০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

স্টেপ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি

সাস্টেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার স্কিলস এন্ড ট্রেইনিং ইনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।

বিশ্ব ব্যাংক ও কানাডার সহায়তায় ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি সরকার বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার হার ২০ ভাগে উন্নীত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা।

স্টেপ প্রকল্পের পরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব এ বি এম আজাদ জানান, একটি দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করার ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। সরকার জাতীয় উন্নয়নে যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেখানে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তাদের প্রায়োগিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব কর্মজগতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার শিক্ষার অগ্রাধিকারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার বিশ্বব্যাংক ও কানাডার সহায়তায় কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার নিমিত্তে মোট ১হাজার ৭৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

এরমধ্যে ৮৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ আরো ৯৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করেছে।

ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি জুলাই ২০১০ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০১৬ সালে সফল ভাবে শেষ হয় এবং উন্নয়ন ও দাতা সংস্থা এ প্রকল্প পরবর্তী তিন বছরের ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের কাছে কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র ও বেকারত্ব দূর করা।

পরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সমৃদ্ধির যে সূচনা রচিত হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ৩৭ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে।

ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (এনপিআই) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শামসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থীরা বেসরকারি উদ্যোগে যাতে কম খরচে এবং কম সময়ে প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে এসডিজি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্ণের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি করেছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্থলে দুই বছর সময়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র সভাপতি এ.কে.এম.এ হামিদ বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার হার ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। সরকারের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

স্টেপ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ০৫:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৭

সাস্টেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার স্কিলস এন্ড ট্রেইনিং ইনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।

বিশ্ব ব্যাংক ও কানাডার সহায়তায় ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি সরকার বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার হার ২০ ভাগে উন্নীত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা।

স্টেপ প্রকল্পের পরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব এ বি এম আজাদ জানান, একটি দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করার ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। সরকার জাতীয় উন্নয়নে যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেখানে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তাদের প্রায়োগিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব কর্মজগতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার শিক্ষার অগ্রাধিকারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার বিশ্বব্যাংক ও কানাডার সহায়তায় কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার নিমিত্তে মোট ১হাজার ৭৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

এরমধ্যে ৮৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ আরো ৯৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করেছে।

ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি জুলাই ২০১০ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০১৬ সালে সফল ভাবে শেষ হয় এবং উন্নয়ন ও দাতা সংস্থা এ প্রকল্প পরবর্তী তিন বছরের ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের কাছে কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র ও বেকারত্ব দূর করা।

পরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সমৃদ্ধির যে সূচনা রচিত হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ৩৭ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে।

ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (এনপিআই) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শামসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থীরা বেসরকারি উদ্যোগে যাতে কম খরচে এবং কম সময়ে প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে এসডিজি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্ণের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি করেছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্থলে দুই বছর সময়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র সভাপতি এ.কে.এম.এ হামিদ বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার হার ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। সরকারের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।