১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বছর শুরু টেস্ট উৎসবের

গত বছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল পাঁচটি। এই ফরম্যাটে কখনোই খুব বেশি টেস্ট এক বছরে বাংলাদেশের খেলা হয় না। সে হিসেবে আজ শুরু হওয়া বছরটা বাংলাদেশের জন্য টেস্ট উৎসবের বছর। যদিও এই বছর অনুষ্ঠিতব্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটা টেস্ট এরই মধ্যে বাতিল হয়ে গেছে।

তারপরও এই বছর বাংলাদেশ দল গুনে গুনে দশটা টেস্ট খেলবে। সবমিলিয়ে এই বছরে বাংলাদেশ সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। মানে, নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের ব্যস্ততম বছর কাটাবে বাংলাদেশ।

বছরের শুরুতেই একটা সন্দেহ রয়ে গেছে। এই জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের থাকার কথা পাকিস্তান সফরে। ২০০৯ সালের লাহোর আক্রমণের পর থেকে বিভিন্ন দল পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজগুলো খেলছিল দুবাইতে।

কিন্তু এহসান মানি পিসিবি সভাপতি হওয়ার পর থেকে দেশে ক্রিকেট ফেরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তার অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তানে। ফলে বাংলাদেশকেও পাকিস্তানে চাচ্ছে পিসিবি।

এই সফরে বাংলাদেশের দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রস্তাব দিয়েছে, তারা তিনটি টি-টোয়েন্টি পাকিস্তানে গিয়ে খেলবে। একটানা টেস্ট সফর করবে না। যদি টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর খেলোয়াড়রা রাজি হয়, তাহলে টেস্ট সফরে যাবে তারা। নইলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে হবে। এটা পিসিবি মানতে রাজি নয়। ফলে একটা দোটানা তৈরি হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশের ১ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা জিম্বাবুয়েতে। মার্চ ও এপ্রিলে হবে এই সফরটা। মে মাসে বাংলাদেশ যাবে আয়ারল্যান্ড সফরে। প্রকৃত সূচি বলছে, এই সফরে বাংলাদেশ একটি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলবে। কিন্তু আয়ারল্যান্ড বোর্ড অর্থনৈতিক সংকটের কারণে টেস্টটা আয়োজন করতে পারছে না। ফলে এই টেস্টটা হবে না; এটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে থাকায় সমস্যাও হবে না। এখানে বাংলাদেশ হয়তো একটি বা দুটি টি-টোয়েন্টি বেশি খেলবে।

জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার আসার কথা বাংলাদেশে। এই সফরটায় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দুটি টেস্ট খেলার কথা। ভবিষ্যৎ সফরসূচি বলছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে এই দুটি টেস্ট নিশ্চিত।

এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশ যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানে ৩টি টেস্ট খেলার কথা দুই দলের। আগস্ট মাসে নিউজিল্যান্ড আসবে বাংলাদেশে। সে সময় দুটি টেস্টের একটি সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। আবার অক্টোবরে বাংলাদেশ যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে।

সেই সফরে ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। এই সফর থেকে সরাসরি বাংলাদেশ দল চলে যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

এ বছর সাতটি সিরিজের মধ্যে ৫টিই বাংলাদেশকে খেলতে হবে দেশের বাইরে। সবমিলিয়ে দেশের বাইরে ৬টি টেস্ট খেলতে হবে। ফলে এটা কেবল উৎসবের বছর নয়; একটা শঙ্কার বছরও বটে।

বাংলাদেশ ঘরের বাইরে টেস্টে, বিশেষ করে উপমহাদেশের বাইরে একদমই বলার মতো কখনো কিছু করতে পারেনি। ফলে দেশের বাইরে টেস্ট মানেই একটা শঙ্কা। আর সেই শঙ্কা মাথায় নিয়েই আজ শুরু হচ্ছে বছর। শঙ্কার সঙ্গে সম্ভাবনাও আছে—নতুন কিছু করার সম্ভাবনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হিন্দুদের নিরাপত্তা কোনো দল নয়, রাষ্ট্র দেবে: ড. আতিক মুজাহিদ

বছর শুরু টেস্ট উৎসবের

প্রকাশিত : ১০:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২০

গত বছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল পাঁচটি। এই ফরম্যাটে কখনোই খুব বেশি টেস্ট এক বছরে বাংলাদেশের খেলা হয় না। সে হিসেবে আজ শুরু হওয়া বছরটা বাংলাদেশের জন্য টেস্ট উৎসবের বছর। যদিও এই বছর অনুষ্ঠিতব্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটা টেস্ট এরই মধ্যে বাতিল হয়ে গেছে।

তারপরও এই বছর বাংলাদেশ দল গুনে গুনে দশটা টেস্ট খেলবে। সবমিলিয়ে এই বছরে বাংলাদেশ সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। মানে, নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের ব্যস্ততম বছর কাটাবে বাংলাদেশ।

বছরের শুরুতেই একটা সন্দেহ রয়ে গেছে। এই জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের থাকার কথা পাকিস্তান সফরে। ২০০৯ সালের লাহোর আক্রমণের পর থেকে বিভিন্ন দল পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজগুলো খেলছিল দুবাইতে।

কিন্তু এহসান মানি পিসিবি সভাপতি হওয়ার পর থেকে দেশে ক্রিকেট ফেরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তার অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তানে। ফলে বাংলাদেশকেও পাকিস্তানে চাচ্ছে পিসিবি।

এই সফরে বাংলাদেশের দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রস্তাব দিয়েছে, তারা তিনটি টি-টোয়েন্টি পাকিস্তানে গিয়ে খেলবে। একটানা টেস্ট সফর করবে না। যদি টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর খেলোয়াড়রা রাজি হয়, তাহলে টেস্ট সফরে যাবে তারা। নইলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে হবে। এটা পিসিবি মানতে রাজি নয়। ফলে একটা দোটানা তৈরি হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশের ১ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা জিম্বাবুয়েতে। মার্চ ও এপ্রিলে হবে এই সফরটা। মে মাসে বাংলাদেশ যাবে আয়ারল্যান্ড সফরে। প্রকৃত সূচি বলছে, এই সফরে বাংলাদেশ একটি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলবে। কিন্তু আয়ারল্যান্ড বোর্ড অর্থনৈতিক সংকটের কারণে টেস্টটা আয়োজন করতে পারছে না। ফলে এই টেস্টটা হবে না; এটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে থাকায় সমস্যাও হবে না। এখানে বাংলাদেশ হয়তো একটি বা দুটি টি-টোয়েন্টি বেশি খেলবে।

জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার আসার কথা বাংলাদেশে। এই সফরটায় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দুটি টেস্ট খেলার কথা। ভবিষ্যৎ সফরসূচি বলছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে এই দুটি টেস্ট নিশ্চিত।

এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশ যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানে ৩টি টেস্ট খেলার কথা দুই দলের। আগস্ট মাসে নিউজিল্যান্ড আসবে বাংলাদেশে। সে সময় দুটি টেস্টের একটি সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। আবার অক্টোবরে বাংলাদেশ যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে।

সেই সফরে ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। এই সফর থেকে সরাসরি বাংলাদেশ দল চলে যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

এ বছর সাতটি সিরিজের মধ্যে ৫টিই বাংলাদেশকে খেলতে হবে দেশের বাইরে। সবমিলিয়ে দেশের বাইরে ৬টি টেস্ট খেলতে হবে। ফলে এটা কেবল উৎসবের বছর নয়; একটা শঙ্কার বছরও বটে।

বাংলাদেশ ঘরের বাইরে টেস্টে, বিশেষ করে উপমহাদেশের বাইরে একদমই বলার মতো কখনো কিছু করতে পারেনি। ফলে দেশের বাইরে টেস্ট মানেই একটা শঙ্কা। আর সেই শঙ্কা মাথায় নিয়েই আজ শুরু হচ্ছে বছর। শঙ্কার সঙ্গে সম্ভাবনাও আছে—নতুন কিছু করার সম্ভাবনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান