০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

কুবিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য মেরামত নিয়ে টালবাহানা!

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফাটল দেখা দিলে পূর্ব অনুমতি ছাড়া অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে দায়সারা ভাবে মেরামতের কাজ করা হয়েছে। এদিকে ফাটল এবং ফাটল মেরামত সংক্রান্ত কোন তথ্য জানে না প্রকৌশল দপ্তর। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে মেরামত করায় এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফাটল দেখা দিয়েছে এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শনিবার রাতে ভাস্কর্যটি মেরামতের জন্য লোক পাঠায় ভাস্কর মৃণাল হক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানে না কে বা কারা এটি মেরামত করছে। এ নিয়ে শনিবার রাতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ভাস্কর্যে মেরামত চলাকালীন সময়ে রুবেল হোসাইন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। আটক রুবেল হোসাইন মৃণাল হকের লোক বলে এসময় পরিচয় দেন। তবে মেরামতের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরই জানে না বলে জানা যায়।

এদিকে নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুটিং (কংক্রিটে লাগানো হয় এমন শক্ত আঠা) জাতীয় উপাদান দিয়ে ফাটল গুলো আটকে দেয়া হয়। তবে ভাস্কর্যে পুটিং লাগানো হলেও পর্যাপ্ত রং ব্যবহার না করায় পুটিং গুলো বেরিয়ে আছে যা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের প্রকৃত রূপকে বিকৃত করেছে।

এদিকে রুবেল হোসাইন নামের আটক ব্যক্তির কাছ থেকে লিখিত নিয়ে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদার তাকে ছেড়ে দেন বলে জানা যায়।

মৃণাল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে মেরামতের জন্য লোক পাঠিয়েছে বললেও ভিন্ন কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তর এবং রেজিস্ট্রার। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল্লাহ হাসান খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলার জন্য সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন।

তবে সাংঘর্ষিক বক্তব্য প্রদান করেন মৃণাল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। প্রশাসন থেকে অনুরোধ করায় ভাস্কর্য মেরামতের জন্য লোক পাঠানো হয়েছিল বলে জানান ভাস্কর মৃণাল হক।

রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন. ‘মৃণাল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো সাথে যোগাযোগ না করে লোক পাঠিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রতারণা করছেন।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ব্যবসায়ী মৃণাল হক শুরু থেকেই তৎকালীন উপাচার্যের সহযোগীতায় জাতির জনকের ভাস্কর্য স্থাপনে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।’ এছাড়াও উচ্চপর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ভাস্কর্য স্থাপনের যে অব্যবস্থাপনার এবং দুর্নীতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এ শিক্ষক নেতা।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/০৭ জানুয়ারি ২০১৮/এফএ শোভন

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুবিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য মেরামত নিয়ে টালবাহানা!

প্রকাশিত : ০৬:০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফাটল দেখা দিলে পূর্ব অনুমতি ছাড়া অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে দায়সারা ভাবে মেরামতের কাজ করা হয়েছে। এদিকে ফাটল এবং ফাটল মেরামত সংক্রান্ত কোন তথ্য জানে না প্রকৌশল দপ্তর। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে মেরামত করায় এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফাটল দেখা দিয়েছে এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শনিবার রাতে ভাস্কর্যটি মেরামতের জন্য লোক পাঠায় ভাস্কর মৃণাল হক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানে না কে বা কারা এটি মেরামত করছে। এ নিয়ে শনিবার রাতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ভাস্কর্যে মেরামত চলাকালীন সময়ে রুবেল হোসাইন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। আটক রুবেল হোসাইন মৃণাল হকের লোক বলে এসময় পরিচয় দেন। তবে মেরামতের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরই জানে না বলে জানা যায়।

এদিকে নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুটিং (কংক্রিটে লাগানো হয় এমন শক্ত আঠা) জাতীয় উপাদান দিয়ে ফাটল গুলো আটকে দেয়া হয়। তবে ভাস্কর্যে পুটিং লাগানো হলেও পর্যাপ্ত রং ব্যবহার না করায় পুটিং গুলো বেরিয়ে আছে যা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের প্রকৃত রূপকে বিকৃত করেছে।

এদিকে রুবেল হোসাইন নামের আটক ব্যক্তির কাছ থেকে লিখিত নিয়ে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদার তাকে ছেড়ে দেন বলে জানা যায়।

মৃণাল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে মেরামতের জন্য লোক পাঠিয়েছে বললেও ভিন্ন কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তর এবং রেজিস্ট্রার। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল্লাহ হাসান খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলার জন্য সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন।

তবে সাংঘর্ষিক বক্তব্য প্রদান করেন মৃণাল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। প্রশাসন থেকে অনুরোধ করায় ভাস্কর্য মেরামতের জন্য লোক পাঠানো হয়েছিল বলে জানান ভাস্কর মৃণাল হক।

রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন. ‘মৃণাল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো সাথে যোগাযোগ না করে লোক পাঠিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রতারণা করছেন।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ব্যবসায়ী মৃণাল হক শুরু থেকেই তৎকালীন উপাচার্যের সহযোগীতায় জাতির জনকের ভাস্কর্য স্থাপনে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।’ এছাড়াও উচ্চপর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ভাস্কর্য স্থাপনের যে অব্যবস্থাপনার এবং দুর্নীতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এ শিক্ষক নেতা।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/০৭ জানুয়ারি ২০১৮/এফএ শোভন