আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সেতু দিয়ে চার জেলার মানুষ পারাপার হচ্ছে। সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় দিনাজপুরে বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন, খানসামার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নসহ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীর কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা এবং বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম, শিবরামপুর, নিজপাড়া, গোলাপগঞ্জ ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা হয়ে বা বীরগঞ্জের দশমাইল হয়ে সৈয়দপুর শহর দিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে নীলফামারী যেতে হয়। কিন্তু জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে সেতু নির্মিত হলে ঠাকুরগাঁও নীলফামারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে।সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে পানি কম। দুই পাশে দীর্ঘ বালুচর। শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া গ্রাম এলাকায় গড়ে ওঠা ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে বাঁশের তৈরি ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সাঁকো আছে।
ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ ঘাটের ইজারাদার মোঃ নুর আলম হোসেন ওই সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। আর এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক, কর্মজীবী নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী পার হচ্ছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান ও মোটরসাইকেলে চলাচল করছে। তবে ভরা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকলে মানুষ নৌকায় চলাচল করে। ভবানীগঞ্জের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, রবিবার ও বুধবার গড়েয়া হাট করি। তবে বর্ষার সময় রাতে ঘাটে নৌকা পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। একটি সেতু এ নদীতে হলে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যাপক সুবিধাভোগ করতে পাবে।ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গোলাম মোস্তফা বলেন,আত্রাই নদী টিতে সেতু না হওয়ায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকায় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত ছাত্রছাত্রী চলাচল করে।এবিষয়ে ঝাড়বাড়ী –জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিরা আশার ফুলঝুড়ি দিলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতুটি। মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এর আগে সেতু বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে গত বছর ১২ মে বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ীচৌরাস্তা মোড়ে ঝাঢ়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটি’র আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ মে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ২১ মে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ২৩ মে বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক এর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেই। এরপর একাদশ নির্বাচনের আগে খড়পধষ এড়াবৎহসবহঃ ঊহমরহববৎরহম উবঢ়ধৎঃসবহঃ (খএঊউ) পক্ষ থেকে ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ড়ভ ওসঢ়ড়ৎঃধহঃ ইৎরফমবং ড়হ জঁৎধষ জড়ধফং ( খএঊউ) নামে একটি প্রকল্প হতে ঝাড়বাড়ী –জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে সেতু জন্য পরিবেশগত প্রভাব নিরুপনের উপর মতবিনিময় সভা করা হয় । এখন ফেসবুকের মাধ্যমে চলছে প্রচার আন্দোলন ।সেতু কমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন আরো বলেন,দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজলোর শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে র্পূব দক্ষিণে নীলফামারী ১৭ কি.মি, আর আত্রাই নদীর পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও ২২ কি.মি। আমরা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ মনে করি,এখানে একটি সেতু হলে, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা শহরের সাথে সরাসরি আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এতে সহজ এ হয়ে উঠবে শিক্ষা, চিকিৎসা, বানিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন। তিনি আরো বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও থেকে নীলফামারী সংযোগ সড়কের জন্য ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। এই সেতুটি নির্মিত হলে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ দিনাজপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। হাতের নাগালে আসবে। কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। অথচ এই একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ার কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। তাই সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান




















