১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাবির উপাচার্যের উপর হামলা: প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের উপর হামলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উপর শারীরিক নির্যাতন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা এবং শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ঢাবির সচেতন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাবির টিএসসির রাজু ভাস্কার্যের সামনে এ মানববন্ধন শুরু করে সচেতন শিক্ষার্থীরা।

সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, যারা ঢাবির অভিভাবক উপাচার্যকে অপদস্থ করেছে, ছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছে, ভাঙচুর করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে তাদের অচিরেই বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।

সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এছাড়া ঢাবির টিএসসিভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ডিবেটিং সোসাইটি, আইটি সোসাইটি, ব্যান্ড সোসাইটি, কালচারার সোসাইটি, ফিল্ম সোসাইটু, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, স্লোগান ৭১সহ আরো কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবন্দ।

মানববন্ধনের প্রধান সমন্বয়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী। আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাসী, প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষে। কিন্তু যারা পিতৃসমতুল্য ভিসিকে লাঞ্ছিত করেছে, ভাঙচুর করেছে, ছাত্রী নির্যাতন করেছে, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন। তারা যতবড় শক্তিশালী আর যে দলেরই হোক না কেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তাদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাবে।

26993787_1019729498167916_9081430962444870081_n

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশকারী ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বোকা বানিয়ে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরকে সাথে নিয়ে প্রক্টরের সাথে অশুভ আচরণ করেছে, ভিসির উপর হামলা করেছে, ছাত্রীদের নির্যাতন করেছে, সেইসব নিপীড়কদের ঢাবি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক এ আন্দোলনে ঢাবি ছাত্রলীগ সবসময় পাশে থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

২৯ জানুয়ারি বামসংগঠনগুলো সারাদেশে ধর্মঘট ডাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, একদিকে বামসংগঠনগুলো ভিসিকে লাঞ্চিত করেছে, অন্যদিকে তারা আবার ধর্মঘট ডেকেছে। তাহলে সেটা কতটা অযৌক্তক! আজকে ছাত্রসমাজ যদি এ ধর্মঘটে যৌক্তিকতা খুঁজে পায় তাহলে তারা সমর্থন করবে। আর যদি এ ধর্মঘটে যৌক্তিকতা না থাকে তাহলে সাধারণ ছাত্ররাই এটাকে প্রতিহত করবে।

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাবি ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নোমান সুমন বলেন, নিজেদের অভিভাবকে লাঞ্চিত করে, ভাঙচুর করে, ছাত্রী নির্যাতন করে এটা আবার কিসের আন্দোলন? এসব কুলাঙ্গারদের সাথে তারা সহপাঠী হিসেবে পড়তে চায় না। অচিরেই তাদের বহিষ্কার করে ঢাবিকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক।

মানববন্ধনটি সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান সমন্বয়ক বেনজির বলেন, আজ রাতে বসে তারা পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী নামে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিসি কার্যালয়ের তিনটি ফটক ভেঙ্গে সেখানে অবস্থান করে। ভিসি কথা বলতে এলে তারা ভিসিকে অপদস্থ করে। এমনকি তানভীর আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভিসির গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠে। আর এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে অবরুদ্ধ ভিসিকে রক্ষা করে।

আর এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করার পর আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

ঢাবির উপাচার্যের উপর হামলা: প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত : ০৩:০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের উপর হামলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উপর শারীরিক নির্যাতন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা এবং শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ঢাবির সচেতন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাবির টিএসসির রাজু ভাস্কার্যের সামনে এ মানববন্ধন শুরু করে সচেতন শিক্ষার্থীরা।

সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, যারা ঢাবির অভিভাবক উপাচার্যকে অপদস্থ করেছে, ছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছে, ভাঙচুর করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে তাদের অচিরেই বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।

সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এছাড়া ঢাবির টিএসসিভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ডিবেটিং সোসাইটি, আইটি সোসাইটি, ব্যান্ড সোসাইটি, কালচারার সোসাইটি, ফিল্ম সোসাইটু, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, স্লোগান ৭১সহ আরো কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবন্দ।

মানববন্ধনের প্রধান সমন্বয়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী। আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাসী, প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষে। কিন্তু যারা পিতৃসমতুল্য ভিসিকে লাঞ্ছিত করেছে, ভাঙচুর করেছে, ছাত্রী নির্যাতন করেছে, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন। তারা যতবড় শক্তিশালী আর যে দলেরই হোক না কেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তাদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাবে।

26993787_1019729498167916_9081430962444870081_n

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশকারী ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বোকা বানিয়ে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরকে সাথে নিয়ে প্রক্টরের সাথে অশুভ আচরণ করেছে, ভিসির উপর হামলা করেছে, ছাত্রীদের নির্যাতন করেছে, সেইসব নিপীড়কদের ঢাবি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক এ আন্দোলনে ঢাবি ছাত্রলীগ সবসময় পাশে থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

২৯ জানুয়ারি বামসংগঠনগুলো সারাদেশে ধর্মঘট ডাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, একদিকে বামসংগঠনগুলো ভিসিকে লাঞ্চিত করেছে, অন্যদিকে তারা আবার ধর্মঘট ডেকেছে। তাহলে সেটা কতটা অযৌক্তক! আজকে ছাত্রসমাজ যদি এ ধর্মঘটে যৌক্তিকতা খুঁজে পায় তাহলে তারা সমর্থন করবে। আর যদি এ ধর্মঘটে যৌক্তিকতা না থাকে তাহলে সাধারণ ছাত্ররাই এটাকে প্রতিহত করবে।

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাবি ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নোমান সুমন বলেন, নিজেদের অভিভাবকে লাঞ্চিত করে, ভাঙচুর করে, ছাত্রী নির্যাতন করে এটা আবার কিসের আন্দোলন? এসব কুলাঙ্গারদের সাথে তারা সহপাঠী হিসেবে পড়তে চায় না। অচিরেই তাদের বহিষ্কার করে ঢাবিকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক।

মানববন্ধনটি সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান সমন্বয়ক বেনজির বলেন, আজ রাতে বসে তারা পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী নামে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিসি কার্যালয়ের তিনটি ফটক ভেঙ্গে সেখানে অবস্থান করে। ভিসি কথা বলতে এলে তারা ভিসিকে অপদস্থ করে। এমনকি তানভীর আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভিসির গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠে। আর এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে অবরুদ্ধ ভিসিকে রক্ষা করে।

আর এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করার পর আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে।