০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিমানবন্দরে দুই গাড়ির জন্য চালক একজন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি জিপ ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চালক। বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত সরকারি জিপ গাড়িটি চালান কাজল হাজরা। ফলে বিমানবন্দরে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে চালকের অভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্স চলছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি দিলেও কোনও প্রতিকার পায়নি বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ পাশে দোতলায় রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর এই বিভাগটি পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরে অধীনে। বিভাগের একটি জিপ গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুলেন্স পালাক্রমে চালানোর জন্য ৪জন চালকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন।

এদিকে, একেএম আব্দুল হান্নান নামের একজন গাড়িচালক বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও প্রেষণে কাজ করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরে।

সুমন মিয়া নামের আরেকজন গাড়িচালক ২০০৯ সালের ১৪ মে থেকে সাময়িক বরখাস্ত। বেলায়েত হোসেন নামের আরেক গাড়িচালক এই বছরের জুলাই থেকে অসুস্থ হয়ে ছুটিতে।

গত ১ জানুয়ারি বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত সবুজ হাজরা বর্তমানে একাই গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। সবুজ হাজরা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শরিফুল হাসানের জন্য নির্ধারিত সরকারি জিপ গাড়িটি চালানপরিচালনা করছেন। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগে অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও অব্যহৃত থাকছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরিফুল হাসান চলতি বছরের ৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন দিয়েছেন, যদিও এখনও সমাধান মেলেনি।

সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) নিয়ম অনুসারে প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ একটি স্বাস্থ্য সেবা ইউনিট থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে আইকাও’র নিয়মে। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটটির নিকটবর্তী বড় হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্তি থাকতে হয়। যেন যেকোনও সময়ে বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শাহজালালে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এক আনসার সদস্য নিহত হন, আহত হন পুলিশসহ আরও ৩জন। দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতের আহত আনসার সদস্য সোহাগ আলীকে হাসপাতালে নেওয়া হয় সিএনজিতে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বাকি আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে। সেদিন পাওয়া যায়নি বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্সটি।

এছাড়া অন্য সময়েও জরুরি প্রয়োজনে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ঢাকায় আসা যাত্রী মো. সানাউল্লাহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেদিন তাকে হাসপাতালে নেওয়া জন্য পাওয়া যায়নি কোনও অ্যাম্বুলেন্স। পরবর্তীতে বিমানবন্দর থেকে অন্য গাড়িতে উঠানোর পরই সানাউল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান তার ভাগিনা দীন মোহাম্মদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শরিফুল হাসান বলেন, ‘বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে হয়। আমাদের চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সমস্যা হচ্ছে অ্যাম্বেলেন্স থাকলেও গাড়ি চালক মাত্র একজন। একজনের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা দুটি গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এশতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও যদি ব্যবহার না করা যায়, এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আমি বিমানবন্দরে নিজে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করবো এবং পরিচালক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

বিমানবন্দরে দুই গাড়ির জন্য চালক একজন

প্রকাশিত : ১০:০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি জিপ ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চালক। বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত সরকারি জিপ গাড়িটি চালান কাজল হাজরা। ফলে বিমানবন্দরে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে চালকের অভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্স চলছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি দিলেও কোনও প্রতিকার পায়নি বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ পাশে দোতলায় রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর এই বিভাগটি পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরে অধীনে। বিভাগের একটি জিপ গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুলেন্স পালাক্রমে চালানোর জন্য ৪জন চালকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন।

এদিকে, একেএম আব্দুল হান্নান নামের একজন গাড়িচালক বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও প্রেষণে কাজ করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরে।

সুমন মিয়া নামের আরেকজন গাড়িচালক ২০০৯ সালের ১৪ মে থেকে সাময়িক বরখাস্ত। বেলায়েত হোসেন নামের আরেক গাড়িচালক এই বছরের জুলাই থেকে অসুস্থ হয়ে ছুটিতে।

গত ১ জানুয়ারি বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত সবুজ হাজরা বর্তমানে একাই গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। সবুজ হাজরা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শরিফুল হাসানের জন্য নির্ধারিত সরকারি জিপ গাড়িটি চালানপরিচালনা করছেন। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগে অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও অব্যহৃত থাকছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরিফুল হাসান চলতি বছরের ৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন দিয়েছেন, যদিও এখনও সমাধান মেলেনি।

সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) নিয়ম অনুসারে প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ একটি স্বাস্থ্য সেবা ইউনিট থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে আইকাও’র নিয়মে। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটটির নিকটবর্তী বড় হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্তি থাকতে হয়। যেন যেকোনও সময়ে বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শাহজালালে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এক আনসার সদস্য নিহত হন, আহত হন পুলিশসহ আরও ৩জন। দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতের আহত আনসার সদস্য সোহাগ আলীকে হাসপাতালে নেওয়া হয় সিএনজিতে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বাকি আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে। সেদিন পাওয়া যায়নি বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্সটি।

এছাড়া অন্য সময়েও জরুরি প্রয়োজনে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ঢাকায় আসা যাত্রী মো. সানাউল্লাহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেদিন তাকে হাসপাতালে নেওয়া জন্য পাওয়া যায়নি কোনও অ্যাম্বুলেন্স। পরবর্তীতে বিমানবন্দর থেকে অন্য গাড়িতে উঠানোর পরই সানাউল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান তার ভাগিনা দীন মোহাম্মদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শরিফুল হাসান বলেন, ‘বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে হয়। আমাদের চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সমস্যা হচ্ছে অ্যাম্বেলেন্স থাকলেও গাড়ি চালক মাত্র একজন। একজনের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা দুটি গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এশতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও যদি ব্যবহার না করা যায়, এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আমি বিমানবন্দরে নিজে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করবো এবং পরিচালক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো।’