১০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে বৃহস্পতিবার

বহু প্রতিক্ষীত ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হবে বৃহস্পতিবার। এর ফলে পাবনা-ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে যাবে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুবক্তগীণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটু সময় বেশি লেগেছে। আশা করছি ১৪ই ডিসেম্বর রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদী হয়ে পাবনায় পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে। প্রথম পর্যায়ে একটি শাটল ট্রেন পাবনা-ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে চলাচল করবে।

পাবনা জেলার ১১টি থানার মধ্যে তিনটি থানার অল্প সংখ্যক মানুষ রেলপথ সুবিধা পেলেও জেলার মোট জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই রেলপথ নির্মাণের দাবি ছিল পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের। সেই অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। এখন রোমাঞ্চকর ট্রেন ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শহরবাসী।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা যায়, পাবনার মানুষের ১০০ বছরের দাবি ছিল এই রেলপথ। ১৯১৪ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সেই সময়ে দাবি উঠে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রোড রেল লাইনের। সেই সময় ব্রিটিশরা এই দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিও দেয়। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয়নি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে তাৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এ দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ প্রকল্প কাজ শুরু করে। সে সময় পাবনায় নদী কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন আগামীতে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি এ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকা।

উল্লেখ, ২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হতে চলছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

পাবনা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত : ০৪:৫১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

বহু প্রতিক্ষীত ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হবে বৃহস্পতিবার। এর ফলে পাবনা-ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে যাবে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুবক্তগীণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটু সময় বেশি লেগেছে। আশা করছি ১৪ই ডিসেম্বর রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদী হয়ে পাবনায় পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে। প্রথম পর্যায়ে একটি শাটল ট্রেন পাবনা-ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে চলাচল করবে।

পাবনা জেলার ১১টি থানার মধ্যে তিনটি থানার অল্প সংখ্যক মানুষ রেলপথ সুবিধা পেলেও জেলার মোট জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই রেলপথ নির্মাণের দাবি ছিল পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের। সেই অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। এখন রোমাঞ্চকর ট্রেন ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শহরবাসী।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা যায়, পাবনার মানুষের ১০০ বছরের দাবি ছিল এই রেলপথ। ১৯১৪ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সেই সময়ে দাবি উঠে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রোড রেল লাইনের। সেই সময় ব্রিটিশরা এই দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিও দেয়। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয়নি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে তাৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এ দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ প্রকল্প কাজ শুরু করে। সে সময় পাবনায় নদী কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন আগামীতে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি এ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকা।

উল্লেখ, ২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হতে চলছে।