০৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড

গত বছর বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৮৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মৃত্যুদণ্ড দেয়া এসব আসামিদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গত বছর সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও খুনের মামলার আসামি। তবে দেশটি মৃত্যুদণ্ডকে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি। ২০১৯ সালে একসঙ্গে ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল সৌদি সরকার। এদের মধ্যে ৩২ জনই শিয়া মুসলিম। তাদের ব্যাপক নির্যাতনের মাধ্যেমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল বলে দাবি মানবাধিকার সংগঠনটির।
দেশটিতে এ বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছয়জন নারী ও ১৭৮ জন পুরুষ রয়েছেন। ২০১৮ সালে তারা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ১৪৯ জনের। এদিকে, ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরাক। আর চীনের পরেই সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড ধরে রেখেছে ইরান। ২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে অন্তত ২৫১টি।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই জরিপে চীন, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত নেই। এসব দেশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর খুব একটা প্রকাশ করে না। অ্যামনেস্টির ধারণা, গত বছরও চীনে হাজারের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইরাকে ২০১৮ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ৫২টি। এবছর সেই সংখ্যা একশতে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা এত বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার হার বৃদ্ধিকে। দক্ষিণ সুদানে গত বছর ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা ২০১১ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালে ইয়েমেনে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে; ২০১৮ সালে হয়েছিল চারজনের।
এক বছর বিরতির পর বাহরাইন ও বাংলাদেশেও ফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অ্যামনেস্টির হিসাবে, গত বছর বাহরাইনে তিনজন ও বাংলাদেশে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে, ২০১৮ সালের তুলনায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার কমেছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চতুর্থ বছর মৃত্যুদণ্ড কমেছে বিশ্বে। গত বছর বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৬৫৭ জনের, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৯ সালে ব্যাপক হারে মৃত্যুদণ্ড কমেছে মিসর, জাপান ও সিঙ্গাপুরে। টানা দ্বিতীয় বছর মৃত্যুদণ্ডের হার কমেছে ইরানেও। ২০১০ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। গত বছর মৃত্যুদণ্ড দেয়নি তাইওয়ান-থাইল্যান্ডও।
বিশ্বের ১০৬টি দেশ ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান বাতিল করেছে। তবে এখনও ১৪২টি দেশে এই আইন রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা বিষয়ক জ্যে পরিচালক ক্লেয়ার আলগার বলেন, মৃত্যুদণ্ড একটি ঘৃণ্য ও অমানবিক শাস্তি; এবং এটি কারাদণ্ডের চেয়ে অপরাধপ্রবণতা বেশি কমায় এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও নেই। বেশিরভাগ দেশই এটি বুঝতে পেরেছে এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা কমে আসছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড

প্রকাশিত : ১১:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০

গত বছর বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৮৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মৃত্যুদণ্ড দেয়া এসব আসামিদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গত বছর সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও খুনের মামলার আসামি। তবে দেশটি মৃত্যুদণ্ডকে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি। ২০১৯ সালে একসঙ্গে ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল সৌদি সরকার। এদের মধ্যে ৩২ জনই শিয়া মুসলিম। তাদের ব্যাপক নির্যাতনের মাধ্যেমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল বলে দাবি মানবাধিকার সংগঠনটির।
দেশটিতে এ বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছয়জন নারী ও ১৭৮ জন পুরুষ রয়েছেন। ২০১৮ সালে তারা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ১৪৯ জনের। এদিকে, ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরাক। আর চীনের পরেই সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড ধরে রেখেছে ইরান। ২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে অন্তত ২৫১টি।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই জরিপে চীন, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত নেই। এসব দেশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর খুব একটা প্রকাশ করে না। অ্যামনেস্টির ধারণা, গত বছরও চীনে হাজারের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইরাকে ২০১৮ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ৫২টি। এবছর সেই সংখ্যা একশতে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা এত বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার হার বৃদ্ধিকে। দক্ষিণ সুদানে গত বছর ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা ২০১১ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালে ইয়েমেনে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে; ২০১৮ সালে হয়েছিল চারজনের।
এক বছর বিরতির পর বাহরাইন ও বাংলাদেশেও ফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অ্যামনেস্টির হিসাবে, গত বছর বাহরাইনে তিনজন ও বাংলাদেশে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে, ২০১৮ সালের তুলনায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার কমেছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চতুর্থ বছর মৃত্যুদণ্ড কমেছে বিশ্বে। গত বছর বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৬৫৭ জনের, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৯ সালে ব্যাপক হারে মৃত্যুদণ্ড কমেছে মিসর, জাপান ও সিঙ্গাপুরে। টানা দ্বিতীয় বছর মৃত্যুদণ্ডের হার কমেছে ইরানেও। ২০১০ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। গত বছর মৃত্যুদণ্ড দেয়নি তাইওয়ান-থাইল্যান্ডও।
বিশ্বের ১০৬টি দেশ ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান বাতিল করেছে। তবে এখনও ১৪২টি দেশে এই আইন রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা বিষয়ক জ্যে পরিচালক ক্লেয়ার আলগার বলেন, মৃত্যুদণ্ড একটি ঘৃণ্য ও অমানবিক শাস্তি; এবং এটি কারাদণ্ডের চেয়ে অপরাধপ্রবণতা বেশি কমায় এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও নেই। বেশিরভাগ দেশই এটি বুঝতে পেরেছে এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা কমে আসছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক