বদরুল হায়দার বেপারী (৪০)। বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের চৌঠাইমহল গ্রামে।
তিনি বাংলাদেশের কেঁচো চাষিদের সংগঠন বাংলাদেশ ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি। নিজে কেঁচো চাষ করে হয়েছেন লাভবান এবং নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে কেঁচো চাষে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
বিষ ও রাসয়নিকমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করেন বদরুল হায়দার। কেঁচো থেকে উৎপাদিত সার বিক্রি করে তিনি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
এতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও খুশি।
বদরুল বেপারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে দোচালা টিনের ঘর। ঘরের ভেতরে ইট দিয়ে তৈরি সারি সারি হাউস। এসব হাউসেই কেঁচো সার উৎপাদন করা হয়। বদরুল বেপারী জানান, প্রতিটি হাউসে গোবর, শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, কচুরিপানা ও কলাগাছের ছোট ছোট অংশ মিশ্রণ করা হয়। পরে সেগুলোর মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় কেঁচো। এরপর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। কেঁচো সার উৎপাদন হতে এক মাস সময় লাগে। বর্তমানে মাসে তাঁর খামার থেকে তিন টন কেঁচো সার উৎপাদিত হয়।
প্রতি কেজি সার তিনি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। এতে খরচ বাদে তাঁর মাসে আয় হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি কেঁচো বিক্রি করেও তাঁর কিছুু আয় হচ্ছে।
কেঁচো সারের খামার কেন করলেন—জানতে চাইলে বদরুল বলেন, ‘কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন আমার ছাত্রজীবন থেকেই। স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার। ২০১৩ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কেঁচো সার উৎপাদনকারী মানিক বর্মাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই প্রতিবেদন পড়ে মানিক বর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করি ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে। পরে ওই বছরই ২৫ মে ১২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দুই কেজি কেঁচো দিয়ে খামার শুরু করি। ’ খামারে কাজের অবসরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন।
সেখানে চাষাবাদে বিষ ও রাসায়নিক ব্যবহারের অপকারিতা তুলে ধরে তাদের কেঁচো সার ব্যবহারে উৎসাহ জোগান বদরুল। তাঁর এমন উদ্যোগে পিরোজপুরে আরো ৫০টি কেঁচো সার উৎপাদনকারী খামার গড়ে উঠেছে। এই সার ব্যবহার করে তারা নিজেরাও তাদের জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছে। এদিকে বদরুলের উৎপাদিত কেঁচো সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বানিয়াড়ি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কেঁচো সার ব্যবহার করে আধা বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এতে টমেটো উৎপাদন কয়েক গুণ বেশি হয়েছে। ’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিগ বিজয় হাজরা বলেন, ‘বদরুল হায়দারের হাত ধরে জেলায় প্রথম কেঁচো চাষ শুরু হয়। বর্তমানে নাজিরপুর উপজেলায়ই তার সহায়তায় আমরা ৬৭টি কেঁচো খামার গড়ে তুলতে পেরেছি। কৃষি দপ্তর থেকে সার উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব কেঁচো সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’




















