০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবলের গর্বিত সদস্য নওশের

বেশকিছু দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন দেশের ফুটবল তারকা নওশেরুজ্জামান। চিকিৎসকের অক্লান্ত চেষ্টা এবং সমর্থক-সতীর্থদের দোয়া প্রার্থনার মধ্যে সময়টা কাটছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে। সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে নওশের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাতে (ইন্না লিল্লাহি ইয়া… রাজেউন)।

করোনা আক্রান্ত নওশেরকে গত ৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তার চিকিৎসার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই কৃতিমানের প্রথম নামাজে জানাজা হয়। এই মাঠেই ফুটবল-ক্রিকেটের সঙ্গে তার কতই না স্মৃতি আছে। সেই মাঠ থেকেই সতীর্থদের চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন নওশের। মুন্সীগঞ্জে আরেকটি জানাজার পর চাঁদপুরে তাকে দাফন করা হবে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গর্বিত এই সদস্যের ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যের সুঁতোয় গাঁথা। দেশ স্বাধীনের পর প্রথমে বাংলাদেশ ওয়াপদাতে খেলেছেন। তারপর মোহামেডান ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্সে খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। জাতীয় দলে বাংলাদেশের জার্সি গায়েও খেলেছেন সুনামের সঙ্গে। নামি এই স্ট্রাইকার স্বাধীনতার আগে রেলওয়ে, ওয়ারি, ফায়ার সার্ভিস ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।

স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কৃতিমান এই সদস্য ক্রিকেটও খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। একসময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়মিত ওপেনার ছিলেন। মোহামেডান ছাড়াও ভিক্টোরিয়া ও কলাবাগানের হয়ে ক্রিকেট মাঠ মাতিয়েছেন এই তারকা। ফুটবল-ক্রিকেটে সমান দক্ষতা দেখানো সব্যসাচী এই ক্রীড়াবিদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু।

এই কৃতি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে ক্রীড়া ও যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন- ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন নওশেরুজ্জামান। দেশের ফুটবল উন্নয়নে তিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার অবদান দেশ ও জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে দেশের ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’ তারকা এই ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও সংস্থা শোক প্রকাশ করেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এস শিকদার

জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবলের গর্বিত সদস্য নওশের

প্রকাশিত : ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

বেশকিছু দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন দেশের ফুটবল তারকা নওশেরুজ্জামান। চিকিৎসকের অক্লান্ত চেষ্টা এবং সমর্থক-সতীর্থদের দোয়া প্রার্থনার মধ্যে সময়টা কাটছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে। সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে নওশের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাতে (ইন্না লিল্লাহি ইয়া… রাজেউন)।

করোনা আক্রান্ত নওশেরকে গত ৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তার চিকিৎসার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই কৃতিমানের প্রথম নামাজে জানাজা হয়। এই মাঠেই ফুটবল-ক্রিকেটের সঙ্গে তার কতই না স্মৃতি আছে। সেই মাঠ থেকেই সতীর্থদের চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন নওশের। মুন্সীগঞ্জে আরেকটি জানাজার পর চাঁদপুরে তাকে দাফন করা হবে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গর্বিত এই সদস্যের ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যের সুঁতোয় গাঁথা। দেশ স্বাধীনের পর প্রথমে বাংলাদেশ ওয়াপদাতে খেলেছেন। তারপর মোহামেডান ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্সে খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। জাতীয় দলে বাংলাদেশের জার্সি গায়েও খেলেছেন সুনামের সঙ্গে। নামি এই স্ট্রাইকার স্বাধীনতার আগে রেলওয়ে, ওয়ারি, ফায়ার সার্ভিস ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।

স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কৃতিমান এই সদস্য ক্রিকেটও খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। একসময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়মিত ওপেনার ছিলেন। মোহামেডান ছাড়াও ভিক্টোরিয়া ও কলাবাগানের হয়ে ক্রিকেট মাঠ মাতিয়েছেন এই তারকা। ফুটবল-ক্রিকেটে সমান দক্ষতা দেখানো সব্যসাচী এই ক্রীড়াবিদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু।

এই কৃতি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে ক্রীড়া ও যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন- ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন নওশেরুজ্জামান। দেশের ফুটবল উন্নয়নে তিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার অবদান দেশ ও জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে দেশের ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’ তারকা এই ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও সংস্থা শোক প্রকাশ করেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এস শিকদার