০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

করোনা পরিস্থিতিতেও নির্যাতিত নারীর পাশে পটুয়াখালীর ইউএনও

পারিবারিক দন্ধের শিকার হয়ে নির্যাতিত নারীর পাশে দাড়িয়ে তার তিন বছরের কন্যা সন্তান কে তার কোলে ফিরিয়ে দিলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লতিফা জান্নাতী।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যম কর্মীদের এ তথ্য টি নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা প্রশাসন ও সুবিধা প্রাপ্ত নারী সাথী বেগম।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯) রাতে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা চায় সাথী আক্তার নামে ঐ নারী। সাথে সাথে তথ্য গুলো লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের কাছে ফরওয়ার্ড করেন ইউএনও। তাকে ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলার নির্দেশও দেন তিনি।
নির্দেশনা পেয়ে চেয়ারম্যান দুই পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং বাচ্চা তার মায়ের কাছে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ঐরাতেই নিজের কোলের সন্তান কে বুঝে নেন সাথী আক্তার। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি শান্ত হলে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যম বিষয়টি সমাধান করার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তৃতীয় রোজার দিন সংসারের কাজ নিয়ে শাশুরি হাসিনা বেগমের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শশুর ও শাশুরি মিলে ইফতার না করিয়ে এলাকা বাসীর উপস্থিতিতে কোলের সন্তান কেঁড়ে নিয়ে তাড়িয়ে দেয় সাথি আক্তার কে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুরিপাইকা গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে বেল্লাল হাওলাদারের সাথে পাঁচ বছর পূর্বে বিবাহ হয় গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজ্জমা গ্রামের রুহুল আমিন খানের মেয়ে সাথী আক্তারের।
কিছুদিন সুন্দর ভাবে কেটে গেলে একটি কন্যা সন্তান জন্মনেয় সাথী গর্বে। এর কারণেও অনেকদিন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে সাথীকে। বর্তমানে কন্যা  নাবিলার বয়স তিন বছর।
এর আগেও স্বামী, শশুর ও শাশুড়ি নির্যাতনের কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফায় সালিসি করলেও তা মেনে নেয়নি স্বামীর বাড়ির লোকজন।
সাথী আক্তার বলেন, আমি আমার মেয়ে কোলে পেয়েছি, এরপর আর শান্তি একজন মায়ের কি হতে পারে। ইউএনও স্যার ব্যবস্থা না করলে পেতামই না। আমি আশা করি এখন একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, ঐ নারী স্থানীয় আত্মীয়দের মাধ্যমে আমার কাছে মেসেঞ্জারে তার নাম ঠিকানা মোবাইল নম্বর পাঠালে, আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করি এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তার কন্যা সন্তান তার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান করা হবে। তাকে আইনি সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এছাড়াও ঝুঁকি নিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের অনেক কাজের চাপ থাকা সত্বেও তিনি নারী ও শিশু প্রতি সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয়সহ সরকারি দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে কঠোর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও লতিফা জান্নাতী।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

করোনা পরিস্থিতিতেও নির্যাতিত নারীর পাশে পটুয়াখালীর ইউএনও

প্রকাশিত : ০৯:২৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২০
পারিবারিক দন্ধের শিকার হয়ে নির্যাতিত নারীর পাশে দাড়িয়ে তার তিন বছরের কন্যা সন্তান কে তার কোলে ফিরিয়ে দিলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লতিফা জান্নাতী।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যম কর্মীদের এ তথ্য টি নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা প্রশাসন ও সুবিধা প্রাপ্ত নারী সাথী বেগম।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯) রাতে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা চায় সাথী আক্তার নামে ঐ নারী। সাথে সাথে তথ্য গুলো লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের কাছে ফরওয়ার্ড করেন ইউএনও। তাকে ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলার নির্দেশও দেন তিনি।
নির্দেশনা পেয়ে চেয়ারম্যান দুই পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং বাচ্চা তার মায়ের কাছে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ঐরাতেই নিজের কোলের সন্তান কে বুঝে নেন সাথী আক্তার। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি শান্ত হলে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যম বিষয়টি সমাধান করার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তৃতীয় রোজার দিন সংসারের কাজ নিয়ে শাশুরি হাসিনা বেগমের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শশুর ও শাশুরি মিলে ইফতার না করিয়ে এলাকা বাসীর উপস্থিতিতে কোলের সন্তান কেঁড়ে নিয়ে তাড়িয়ে দেয় সাথি আক্তার কে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুরিপাইকা গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে বেল্লাল হাওলাদারের সাথে পাঁচ বছর পূর্বে বিবাহ হয় গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজ্জমা গ্রামের রুহুল আমিন খানের মেয়ে সাথী আক্তারের।
কিছুদিন সুন্দর ভাবে কেটে গেলে একটি কন্যা সন্তান জন্মনেয় সাথী গর্বে। এর কারণেও অনেকদিন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে সাথীকে। বর্তমানে কন্যা  নাবিলার বয়স তিন বছর।
এর আগেও স্বামী, শশুর ও শাশুড়ি নির্যাতনের কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফায় সালিসি করলেও তা মেনে নেয়নি স্বামীর বাড়ির লোকজন।
সাথী আক্তার বলেন, আমি আমার মেয়ে কোলে পেয়েছি, এরপর আর শান্তি একজন মায়ের কি হতে পারে। ইউএনও স্যার ব্যবস্থা না করলে পেতামই না। আমি আশা করি এখন একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, ঐ নারী স্থানীয় আত্মীয়দের মাধ্যমে আমার কাছে মেসেঞ্জারে তার নাম ঠিকানা মোবাইল নম্বর পাঠালে, আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করি এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তার কন্যা সন্তান তার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান করা হবে। তাকে আইনি সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এছাড়াও ঝুঁকি নিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের অনেক কাজের চাপ থাকা সত্বেও তিনি নারী ও শিশু প্রতি সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয়সহ সরকারি দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে কঠোর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও লতিফা জান্নাতী।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ