কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বন্দর চালু হবে ২০২৬ সালে। সেখানে ভিড়বে মাদারভেসেল বা বড় জাহাজ।
তারপর ফিডার ভেসেল বা ছোট ছোট জাহাজে পণ্য, কনটেইনার চলে আসবে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দরে।
ট্রানজিট সুবিধায় ভারতের ‘ল্যান্ডলক’ এরিয়া বা সেভেন সিস্টার্স এবং নেপাল, ভুটানে চলে যাবে কনটেইনার বা আমদানি পণ্য। এখানেই শেষ নয়, সিঙ্গাপুরের চেয়ে কম দূরত্বের মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দরের অবস্থান হওয়ায় এর সুবিধা পাবে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরও।
সব মিলিয়ে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণ, সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) হাতছানি কাজে লাগানোর দূরদর্শিতার কারণে মাতারবাড়ী বন্দর হবে মেরিটাইম ওয়ার্ডের নতুন গন্তব্য।
অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৪ মিটারের বেশি ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) জাহাজ ভিড়লেই গভীর সমুদ্রবন্দর বলা হয়। আমাদের সোনাদিয়াতে সত্যিকারের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সুযোগ ছিল। ২০১৪ সালে এটি নির্মাণে চীনের সঙ্গে এমওইউ হওয়ার কথা ছিল। কিছুটা দেরিতে হলেও জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ীতে মাদার ভেসেল ভিড়ানোর উপযোগী বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও শুরুতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাঁচামালের জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বন্দরটির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
যদি এ বন্দরটি পাঁচ-ছয় বছর পর অপারেশনে যায় তবে শুধু বাংলাদেশের তিনটি বন্দর নয়, উপকৃত হবে ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্য খ্যাত ল্যান্ডলক এরিয়া আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা এমনকি নেপাল, ভুটানও। সবচেয়ে বড় কথা, সিঙ্গাপুরের চেয়ে কম দূরত্বে থাকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর কেন্দ্রিক ফিডার জাহাজগুলো মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।




















