০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বেড়েছে ছিনতাই !!!

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে পটিয়ার বাইপাস সড়কে। এই সড়কে প্রতিদিন ঘটছে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা। করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় এক মাসের মধ্যে শতাধিক ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত এক সপ্তাহে বাইপাস সড়কেসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতায়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এই পর্যন্ত কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ।
ইতোমধ্যে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, অপরহরণ, খুন, জায়গা দখল, সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে চলছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানায়, পটিয়া বাইপাস সড়ককে ঘিরে চলছে মাদক, ইয়াবা ব্যবসাও, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। গত ১ মে থেকে ৭দিনের মধ্যে প্রায় ১০টি ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে একজন ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
পটিয়া সদরের ছিনতাইকারীদের রয়েছে বিশাল একটি কিশোর গ্যাং, কিশোর গ্যাং এর সিন্ডিকেট রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ছাড়াও চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অপরাধ চক্র। এই চক্রের সাথে যুক্ত রয়েছে পটিয়া সদরের হাবিবুর পাড়া, দক্ষিণ ঘাটা, শেয়ানপাড়া, দক্ষিণ গৌবিন্দারখীল ও ৩নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা রোডের কিছু বখাটে যুবকও।
গত বুধবার রাতে পটিয়া সদরের ইন্দ্রপোলের ব্যবসায়ী কাগজী পাড়ার শেখ আহমদের পুত্র নাজিম উদ্দীন বাড়ি থেকে পটিয়া আসার পথে গলায় ছুরি ধরে এক লক্ষ ৪ হাজার টাকাসহ মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। একই দিনে উপজেলার কোলাগাও লাখেরা এলাকার ইসকান্দর, ইসমাইল, মোহাম্মদ ইদ্রিসের তিনিট মোবাইল ও নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ফোর এইচ গ্রুপের সামনে, মোহাম্মদ নগর, লাখেরা এলকায় নিয়মিত ছিনতাই, চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
গত ৩ মে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম পোস্ট অফিসের মোড় থেকে কাগজী পাড়া বাসায় যাওয়ার পথে রাত ১০.১০ টায় সিএনজিতে গলায় ছুরি ধরে বাইপাসে নিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। একই দিন একই কায়দায় শাহগদী মার্কেট যাওয়ার পথে সিএনজিতে গলায় ছুরি ধরে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক নজরুল ইসলাম গত ৪ মে পটিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি পটিয়া থানার পৌর বাজারের সামনে খাজা ফার্মেসীর মালিক চন্দনাইশের নুরুল করিম,পটিয়ার পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ওষুধ কোম্পানির এমআর সাজু, ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমানের নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।
উপজেলার কুসুমপুরা বোর্ড অফিসের সামনে আব্দুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহমদ শরীফ আজাদের ছেলে রাশেদ আল করিম সিএনজি সহকারে পটিয়া পৌর সদরের আসার পথে গলায় ছুরি ধরে হরিণখাইন নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে কয়েক ঘন্টা আটকে রেখে ১৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে । আবু তাহের চৌধুরী নামের তার এক নিকট আত্বীয় জানান। বাইপাস সড়কে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধিরা লোকজন ধরে এনে টাকা পয়সা, স্বর্ণলঙ্কার, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে, এলাকার লোকজন দিনরাত ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে বলে ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বখতিয়ার জানান।
পটিয়া অপরাধ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম বলেন, অপরাধির অপরাধ একবার করার পর যদি তাদের শাস্তি না হয় দিনদিন এ অপরাধিরা আরো বেশী অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কায়ছার হামিদ বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তবে পটিয়া থানায় করলে করতে পারেন বলে তিনি জানান, অভিযোগ হাতে পেলে অপরাধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীন বলেন, চুরি, ছিনতাই কাজে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছেন, আইন শৃঙ্খলা স্বভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বেড়েছে ছিনতাই !!!

প্রকাশিত : ০৮:০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২০
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে পটিয়ার বাইপাস সড়কে। এই সড়কে প্রতিদিন ঘটছে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা। করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় এক মাসের মধ্যে শতাধিক ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত এক সপ্তাহে বাইপাস সড়কেসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতায়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এই পর্যন্ত কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ।
ইতোমধ্যে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, অপরহরণ, খুন, জায়গা দখল, সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে চলছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানায়, পটিয়া বাইপাস সড়ককে ঘিরে চলছে মাদক, ইয়াবা ব্যবসাও, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। গত ১ মে থেকে ৭দিনের মধ্যে প্রায় ১০টি ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে একজন ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
পটিয়া সদরের ছিনতাইকারীদের রয়েছে বিশাল একটি কিশোর গ্যাং, কিশোর গ্যাং এর সিন্ডিকেট রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ছাড়াও চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অপরাধ চক্র। এই চক্রের সাথে যুক্ত রয়েছে পটিয়া সদরের হাবিবুর পাড়া, দক্ষিণ ঘাটা, শেয়ানপাড়া, দক্ষিণ গৌবিন্দারখীল ও ৩নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা রোডের কিছু বখাটে যুবকও।
গত বুধবার রাতে পটিয়া সদরের ইন্দ্রপোলের ব্যবসায়ী কাগজী পাড়ার শেখ আহমদের পুত্র নাজিম উদ্দীন বাড়ি থেকে পটিয়া আসার পথে গলায় ছুরি ধরে এক লক্ষ ৪ হাজার টাকাসহ মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। একই দিনে উপজেলার কোলাগাও লাখেরা এলাকার ইসকান্দর, ইসমাইল, মোহাম্মদ ইদ্রিসের তিনিট মোবাইল ও নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ফোর এইচ গ্রুপের সামনে, মোহাম্মদ নগর, লাখেরা এলকায় নিয়মিত ছিনতাই, চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
গত ৩ মে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম পোস্ট অফিসের মোড় থেকে কাগজী পাড়া বাসায় যাওয়ার পথে রাত ১০.১০ টায় সিএনজিতে গলায় ছুরি ধরে বাইপাসে নিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। একই দিন একই কায়দায় শাহগদী মার্কেট যাওয়ার পথে সিএনজিতে গলায় ছুরি ধরে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক নজরুল ইসলাম গত ৪ মে পটিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি পটিয়া থানার পৌর বাজারের সামনে খাজা ফার্মেসীর মালিক চন্দনাইশের নুরুল করিম,পটিয়ার পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ওষুধ কোম্পানির এমআর সাজু, ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমানের নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।
উপজেলার কুসুমপুরা বোর্ড অফিসের সামনে আব্দুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহমদ শরীফ আজাদের ছেলে রাশেদ আল করিম সিএনজি সহকারে পটিয়া পৌর সদরের আসার পথে গলায় ছুরি ধরে হরিণখাইন নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে কয়েক ঘন্টা আটকে রেখে ১৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে । আবু তাহের চৌধুরী নামের তার এক নিকট আত্বীয় জানান। বাইপাস সড়কে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধিরা লোকজন ধরে এনে টাকা পয়সা, স্বর্ণলঙ্কার, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে, এলাকার লোকজন দিনরাত ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে বলে ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বখতিয়ার জানান।
পটিয়া অপরাধ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম বলেন, অপরাধির অপরাধ একবার করার পর যদি তাদের শাস্তি না হয় দিনদিন এ অপরাধিরা আরো বেশী অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কায়ছার হামিদ বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তবে পটিয়া থানায় করলে করতে পারেন বলে তিনি জানান, অভিযোগ হাতে পেলে অপরাধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীন বলেন, চুরি, ছিনতাই কাজে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছেন, আইন শৃঙ্খলা স্বভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন