তিন দিন আগে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কর্মচারীদের মারধরে নিহত পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ও গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। তাদের কাছে ছেলে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজুদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে এই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রাস্তায় নেমেছে গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষ।
গতকাল বুধবার সকালে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার গাজীপুর নগরের বরুদা এলাকার বাড়িতে যান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। তিনি সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাসহ অনেকের চোখ ছল ছল করতে দেখা যায়। পরে স্বজনদের আনিসুল করিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন ডিসি হারুন।
তিনি ছাড়াও নিহতের ব্যাচমেট ও ৩১তম বিসিএসের ৩০ জনের অধিক পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমানত হোসেন খান ও গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রীনা পারভীন। পরে তারা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে গিয়ে নিহতের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত করেন।
পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে, এটি একটি হত্যাকান্ড। আমরা এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছি। যেই হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে সেটির কোনও অনুমোদন নেই। চিকিৎসার নামে যারা মারধর করেছে, তারা কেউ চিকিৎসক নয়; এরা ওয়ার্ডবয় ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। আমরা চাই এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে আর কোনও মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।
এর আগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার নিহত এএসপি আনিসুল করিম শিপনের বাসায় গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন এসপি নিজেও আবেক আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার সঙ্গে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ রাসেল শেখ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জহিরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিন সকালে নিহত পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে ও নিহতের বাসার পার্শ্ববর্তী হাড়িনাল সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমানত হোসেন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাদী শামীম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়র্ডের কাউন্সিলর হাসান আজমল ভ‚ইয়া, নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার, নিহত আনিসুলের সহপাঠী রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০০ ব্যাচের সহপাঠীসহ গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।


















