ঢাকা বিকাল ৪:৪১, মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আরাফাত ময়দানে আজ সমবেত হচ্ছেন হাজিরা, প্রস্তুত সৌদি কর্তৃপক্ষ

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে সৌদি আরবে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া হজের অংশ হিসেবে আরাফাত ময়দানে সমবেত হচ্ছেন হাজিরা। বৃহস্পতিবার পবিত্র এই ময়দানে সমবেত হবেন এবারে সুযোগ পাওয়া দশ হাজার হাজি। মহান আল্লাহর কাছে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় তারা ধ্বনি তুলবেন ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক’

সৌদি সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে এবছর তাদের উদ্দেশে খুতবা দেবেন রাজ দরবারের উপদেষ্টা শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানিয়া। বাংলাসহ দশটি ভাষায় অনুবাদ করে তা সম্প্রচার করা হবে। এদিকে আরাফাত ময়দানে হাজিদের স্বাগত জানানোর সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরব টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবছর হজে সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ ইসলাম ধর্মাবলম্বী যোগ দিলেও এবারের পরিস্থিতি আলাদা। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কেবল সৌদি আরবে অবস্থানরত নির্বাচিত ব্যক্তিরাই সুযোগ পেয়েছেন। তারপরও ভাইরাসটি থেকে সুরক্ষায় হজের সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি হজ শুরুর আগে দুই ধাপে কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আনুষঙ্গিক স্থাপনাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হজের সময় সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাজিদের প্রত্যেকের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আরাফাত ময়দানে সমবেত হওয়া। আগের দিন মিনায় রাত্রি যাপনের পর জিলহজ মাসের নয় তারিখের (এবারে ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই আরাফাত ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে এখানে যেতে হয়। হাজিরা নামিরা মসজিদ থেকে দেওয়া খুতবা শোনার পর জোহর ও আসরের নামাজ একইসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করবেন। তারপর হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কোরান তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করবেন।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন হাজিরা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। পরদিন (শুক্রবার) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা।

বৃহস্পতিবার আরাফাত ময়দানে হাজিদের স্বাগত জানাতে স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত গরম বা তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আরাফাত ও মুজদালিফা থেকে হাজিরা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এসব জায়গায় থাকবে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালও। করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়াদের জরুরিভিত্তিতে আলাদা করে ফেলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে হজের প্রথম দিনে কোনও হাজির করোনা শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এবারে আরাফাত ময়দানে খুতবা দেবেন শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানিয়া। সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজদরবারের কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলারের এই সদস্যকে খুতবা দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার ও সৌদি বাদশাহ সালমান।

হজে অংশ নেওয়া হামিদে হালিমি নামে এক হাজি আরব বলেন, ‘সৌদি আরবে আসার পর থেকেই হজ পালনের স্বপ্ন দেখেছি, আর শেষ পর্যন্ত তা সত্যি হচ্ছে। আমার দলে ২০ জনের মতো নারী রয়েছে। আর শুরু থেকেই নারীদের সঙ্গেই থেকেছি। হোটেল থেকে মিকাত ও হারাম পর্যন্ত সব জায়গায় নারীদের সঙ্গেই ছিলাম। এমনকি যেসব নারী স্বামীদের সঙ্গে এনেছেন তাদেরও নারীদের সঙ্গে রেখেছেন। সেকারণে চমৎকার বোনসুলভ অভিজ্ঞতা হয়েছে।’ তিনি জানান হাজিরা প্রত্যেকেই দূরত্ব মেনে চলা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলছেন।

উল্লেখ্য, ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা অবশ্য কর্তব্য বলে বিশ্বাস করা হয়। ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যদিয়ে হজ পালন করতে হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ প্রান্ত

এ বিভাগের আরও সংবাদ