০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন

কোভিড -১৯ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ সকল বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি সরকার কতৃক অক্টোবর পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরো একমাস বন্ধ থাকছে। দীর্ঘদিনের বন্ধের কারণে বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন।

দীর্ঘদিনের বন্ধের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেশনজটের অভিশাপ থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে চায়। এতে করে, শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে তাদের পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেশন শেষ করার পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর থাকলেও এতে রয়েছে বেশকিছু সমস্যা ও জটিলতা।

প্রথমত, অনলাইন ক্লাস এবং সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে ক্লাস করার মধ্যে রয়েছে বিশাল তফাৎ। বিশেষ করে, বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভাগগুলোতে যেখানে ল্যাবরেটরি ক্লাস গুরুত্বপূর্ণ সেখানে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে ল্যাবরেটরি ক্লাস করা অসম্ভব। অন্যদিকে, অনলাইন ক্লাস গ্রহণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশে নতুন হওয়ায় শিক্ষকগণের পক্ষে অনলাইনে পাঠদান বেশ কষ্টকর। অন্যদিকে অনলাইন ক্লাসে প্রশ্ন করা বা কোন জটিল বিষয় বুঝতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অনলাইন ক্লাসের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। এভাবে অর্জন করা ডিগ্রি কেবলই হইতো পুঁথিগত বিদ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে কর্মজীবনে।
দ্বিতীয়ত, ডিভাইস সংকট ও নিন্মগতির ইন্টারনেটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোন অনলাইন ক্লাস সম্পূর্ণ করতে চায় না । যার ফলে , একাডেমিক কোর্স সম্পূর্ণ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিভিউ ক্লাস নেওয়া নেওয়া জরুরি। আবার, এভাবে কোর্স শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরর্বতী সময়ে প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে সেমিষ্টার বা ইয়ার পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয়ে বড় আশংকা কিন্তু রয়ে যায়।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের জীবন থেকে কেড়ে নিলো সোনালি ক্যাম্পাস জীবনের ছয়টি মাস। যার ক্ষতি পূরণ করতে প্রয়োজন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

লেখক

মোঃ ফাহাদ হোসেন
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন

প্রকাশিত : ০২:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২০

কোভিড -১৯ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ সকল বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি সরকার কতৃক অক্টোবর পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরো একমাস বন্ধ থাকছে। দীর্ঘদিনের বন্ধের কারণে বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন।

দীর্ঘদিনের বন্ধের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেশনজটের অভিশাপ থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে চায়। এতে করে, শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে তাদের পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেশন শেষ করার পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর থাকলেও এতে রয়েছে বেশকিছু সমস্যা ও জটিলতা।

প্রথমত, অনলাইন ক্লাস এবং সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে ক্লাস করার মধ্যে রয়েছে বিশাল তফাৎ। বিশেষ করে, বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভাগগুলোতে যেখানে ল্যাবরেটরি ক্লাস গুরুত্বপূর্ণ সেখানে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে ল্যাবরেটরি ক্লাস করা অসম্ভব। অন্যদিকে, অনলাইন ক্লাস গ্রহণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশে নতুন হওয়ায় শিক্ষকগণের পক্ষে অনলাইনে পাঠদান বেশ কষ্টকর। অন্যদিকে অনলাইন ক্লাসে প্রশ্ন করা বা কোন জটিল বিষয় বুঝতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অনলাইন ক্লাসের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। এভাবে অর্জন করা ডিগ্রি কেবলই হইতো পুঁথিগত বিদ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে কর্মজীবনে।
দ্বিতীয়ত, ডিভাইস সংকট ও নিন্মগতির ইন্টারনেটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোন অনলাইন ক্লাস সম্পূর্ণ করতে চায় না । যার ফলে , একাডেমিক কোর্স সম্পূর্ণ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিভিউ ক্লাস নেওয়া নেওয়া জরুরি। আবার, এভাবে কোর্স শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরর্বতী সময়ে প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে সেমিষ্টার বা ইয়ার পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয়ে বড় আশংকা কিন্তু রয়ে যায়।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের জীবন থেকে কেড়ে নিলো সোনালি ক্যাম্পাস জীবনের ছয়টি মাস। যার ক্ষতি পূরণ করতে প্রয়োজন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

লেখক

মোঃ ফাহাদ হোসেন
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর