১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

নাটোরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

নাটোরে বন্যার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত একদিনের ব্যবধানে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে, পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে বেশ কয়েকটি পাকা সড়ক। এছাড়া জেলার সিংড়া , গুরুদাসপুর ও নলডাঙ্গা উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছেন বন্যা কবলিত এলাকার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।এসব দুর্গত এলাকার মানুষ ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে । এনিয়ে জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মাঠে কাজ করছেন ।

এদিকে বন্যার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির ফলে নদ-নদী সহ চলনবিল ও হালতিবিলে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সবজি ক্ষেত, রোপা আমনের ক্ষেত এবং ভেসে গেছে কয়েক হাজার পুকুরের মাছ। পুকুর মালিকরা প্রানপন চেষ্টা করেও মাছ রক্ষা করতে পারছেন না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মাছ চাষী ও কৃষকরা। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সকালে আত্রাই নদীর সিংড়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। গতকাল বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) একই সময়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার হার ছিল ১০৫ সেন্টিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে সমস্ত সড়ক ভেঙে গেছে তা মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোার বিভিন্ন স্থানে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। আর বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দি মানুষগুলোকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে আজ সকালে তাজপুর- হিয়াতপুর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া সিংড়ার সাথে তাজপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল জব্বার জানান, সারারাত পরিশ্রম করে দুটি বাঁধ রক্ষা করেছেন। ভোর বেলায় বাসায় চলে যাওয়ার পর খবর খবর পান তাজপুর- হিয়াতপুর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।।

সিংড়ার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, বন্যার পানির তোরে বৃহস্পতিবার সকালে সিংড়া পৌরসভার ভেতরে কলম -সিংড়া সড়কের শোলাকুরা এলাকায় পাকা সড়ক ভেঙে গেছে । এতে বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আত্রাই নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে । ফলে এ নদীর ধারে অবস্থিত সিংড়া পৌর এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে প্লাবিত হচ্ছে । তাই বন্যার কবল থেকে পৌরশহরকে রক্ষা করতে হলে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্রাই নদীতে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পেতে রাখা সুঁতি জালের কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানি উপচে পড়ে নদীর দুই ধারে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে একদিকে চলন বিলের নির্মিত বাঁধ গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে, অপরদিকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার এসব সুঁতি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অপসারণ করা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তারা পুনরায় সুঁতি জালের স্থাপনা নির্মাণ করে মাছ শিকার করছেন । এসব কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে । তাদের অভিযোগ গুটি কয়েক মানুষের জন্য এলাকার কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ২৪ ঘন্টার মধ্যে এসব সুঁতি জাল ও স্থাপনাা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তা না করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

নাটোরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

প্রকাশিত : ০৪:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২০

নাটোরে বন্যার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত একদিনের ব্যবধানে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে, পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে বেশ কয়েকটি পাকা সড়ক। এছাড়া জেলার সিংড়া , গুরুদাসপুর ও নলডাঙ্গা উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছেন বন্যা কবলিত এলাকার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।এসব দুর্গত এলাকার মানুষ ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে । এনিয়ে জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মাঠে কাজ করছেন ।

এদিকে বন্যার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির ফলে নদ-নদী সহ চলনবিল ও হালতিবিলে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সবজি ক্ষেত, রোপা আমনের ক্ষেত এবং ভেসে গেছে কয়েক হাজার পুকুরের মাছ। পুকুর মালিকরা প্রানপন চেষ্টা করেও মাছ রক্ষা করতে পারছেন না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মাছ চাষী ও কৃষকরা। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সকালে আত্রাই নদীর সিংড়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। গতকাল বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) একই সময়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার হার ছিল ১০৫ সেন্টিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে সমস্ত সড়ক ভেঙে গেছে তা মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোার বিভিন্ন স্থানে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। আর বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দি মানুষগুলোকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে আজ সকালে তাজপুর- হিয়াতপুর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া সিংড়ার সাথে তাজপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল জব্বার জানান, সারারাত পরিশ্রম করে দুটি বাঁধ রক্ষা করেছেন। ভোর বেলায় বাসায় চলে যাওয়ার পর খবর খবর পান তাজপুর- হিয়াতপুর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।।

সিংড়ার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, বন্যার পানির তোরে বৃহস্পতিবার সকালে সিংড়া পৌরসভার ভেতরে কলম -সিংড়া সড়কের শোলাকুরা এলাকায় পাকা সড়ক ভেঙে গেছে । এতে বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আত্রাই নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে । ফলে এ নদীর ধারে অবস্থিত সিংড়া পৌর এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে প্লাবিত হচ্ছে । তাই বন্যার কবল থেকে পৌরশহরকে রক্ষা করতে হলে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্রাই নদীতে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পেতে রাখা সুঁতি জালের কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানি উপচে পড়ে নদীর দুই ধারে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে একদিকে চলন বিলের নির্মিত বাঁধ গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে, অপরদিকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার এসব সুঁতি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অপসারণ করা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তারা পুনরায় সুঁতি জালের স্থাপনা নির্মাণ করে মাছ শিকার করছেন । এসব কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে । তাদের অভিযোগ গুটি কয়েক মানুষের জন্য এলাকার কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ২৪ ঘন্টার মধ্যে এসব সুঁতি জাল ও স্থাপনাা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তা না করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর