অনলাইন পত্রিকা আগামীনিউজ ডটকমের ছয়জন সাংবাদিককে বিনা নোটিসে ঈদের দিন (২৫মে) চাকরিচ্যুত করা হয়। এর আগেও বিনা নোটিসে অনেক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অতীতে চাকরিচ্যুত হওয়া সাংবাদিকদের বেতন পরিশোধ করে দেয়ার কথা বললেও পরে তা পরিশোধ করা হয়নি। নতুন ছয়জন নিয়ে এই অফিস থেকে মোট জন ১৮ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হলো।
জানা গেছে, সম্পাদককে বেতনবকেয়া পরিশোধ করতে বলায় তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। মঙ্গলবার (২৬মে) চাকরিচ্যুত সাংবাদিক মুহাম্মদ নাঈম ফেসবুক লাইভে এসে সম্পাদক নিম হাকিমকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
নাঈম জানান, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের বেতনবকেয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা হলে আমরণ অনশন করবেন তিনি।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, সাংবাদিক সংগঠন ডিইউজে, ডিআরইউ, বিএফউইজের নেতারা হলেন আমাদের অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে সাংবাদিকদের দুঃখ-কষ্ট দেখার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদের এ দুঃসময়ে আপনারা যদি আমাদের পাশে না থাকেন তাহলে আর কারা থাকবে? সাংবাদিক নেতাদের কাছে দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।
অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করে নাঈম জানান, আজ আমি আমার অফিসে অবরুদ্ধ। আমাকে নানানভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। পানি এবং বিদ্যুৎও বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। অফিসের ভেতর আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা বাজার করার জন্য বাইরেও যেতে পারছি না। অথচ করোনা মহামারির মধ্যে পুরো অফিস আমি একা পরিচালনা করেছি। কেউ তখন এগিয়ে আসেনি।

তিনি আরো বলেন, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতিতে কোনো সাংবদিককে চাকরিচ্যুত না করা নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেখানে ঈদের দিন আমাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়! এটি আমাদের দেশে নজিরবিহীন। আর এর পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছেন তরিকুল সুমন নামের ওই অফিসের এক সাংবাদিক। তরিকুল সুমনের শাস্তি দাবি করে সাংবাদিক নেতাদের তার পাশে না থাকার জোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নাঈম অনুরোধ করেন, জননেত্রেী শেখ হাসিনা, সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। আর এই বিবেককে যারা লাঞ্ছিত-বঞ্চিত করে, তাদের ন্যায্য অধিকার হরণ করে তাদেরকে দয়া করে শাস্তির আওতায় আনুন, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করুন।
সকল সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ


























