১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ক্র্যাশ প্রোগ্রামে নামছেন সাঈদ খোকন

মাদক নিয়ন্ত্রণে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বুধবার নগর ভবনে ১২তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। রাজধানীতে মাদকের ব্যাপকতা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাধকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

মেয়র জানান, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহ মাদকের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করবে ডিএসসিসি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক স্পটসহ ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা করা হবে। এর পরের এক সপ্তাহের মধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কাউন্সিলরকে তা দেওয়ার অনুরোধ জানান সাঈদ খোকন।

সভায় মাদকবিরোধী ক্র্যাশ প্রোগ্রামে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন জাতীয় দুটি সমস্যা। একটি হলো জঙ্গি, অন্যটি মাদক। সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে মাদক। সেই মাদক রাজধানীতে আসছে অনেক ধাপ পেরিয়ে।

ঢাকায় মাদক আসার আগে তা রোধ করার ব্যাপারেই বেশি সচেতন হতে হবে।’ ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য, ‘মাদকের ভয়াবহতার বিষয়ে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওগুলোকে প্রচারণা চালাতে হবে, যেন ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাহলে মাদক থেকে আমাদের মুক্তি মিলতে পারে।’ অনুষ্ঠানের শুরুতে মেয়র সাঈদ খোকন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও রাজধানীতে যানজট নিরসনের বিষয়ে আলোচনা সভায় গুরুত্বরোপ করেন ও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহীম। তার কথায়, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মাধ্যমে আইনের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বারবার অভিযান চালিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না।’ মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে সুপারিশ রেখেছেন লালবাগ জোনের ডিসি।

তিনি বলেন, ‘মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলদের সঙ্গে নিয়ে আইনজীবী ও বিচারপতিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো উচিত।’ এ প্রসঙ্গে মাদক নিরাময় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. অরুপ রতন চৌধুরীর পরামর্শ, ‘ছেলেদের তুলনায় বর্তমানে মেয়েরা ইয়াবায় বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন মেয়েদের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি দু’জনকে মাদকাসক্ত করে তোলে। আর মাদকসেবন হলো একটি রোগ। শুধু আটক করে নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে মাদক নিরাময় করতে হবে।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ক্র্যাশ প্রোগ্রামে নামছেন সাঈদ খোকন

প্রকাশিত : ০৯:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

মাদক নিয়ন্ত্রণে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বুধবার নগর ভবনে ১২তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। রাজধানীতে মাদকের ব্যাপকতা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাধকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

মেয়র জানান, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহ মাদকের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করবে ডিএসসিসি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক স্পটসহ ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা করা হবে। এর পরের এক সপ্তাহের মধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কাউন্সিলরকে তা দেওয়ার অনুরোধ জানান সাঈদ খোকন।

সভায় মাদকবিরোধী ক্র্যাশ প্রোগ্রামে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন জাতীয় দুটি সমস্যা। একটি হলো জঙ্গি, অন্যটি মাদক। সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে মাদক। সেই মাদক রাজধানীতে আসছে অনেক ধাপ পেরিয়ে।

ঢাকায় মাদক আসার আগে তা রোধ করার ব্যাপারেই বেশি সচেতন হতে হবে।’ ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য, ‘মাদকের ভয়াবহতার বিষয়ে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওগুলোকে প্রচারণা চালাতে হবে, যেন ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাহলে মাদক থেকে আমাদের মুক্তি মিলতে পারে।’ অনুষ্ঠানের শুরুতে মেয়র সাঈদ খোকন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও রাজধানীতে যানজট নিরসনের বিষয়ে আলোচনা সভায় গুরুত্বরোপ করেন ও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহীম। তার কথায়, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মাধ্যমে আইনের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বারবার অভিযান চালিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না।’ মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে সুপারিশ রেখেছেন লালবাগ জোনের ডিসি।

তিনি বলেন, ‘মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলদের সঙ্গে নিয়ে আইনজীবী ও বিচারপতিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো উচিত।’ এ প্রসঙ্গে মাদক নিরাময় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. অরুপ রতন চৌধুরীর পরামর্শ, ‘ছেলেদের তুলনায় বর্তমানে মেয়েরা ইয়াবায় বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন মেয়েদের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি দু’জনকে মাদকাসক্ত করে তোলে। আর মাদকসেবন হলো একটি রোগ। শুধু আটক করে নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে মাদক নিরাময় করতে হবে।’