ ছক্কায় ৮৭ রান করেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। শেষ দিকের ব্যাটিং ঝড়ে বোপারার সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। তাতে ১৮৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় রাজশাহী। মাত্র ২৬ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন বোপারা। ৬ বলে ১ চার আর ১ ছক্কায় ১৩ রান করেন রাসেল।

খুলনার হয়ে মোহাম্মদ আমির ২টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া শহিদুল ইসলাম ও রবি ফ্রাইলিঙ্ক ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে রাজশাহী রয়ালস। ঢাকা প্লাটুন ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ঝুলিতেও ৪ পয়েন্ট জমা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে তিনটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা।

অপরদিকে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে খুলনা টাইগার্স। সেখান থেকে পূর্ণ পয়েন্টই সংগ্রহ করেছে দলটি। দুই ম্যাচে অংশ নিয়ে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স একটিতে জয় ও একটিতে হার নিয়ে লাভ করেছে ২ পয়েন্ট।

রাজশাহী রয়ালস একাদশ : আন্দ্রে রাসেল (অধিনায়ক), হজরতউল্লাহ জাজাই, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), আফিফ হোসেন, শোয়েব মালিক, অলক কাপালি, রবি বোপারা, ফরহাদ রেজা, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি, কামরুল ইসলাম রাব্বি।

খুলনা টাইগার্স একাদশ : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), রহমানুল্লাহ গুরবাজ, শামসুর রহমান শুভ, নাজমুল হোসেন শান্ত, রাইলি রুশো, রবি ফ্রাইলিংক, মেহেদী হাসান মিরাজ, আমিনুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আমির, শহিদুল ইসলাম।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ