ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারী খাল দখল করে সীমাণাপ্রাচীর করার অভিযোগ উঠেছে দু’টি প্রস্তাবিত কোম্পানীর বিরুদ্ধে। এতে ওই এলাকায় বর্ষাকালে ব্যাপক জলাবদ্ধসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে অবস্থানরত জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হবেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের কাচিনা মৌজায় । ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৫৩ টাকা ব্যয়ে ওই খালের উপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালুকা সিডষ্টোর-সখিপুর সড়কের দুই পাশ ঘেষে কাচিনা মৌজায় দু’টি প্রস্থাবিত কোম্পানী কর্তৃপÿ স্থানীয় দালালদের সহযোগীতায় সরকারী খাল ও জলাভূমিসহ বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করে তাতে সীমাণাপ্রাচীন নির্মাণ করছেন। সড়কের উত্তর পাশে ওয়েসিসি (এগ্রো) লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী জলাভূমি ও ভিটাসহ ৭১৫ একর এবং দক্ষিণ পাশে সাইনবোর্ড বিহিন অপর একটি কোম্পানী ১৫০ বিঘা জমি ক্রয় করে সরকারী শালধূয়া খাল ভেতরে রেখে বালুদিয়ে ভরাট করে সড়কের পাশ ঘেষে সীমাণাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন।
ওই দু’টি কোম্পানী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এলাকাবাসির প্রতিবাদের মুখে খালটি দখল করে তাদের সীমাণাপ্রাচীরের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সীমাণাপ্রাচীরের পশ্চিম পাশে অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন জানান, ‘ছোটকাল থেকে তিনি ওই খালটি দেখে আসছেন। আর বর্ষাকালে উজানের পানি এই খাল দিয়ে ভাটি এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া শালধূয়া নদিতে গিয়ে পড়তো। কোম্পানী দু’টির সীমাণাাপ্রাচীর নির্মাণ ও খাল ভরাটের কারণে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়ে উজানের বেশ কয়েকটি মৌজায় অবস্থিত শত শত বসতি চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী বরবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কোন লাভ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সিপিবির উপজেলা সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন জানান, ‘প্রায় একবছর আগে কোম্পানী কর্তৃক খাল দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করার কারণে এলাকায় ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্বারকলিপিসহ লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে সরকারী সার্ভেয়ার দিয়ে দখলকৃত শালধূয়া খালটি উদ্ধারের লক্ষে সিমানা চিহিৃতকরণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীর কারণে মাঝপথে মাপামাপির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে খালটির কোন চিহৃ পর্যন্ত নেই। এতে উজানের পালগাঁও, তামাট ও কাদিগড়সহ ১৫/২০ টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা বর্ষাকালে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।
এ ব্যাপারে সাইনবোর্ড বিহিন সড়কের দক্ষিণ পাশের কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধি লিটন গায়েন খাল ভরাটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সড়কের উত্তর পাশের একটি কোম্পানী আগে সীমাণাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান লিটনের সরকারী মোবাইল নম্বরে এ ব্যাপারে জানতে বার বার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, ‘কাচিনা মৌজার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দখলের বিষয়টি জানতে পেরে সার্ভেয়ার পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















