০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

যবিপ্রবির ছাত্র হলে একাধিক চুরি

  • সজীবুর রহমান
  • প্রকাশিত : ০৪:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • 82
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র ছাত্র হল শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ছাত্রহল থেকে কম্পিউটার চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের ৪১৪ নং রুমের বাসিন্দা। এর আগেও করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছোটখাটো জিনিস চুরির ঘটনা ঘঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবির হাসান জানান, আমি গতকাল আনুমানিক দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি হল থেকে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস ও কম্পিউটার নিতে। কিন্তু রুমে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখি ভিতর থেকে দরজা লাগানো এবং জানালা দিয়ে দেখি পিছনের দরজা খোলা ।
পরে হল কর্তৃপক্ষ পাশের রুমের দরজা খুলে দেয়। এরপর পেছনের বেলকুনি দিয়ে রুমে প্রবেশ করে দেখি পুরো রুমের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় আছে এবং আমার কম্পিউটারটি নেই। কেউ একজন পিছনের দরজা খুলে চুরি করেছে এবং ভিতর থেকে সামনের দরজা লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনার পরে আমি হল প্রভোস্টের নিকট চুরির অভিযোগ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেই। এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল চুরির অভিযোগে আসার পরপরই আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং তাদের ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও আমরা হলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছি এবং পুরো হল সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য আরো ৩০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজনের জন্য আবেদন করেছি। এছাড়াও চুরির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা হল বন্ধের আগেই নোটিশ দিয়েছিলাম সবার রুম থেকে মূল্যবান সামগ্রীগুলো নিয়ে যেতে।
এরপরে ঘূর্ণিঝড় অফফানের কারণে হলের দরজা জানালার ক্ষতি হওয়ার কারণে সবাইকে বলা হয়েছে হল অফিসে এসে নিজ নিজ রুমের চাবি গুলো জমা দেওয়ার জন্য ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এখনও তা করে নাই। এই চুরির ঘটনার জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার সমবেদনা রইল। খুব দ্রুত আমরা এর তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
“ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্থিকভাবে কোন সহযোগিতা করা হবে কিনা ??”এই বিষয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার কোন সু্যোগ আমাদের নেই। যেহেতু আমরা আগে থেকেই কয়েকবার নোটিশ দিয়েছি যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের মূলাবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
এরপরও যদি তারা সেগুলো না নিয়ে যায় এবং আমাদের অবহিত না করে রুমে কম্পিউটারের মত মূল্যবান জিনিস রেখে যায় সেই দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নয়। এই রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেই বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। হলে চুরির বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে আমার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি তাদের রিপোর্ট আসলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। এছাড়াও হলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করার সাথে আমরা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার নোটিশ দিয়েছি।এরপরেও কেউ যদি তার মূল্যবান জিনিসপত্র না নিয়ে যায় তার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে । এছাড়াও দায়িত্বরত গার্ডদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা?? এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সঠিক জানি না যে ঠিক কবে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।
আর যেহেতু একটি নিদিষ্ট সময় পরপর দায়িত্বরত আনসারদের দায়িত্ব পরিবর্তন হয় তাই আমরা এই ব্যাপারে এখনই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এছাড়াও যদি কোন আনসার এর সাথে জড়িত থাকে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না।আমাদের প্রশাসন যেটা পারবে তা হল তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হেডকোয়ার্টারে দেওয়া বাদ বাকিটা তাদের দায়িত্ব ।
উল্লেখ্য যে এর আগেও করোনাকালীন সময়ে যবিপ্রবির ছাত্র হলে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি যাতে ভবিষ্যতে এই রকম ঘটনা না ঘটে । এছাড়াও যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে গেলে বিভিন্ন ফর্মালিটিস মেনে প্রবেশ করতে হয় এবং হলের নিচ তলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার আওয়াতা ভুক্ত সেখানে এই ধরনের ঘটনা একান্তই কাম্য নয়।
ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের নির্বিকারতা ও নিরাপত্তা প্রদানে অপারগতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, চলছে আলোচনা সমালোচনা সহ বিরূপ মন্তব্য । এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতি পূরণের দাবি করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

যবিপ্রবির ছাত্র হলে একাধিক চুরি

প্রকাশিত : ০৪:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র ছাত্র হল শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ছাত্রহল থেকে কম্পিউটার চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের ৪১৪ নং রুমের বাসিন্দা। এর আগেও করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছোটখাটো জিনিস চুরির ঘটনা ঘঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবির হাসান জানান, আমি গতকাল আনুমানিক দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি হল থেকে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস ও কম্পিউটার নিতে। কিন্তু রুমে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখি ভিতর থেকে দরজা লাগানো এবং জানালা দিয়ে দেখি পিছনের দরজা খোলা ।
পরে হল কর্তৃপক্ষ পাশের রুমের দরজা খুলে দেয়। এরপর পেছনের বেলকুনি দিয়ে রুমে প্রবেশ করে দেখি পুরো রুমের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় আছে এবং আমার কম্পিউটারটি নেই। কেউ একজন পিছনের দরজা খুলে চুরি করেছে এবং ভিতর থেকে সামনের দরজা লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনার পরে আমি হল প্রভোস্টের নিকট চুরির অভিযোগ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেই। এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল চুরির অভিযোগে আসার পরপরই আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং তাদের ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও আমরা হলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছি এবং পুরো হল সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য আরো ৩০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজনের জন্য আবেদন করেছি। এছাড়াও চুরির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা হল বন্ধের আগেই নোটিশ দিয়েছিলাম সবার রুম থেকে মূল্যবান সামগ্রীগুলো নিয়ে যেতে।
এরপরে ঘূর্ণিঝড় অফফানের কারণে হলের দরজা জানালার ক্ষতি হওয়ার কারণে সবাইকে বলা হয়েছে হল অফিসে এসে নিজ নিজ রুমের চাবি গুলো জমা দেওয়ার জন্য ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এখনও তা করে নাই। এই চুরির ঘটনার জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার সমবেদনা রইল। খুব দ্রুত আমরা এর তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
“ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্থিকভাবে কোন সহযোগিতা করা হবে কিনা ??”এই বিষয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার কোন সু্যোগ আমাদের নেই। যেহেতু আমরা আগে থেকেই কয়েকবার নোটিশ দিয়েছি যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের মূলাবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
এরপরও যদি তারা সেগুলো না নিয়ে যায় এবং আমাদের অবহিত না করে রুমে কম্পিউটারের মত মূল্যবান জিনিস রেখে যায় সেই দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নয়। এই রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেই বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। হলে চুরির বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে আমার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি তাদের রিপোর্ট আসলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। এছাড়াও হলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করার সাথে আমরা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার নোটিশ দিয়েছি।এরপরেও কেউ যদি তার মূল্যবান জিনিসপত্র না নিয়ে যায় তার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে । এছাড়াও দায়িত্বরত গার্ডদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা?? এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সঠিক জানি না যে ঠিক কবে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।
আর যেহেতু একটি নিদিষ্ট সময় পরপর দায়িত্বরত আনসারদের দায়িত্ব পরিবর্তন হয় তাই আমরা এই ব্যাপারে এখনই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এছাড়াও যদি কোন আনসার এর সাথে জড়িত থাকে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না।আমাদের প্রশাসন যেটা পারবে তা হল তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হেডকোয়ার্টারে দেওয়া বাদ বাকিটা তাদের দায়িত্ব ।
উল্লেখ্য যে এর আগেও করোনাকালীন সময়ে যবিপ্রবির ছাত্র হলে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি যাতে ভবিষ্যতে এই রকম ঘটনা না ঘটে । এছাড়াও যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে গেলে বিভিন্ন ফর্মালিটিস মেনে প্রবেশ করতে হয় এবং হলের নিচ তলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার আওয়াতা ভুক্ত সেখানে এই ধরনের ঘটনা একান্তই কাম্য নয়।
ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের নির্বিকারতা ও নিরাপত্তা প্রদানে অপারগতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, চলছে আলোচনা সমালোচনা সহ বিরূপ মন্তব্য । এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতি পূরণের দাবি করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।