ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে পণ্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য বৃদ্ধি পাচ্ছে খেলাপি। ব্যহত হচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগ। ব্যবসায়ীদের এমন দাবি মেনে নিয়ে সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যা মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উৎপাদনশীল খাতে এক অঙ্কের সুদহার বেধে দেয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এই সুদ হার বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, খুব শীঘ্রই এবিষয়ে সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম জানন, শিল্প ঋণে সিঙ্গেল ডিজট বাস্তবায়ন হলে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এমনিতেই বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্মমুখী। এটা বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থানের উপর নতুন করে চাপ তৈরি হবে।
তাছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক ঋণের সুদ হার বেধে দেয়ার বিষয়টি মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজের কাজটা ঠিকমতো করতে পারছে না। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণটা কমিয়ে আনতে পারলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদহার-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলার রয়েছে। এই সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সুদহার নিজেরাই ঠিক করবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে শুধু অবহিত করবে। মুক্তবাজার অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি করা হয়েছিল।
এখন নতুন সিদ্ধান্ত ওই সার্কুলারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সূত্রমতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির আলোকে সুদহার বাজারের চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভরশীল। এটি বেঁধে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশও মুক্তবাজার অর্থনীতিকে অনুসরণ করে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। এটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যাংক উদ্যোক্তারা গত বছরের এপ্রিল মাসে সরকারের কাছ থেকে পাঁচটি সুবিধা নেয়। এর মধ্যে রয়েছে সিআরআর এক শতাংশ কমিয়ে আনা ও সরকারি আমানতের পঞ্চাশ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা অন্যতম।
কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও ব্যাংকগুলো এটি বাস্তবায়ন করেনি। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সুদহার এক অঙ্কে নামানো হলে উৎপাদন খাতের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। কারণ, তহবিল খরচ বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলোর পক্ষে এখনই ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করা কঠিন। তাই তারা এই খাতে ঋণ দেওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করবে। এ জন্য তাদের আমানতের সুদের হার কমাতে হবে। ফলে ব্যাংক খাতে আবারও তারল্যসংকট তৈরি হতে পারে। আবার বৈদেশিক ব্যবসাতেও খরচ বেড়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভাবমূর্তির সংকটে পড়বে ব্যাংকগুলো।

























