০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

মাল্টা চাষে গারো পাহাড়ে বিপ্লব

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে এখন মাল্টা চাষের বিল্পব ঘটেছে। পাহাড়ি উচুনিচু টিলা আর টিলা ঘেষা পতিত জমিতে অনেকেই এখন ঝুকছে মাল্টা চাষে। ফলটি খুব লাভজনক সুস্বাধু হওয়ায় জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ি উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে মাল্টা চাষ।
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি সুনিষ্কাশিত, উর্বর, মধ্যম থেকে দোঁ-আশ এবং এখানকার আবহাওয়া শুষ্ক ও উষ্ণ হওয়ায় এখানে সাইট্রাস (লেবু) জাতীয় ফল চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। আর এ জাতীয় ফল বিশেষ করে লেবু ও মাল্টা চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় ও একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
জানাগেছে, গত তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় লেবু ও মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন। একই সঙ্গে এ অঞ্চল অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্যোক্তা শামীম হোসেন জানায়, গত চার বছর আগে কৃষি বিভাগের লোকজনের পরার্মশে ৭ একর জমির মধ্যে বিভিন্ন মিশ্র ফল বাগানের পাশাপাশি দুই একর জমিতে লেবু জাতীয় ফলের চাষ শুরু করে। বর্তমানে তার বাগানে ১৩০০ সীডলেস ও ৫০০ কাগজী লেবু পাশপাশি ৩০০ মাল্টার গাছ রয়েছে। তিনি দুই বছর আগে থেকে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বিক্রি শুরু করে প্রথমে ৬০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করে। পরবর্তিতে গত বছর এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন। এবার আরো বেশি মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি। শামীম ও বাতেন ছাড়াও আশপাশের অনেকেই ঝুকছে মাল্টা চাষে।
সম্প্রতি উল্লেখিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি বিভিন্ন টিলা ও টিলা ঘেষা বিভিন্ন পতিত জমিতে সাড়ি সাড়ি মাল্টা গাছ। সেসব গাছে লিচুর মতো থোকা থোকা গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টা ঝুলছে প্রতিটি গাছে। বারি-১ জাতসহ অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্থানী বিভিন্ন প্রজাতির মাল্টার চাষ হচ্ছে শেরপুর এলাকায়। বিদেশী রঙ্গীন মাল্টার মতো এ মাল্টার রঙ সবুজ হলেও স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় এবং এর পুষ্ট গুনও অনেক বেশি। তবে চাষিরা জানায়, বিদেশী মাল্টার মতো রঙ আনতে ক্যামিকেল ব্যবহার করলেই আধ ঘন্টার মধ্যেই এর রঙ বাজারের বিদেশী মাল্টার মতোই হয়ে উঠে। কিন্তু তারা সেটা না করে দেশিয় প্রাকৃতিক সবুজ রঙের মাল্টাই সাধারণ মানুষের মনে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পরিপূর্ণ মাল্টার রঙ প্রাকৃতিক ভাবেই কিছুটা হালকা কাঁচা হলুদের রঙ আসে। এসব মাল্টা শেরপুর জেলাসহ ঢাকায় বেশ চাহিদাও রয়েছে। শেরপুরের খোলা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে দেশিয় ফল নিয়ে কাজ করা অনলাইন উদ্দোক্তা এবং জেলা ওয়েবসাইট “আওয়ার শেরপুর” এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গারো পাহাড়ে উৎপাদিত মাল্টা ই-কমার্স মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে আমরা পরিকল্পনা করেছি। তাই গত ৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইগাতি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি এবং মাল্টা খেয়েছি। অন্যান্য মাল্টার চেয়ে স্বাদে ভিন্নতা রয়েছে শেরপুরের মাল্টার।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সাইট্রাস লেবু জাতীয় চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় (বর্তমানে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে, লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপন ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প) কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক ডা. মুহিত কুমার সাহা জানায়, জেলায় সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতি, নালিতাবাড়ি ও শ্রীবরর্দীসহ সদর উপজেলাতে মোট ২৪ হেক্টর জমিতে মাল্টার চাষ হচ্ছে। এসব মাল্টা বিদেশী ও দেশে উৎপাদিত অন্যান্য জেলার মাল্টার চেয়ে অনেকগুন বেশি সুস্বাদু। এছাড়া আশা করা হচ্ছে জেলায় আগামিতে মাল্টার আরো আবাদ বাড়বে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

মাল্টা চাষে গারো পাহাড়ে বিপ্লব

প্রকাশিত : ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে এখন মাল্টা চাষের বিল্পব ঘটেছে। পাহাড়ি উচুনিচু টিলা আর টিলা ঘেষা পতিত জমিতে অনেকেই এখন ঝুকছে মাল্টা চাষে। ফলটি খুব লাভজনক সুস্বাধু হওয়ায় জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ি উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে মাল্টা চাষ।
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি সুনিষ্কাশিত, উর্বর, মধ্যম থেকে দোঁ-আশ এবং এখানকার আবহাওয়া শুষ্ক ও উষ্ণ হওয়ায় এখানে সাইট্রাস (লেবু) জাতীয় ফল চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। আর এ জাতীয় ফল বিশেষ করে লেবু ও মাল্টা চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় ও একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
জানাগেছে, গত তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় লেবু ও মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন। একই সঙ্গে এ অঞ্চল অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্যোক্তা শামীম হোসেন জানায়, গত চার বছর আগে কৃষি বিভাগের লোকজনের পরার্মশে ৭ একর জমির মধ্যে বিভিন্ন মিশ্র ফল বাগানের পাশাপাশি দুই একর জমিতে লেবু জাতীয় ফলের চাষ শুরু করে। বর্তমানে তার বাগানে ১৩০০ সীডলেস ও ৫০০ কাগজী লেবু পাশপাশি ৩০০ মাল্টার গাছ রয়েছে। তিনি দুই বছর আগে থেকে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বিক্রি শুরু করে প্রথমে ৬০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করে। পরবর্তিতে গত বছর এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন। এবার আরো বেশি মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি। শামীম ও বাতেন ছাড়াও আশপাশের অনেকেই ঝুকছে মাল্টা চাষে।
সম্প্রতি উল্লেখিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি বিভিন্ন টিলা ও টিলা ঘেষা বিভিন্ন পতিত জমিতে সাড়ি সাড়ি মাল্টা গাছ। সেসব গাছে লিচুর মতো থোকা থোকা গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টা ঝুলছে প্রতিটি গাছে। বারি-১ জাতসহ অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্থানী বিভিন্ন প্রজাতির মাল্টার চাষ হচ্ছে শেরপুর এলাকায়। বিদেশী রঙ্গীন মাল্টার মতো এ মাল্টার রঙ সবুজ হলেও স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় এবং এর পুষ্ট গুনও অনেক বেশি। তবে চাষিরা জানায়, বিদেশী মাল্টার মতো রঙ আনতে ক্যামিকেল ব্যবহার করলেই আধ ঘন্টার মধ্যেই এর রঙ বাজারের বিদেশী মাল্টার মতোই হয়ে উঠে। কিন্তু তারা সেটা না করে দেশিয় প্রাকৃতিক সবুজ রঙের মাল্টাই সাধারণ মানুষের মনে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পরিপূর্ণ মাল্টার রঙ প্রাকৃতিক ভাবেই কিছুটা হালকা কাঁচা হলুদের রঙ আসে। এসব মাল্টা শেরপুর জেলাসহ ঢাকায় বেশ চাহিদাও রয়েছে। শেরপুরের খোলা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে দেশিয় ফল নিয়ে কাজ করা অনলাইন উদ্দোক্তা এবং জেলা ওয়েবসাইট “আওয়ার শেরপুর” এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গারো পাহাড়ে উৎপাদিত মাল্টা ই-কমার্স মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে আমরা পরিকল্পনা করেছি। তাই গত ৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইগাতি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি এবং মাল্টা খেয়েছি। অন্যান্য মাল্টার চেয়ে স্বাদে ভিন্নতা রয়েছে শেরপুরের মাল্টার।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সাইট্রাস লেবু জাতীয় চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় (বর্তমানে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে, লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপন ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প) কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক ডা. মুহিত কুমার সাহা জানায়, জেলায় সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতি, নালিতাবাড়ি ও শ্রীবরর্দীসহ সদর উপজেলাতে মোট ২৪ হেক্টর জমিতে মাল্টার চাষ হচ্ছে। এসব মাল্টা বিদেশী ও দেশে উৎপাদিত অন্যান্য জেলার মাল্টার চেয়ে অনেকগুন বেশি সুস্বাদু। এছাড়া আশা করা হচ্ছে জেলায় আগামিতে মাল্টার আরো আবাদ বাড়বে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ