০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। ঢাকায় সফররত রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির ডেপুটি কৃষিমিন্ত্রী লেভিন সার্গেই ইভোভিস এর কাছে এই সুবিধা দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন লেভিন সার্গেই ইভোভিস ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হওয়ার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সমর্থনের আশায় সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীকে লেভিন সার্গেই ইভোভিস জানান, তার দেশ ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে চায়। এ জন্য বাংলাদেশের সমর্থন তাদের দরকার হবে।

প্রত্যাশিত বক্তব্যের পর বাণিজ্যমন্ত্রী লেভিন সার্গেই ইভোভিসকে বলেন, আপনাদের দেশের সঙ্গে আমাদের সব রকম সম্পর্কই ভালো। রাশিয়ায় এখন ৭১টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। মন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা আছে রাশিয়ায়। কিন্তু সেখানে এই পণ্যটির শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নেই। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে দুই দেশের বাণিজ্যসম্পর্ক আরও গাঢ় হবে।

রাশিয়াকে ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে বাংলাদেশ সমর্থন দেবে কিনা?-এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেটা আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা তাদের কাছে কিছু বিষয় চেয়েছি। দেখা যাক কী হয়। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জটিলতা দূর করতে বাংলাদেশ কিছুদিন আগে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সদস্য হতে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ এ কমিশনের সদস্য পদ লাভ করবে। তখন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করতে কোন জটিলতা থাকবে না।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু। বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়া বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে থাকে। রাশিয়া বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি দেশে সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগ। এখানে ২ হাজার ৪ শত মে. ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। আগামী ২০২৪ সালে এটি চালু হবে।

তিনি বলেন, রাশিয়ায় বাংলাদেশের উৎপাদিত আলুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রাশিয়ায় আলু রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৪৬৪.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৩৭.১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। রপ্তানি বাণিজ্যে জটিলতা দূর হলে রাশিয়া বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার হবে। মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সও কিন্তু আমাদের সমর্থন চেয়েছে। তাদের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ঘুরে গেছে।

উল্লেখ, ফ্রান্স সরকারের পরামর্শক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-র সাবেক মহাপরিচালক ড. প্যাসকেল ল্যামি ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো প্যারিসে আয়োজনের জন্য ভোটাভুটিতে গত মাসেই বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে গেছেন। রাশিয়া ও ফ্রান্স ছাড়া আজারবাইজান এবং জাপানও ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে চায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৯:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। ঢাকায় সফররত রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির ডেপুটি কৃষিমিন্ত্রী লেভিন সার্গেই ইভোভিস এর কাছে এই সুবিধা দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন লেভিন সার্গেই ইভোভিস ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হওয়ার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সমর্থনের আশায় সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীকে লেভিন সার্গেই ইভোভিস জানান, তার দেশ ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে চায়। এ জন্য বাংলাদেশের সমর্থন তাদের দরকার হবে।

প্রত্যাশিত বক্তব্যের পর বাণিজ্যমন্ত্রী লেভিন সার্গেই ইভোভিসকে বলেন, আপনাদের দেশের সঙ্গে আমাদের সব রকম সম্পর্কই ভালো। রাশিয়ায় এখন ৭১টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। মন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা আছে রাশিয়ায়। কিন্তু সেখানে এই পণ্যটির শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নেই। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে দুই দেশের বাণিজ্যসম্পর্ক আরও গাঢ় হবে।

রাশিয়াকে ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে বাংলাদেশ সমর্থন দেবে কিনা?-এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেটা আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা তাদের কাছে কিছু বিষয় চেয়েছি। দেখা যাক কী হয়। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জটিলতা দূর করতে বাংলাদেশ কিছুদিন আগে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সদস্য হতে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ এ কমিশনের সদস্য পদ লাভ করবে। তখন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করতে কোন জটিলতা থাকবে না।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু। বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়া বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে থাকে। রাশিয়া বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি দেশে সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগ। এখানে ২ হাজার ৪ শত মে. ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। আগামী ২০২৪ সালে এটি চালু হবে।

তিনি বলেন, রাশিয়ায় বাংলাদেশের উৎপাদিত আলুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রাশিয়ায় আলু রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৪৬৪.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৩৭.১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। রপ্তানি বাণিজ্যে জটিলতা দূর হলে রাশিয়া বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার হবে। মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সও কিন্তু আমাদের সমর্থন চেয়েছে। তাদের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ঘুরে গেছে।

উল্লেখ, ফ্রান্স সরকারের পরামর্শক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-র সাবেক মহাপরিচালক ড. প্যাসকেল ল্যামি ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো প্যারিসে আয়োজনের জন্য ভোটাভুটিতে গত মাসেই বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে গেছেন। রাশিয়া ও ফ্রান্স ছাড়া আজারবাইজান এবং জাপানও ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে চায়।