০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ধন্যবাদ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করার ‘বিচক্ষণ ও দৃঢ়’ পদক্ষেপ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

শুক্রবার ভাসানচরে সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচ স্থানান্তরের পর মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব নেতৃত্ব ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলো মিয়ানমারের নিপীড়িত জনগণের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলেও তারা বারবার বিবৃতি দিচ্ছে। তারা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে যাচ্ছে। তাদের (রোহিঙ্গা) স্থানান্তর বা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে কেউই এগিয়ে আসেনি।

তিনি বলেন, কুতুপালংয়ের উপচেপড়া জনাকীর্ণ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি ধস এবং অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে মৃত্যু ও দুর্ঘটনা এড়াতে এবং আরও উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা করতে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাছাড়া সেখানে (কুতুপালং) মাদক ব্যবসার প্রসার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও ঘটছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গা শিবির বা ভাসানচরের সুবিধা নিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের কাছে যাওয়ার সাহস বা আন্তরিকতা কারও নেই।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন সত্ত্বেও দেশটিতে ইউরোপিয়ান, আসিয়ান, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কোনোটিই মিয়ানমারে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে না, ঠিক যেমনটি করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদীদের ক্ষেত্রে।বাস্তবতা হল- রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং তারাই কেবল এর সমাধান করতে পারে বলে উল্লেখ করেন ড. মোমেন।

যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট সমাধানের জন্য অর্থবহ উপায়ে মিয়ানমারের কাছে যাওয়ার জন্য নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করতে বিশ্বের সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ধন্যবাদ

প্রকাশিত : ০১:১৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করার ‘বিচক্ষণ ও দৃঢ়’ পদক্ষেপ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

শুক্রবার ভাসানচরে সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচ স্থানান্তরের পর মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব নেতৃত্ব ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলো মিয়ানমারের নিপীড়িত জনগণের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলেও তারা বারবার বিবৃতি দিচ্ছে। তারা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে যাচ্ছে। তাদের (রোহিঙ্গা) স্থানান্তর বা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে কেউই এগিয়ে আসেনি।

তিনি বলেন, কুতুপালংয়ের উপচেপড়া জনাকীর্ণ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি ধস এবং অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে মৃত্যু ও দুর্ঘটনা এড়াতে এবং আরও উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা করতে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাছাড়া সেখানে (কুতুপালং) মাদক ব্যবসার প্রসার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও ঘটছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গা শিবির বা ভাসানচরের সুবিধা নিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের কাছে যাওয়ার সাহস বা আন্তরিকতা কারও নেই।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন সত্ত্বেও দেশটিতে ইউরোপিয়ান, আসিয়ান, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কোনোটিই মিয়ানমারে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে না, ঠিক যেমনটি করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদীদের ক্ষেত্রে।বাস্তবতা হল- রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং তারাই কেবল এর সমাধান করতে পারে বলে উল্লেখ করেন ড. মোমেন।

যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট সমাধানের জন্য অর্থবহ উপায়ে মিয়ানমারের কাছে যাওয়ার জন্য নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করতে বিশ্বের সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর