০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমরা কেউই জানি না, আগামীকালের প্রভাত কী নিয়ে অপেক্ষা করছে

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

এ এক অন্যরকম পহেলা বৈশাখ পার করছি আমরা। প্রতিবার দেশব্যাপী যে নানা আয়োজন থাকে তার কিছুই নেই। পরিস্থিতিটাই আসলে এরকম। কোনো কিছুই স্বাভাবিক নেই করোনা ভাইরাসের কারণে। বিশ্বব্যাপী মানুষ যুদ্ধ করে যাচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে। এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে। পয়লা বৈশাখেও এই পরিস্থিতিকে মেনে নিতে হচ্ছে আমাদের। কারণ সামাজিক দুরত্বের মাধ্যমেই কেবল এটা প্রতিরোধ করা যায়।

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দুটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি আমি ও আমার সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা। কিন্তু এই পরিস্থিতির কারণে এবার দুই আয়োজনের কোনোটিই ছিল না। বৈশাখ নিয়ে বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেছেন একথা।

তবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমি একটা অনুষ্ঠান করেছি, যেটি পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সকালে দেখানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে সুরের ধারার বাইরের শিল্পীরাও ছিলেন। বৈশাখ যেমন নতুন আশার বার্তা দেয়, আজ এই নববর্ষের দিনে এমনটাই প্রত্যাশা রাখছি। এই সংকটের সময় রবীন্দ্রনাথের উক্তিটাই বলতে ইচ্ছে করছে- ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। আমরা কেউই জানি না, আগামীকালের প্রভাত কী নিয়ে অপেক্ষা করছে। তারপরও জীবন এগোনোর অনুপ্রেরণা দেয়।

তবে একটি কথা বলবো, যা কিছু অশুভ, অমঙ্গল তা কখনোই স্থায়ী হয় না। আমাদের সবার জন্য মঙ্গলময় কিছু অপেক্ষা করছে হয়তো। করোনা ভাইরাস একটি জটিল অসুখ। রবার্ট ম্যালথাসের থিওরি পড়ে জেনেছি, পৃথিবীতে যখন জনসংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়, একশ কিংবা দুইশ বছর পর এমন একটা মহামারি আসে, যা দিয়ে জনসংখ্যা কমায়। পৃথিবী তার ভার কমায়। যখন পড়েছিলাম, খুব হাস্যকর মনে হয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে, এটাই সত্যি। আমেরিকার মতো দেশ, যারা মনে করে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে, করোনার কারণে তাদের সব সিস্টেম ভেঙে পড়েছে! তারাই অসহায় হয়ে পড়েছে।

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে অবস্থা কতটা নাজুক। আজকের এই দিনে সবাইকে বলবো, ঘরে থাকুন। ঘরে অবস্থান করে এই ভাইরাস থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এর বিকল্প নেই। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে যেটা বুঝতে পারছি, নিয়ম যারা মানছেন, তাদের সমস্যা নেই। তবে মন খারাপের বিষয় হলো, অনেকেই করোনার ভয়াবহতা বুঝতেই পারছেন না! এ বিষয়ে এখনও সচেতন নন তারা। সরকার তার কাজ করছে। এখন আমাদের সচেতন হয়ে কেবল ঘরে থাকতে হবে। আর যে যে নিয়মের কথা বলা হচ্ছে তা পালন করতে হবে।

এর পাশাপাশি এই অবস্থা আমাদের একটি বিষয় আবার শিখিয়েছে। সেটা হলো- মানুষ মানুষের জন্য। এই সময়ে দুরে থেকেও আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সবার। কারণ অনেক নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা খারাপ। তাদের আয় নেই, তাই বাসায় খাবার নেই। মানুষ হিসেবে আমাদের মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এই পরিস্থিতি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। নতুন বছর মঙ্গল বয়ে আনুক আর শান্তি আসুক ধরনীতে -আজ পহেলা বৈশাখে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার এই প্রার্থনাই হওয়া উচিত।

বিজনেস বাংলাদেশ/বাবুল

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

আমরা কেউই জানি না, আগামীকালের প্রভাত কী নিয়ে অপেক্ষা করছে

প্রকাশিত : ০৮:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

এ এক অন্যরকম পহেলা বৈশাখ পার করছি আমরা। প্রতিবার দেশব্যাপী যে নানা আয়োজন থাকে তার কিছুই নেই। পরিস্থিতিটাই আসলে এরকম। কোনো কিছুই স্বাভাবিক নেই করোনা ভাইরাসের কারণে। বিশ্বব্যাপী মানুষ যুদ্ধ করে যাচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে। এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে। পয়লা বৈশাখেও এই পরিস্থিতিকে মেনে নিতে হচ্ছে আমাদের। কারণ সামাজিক দুরত্বের মাধ্যমেই কেবল এটা প্রতিরোধ করা যায়।

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দুটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি আমি ও আমার সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা। কিন্তু এই পরিস্থিতির কারণে এবার দুই আয়োজনের কোনোটিই ছিল না। বৈশাখ নিয়ে বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেছেন একথা।

তবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমি একটা অনুষ্ঠান করেছি, যেটি পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সকালে দেখানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে সুরের ধারার বাইরের শিল্পীরাও ছিলেন। বৈশাখ যেমন নতুন আশার বার্তা দেয়, আজ এই নববর্ষের দিনে এমনটাই প্রত্যাশা রাখছি। এই সংকটের সময় রবীন্দ্রনাথের উক্তিটাই বলতে ইচ্ছে করছে- ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। আমরা কেউই জানি না, আগামীকালের প্রভাত কী নিয়ে অপেক্ষা করছে। তারপরও জীবন এগোনোর অনুপ্রেরণা দেয়।

তবে একটি কথা বলবো, যা কিছু অশুভ, অমঙ্গল তা কখনোই স্থায়ী হয় না। আমাদের সবার জন্য মঙ্গলময় কিছু অপেক্ষা করছে হয়তো। করোনা ভাইরাস একটি জটিল অসুখ। রবার্ট ম্যালথাসের থিওরি পড়ে জেনেছি, পৃথিবীতে যখন জনসংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়, একশ কিংবা দুইশ বছর পর এমন একটা মহামারি আসে, যা দিয়ে জনসংখ্যা কমায়। পৃথিবী তার ভার কমায়। যখন পড়েছিলাম, খুব হাস্যকর মনে হয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে, এটাই সত্যি। আমেরিকার মতো দেশ, যারা মনে করে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে, করোনার কারণে তাদের সব সিস্টেম ভেঙে পড়েছে! তারাই অসহায় হয়ে পড়েছে।

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে অবস্থা কতটা নাজুক। আজকের এই দিনে সবাইকে বলবো, ঘরে থাকুন। ঘরে অবস্থান করে এই ভাইরাস থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এর বিকল্প নেই। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে যেটা বুঝতে পারছি, নিয়ম যারা মানছেন, তাদের সমস্যা নেই। তবে মন খারাপের বিষয় হলো, অনেকেই করোনার ভয়াবহতা বুঝতেই পারছেন না! এ বিষয়ে এখনও সচেতন নন তারা। সরকার তার কাজ করছে। এখন আমাদের সচেতন হয়ে কেবল ঘরে থাকতে হবে। আর যে যে নিয়মের কথা বলা হচ্ছে তা পালন করতে হবে।

এর পাশাপাশি এই অবস্থা আমাদের একটি বিষয় আবার শিখিয়েছে। সেটা হলো- মানুষ মানুষের জন্য। এই সময়ে দুরে থেকেও আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সবার। কারণ অনেক নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা খারাপ। তাদের আয় নেই, তাই বাসায় খাবার নেই। মানুষ হিসেবে আমাদের মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এই পরিস্থিতি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। নতুন বছর মঙ্গল বয়ে আনুক আর শান্তি আসুক ধরনীতে -আজ পহেলা বৈশাখে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার এই প্রার্থনাই হওয়া উচিত।

বিজনেস বাংলাদেশ/বাবুল