পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয় একটি সম্ভাবনার নাম। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন জীবিকায় আনবে জাদুকরি পরিবর্তন। বলা হচ্ছে অন্তত দেড় থেকে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করবে বাংলাদেশের ঝুলিতে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সেতু চালু হওয়ার আগেই পদ্মার দুই পাড় ঘিরে বিনিয়োগের পরিকল্পনা জরুরি বলে জানান অর্থনীতিবিদরা।
৮০ বছর বয়সী পদ্মাপাড়ের আবুল মোল্লা জানেন না প্রবৃদ্ধির জটিল হিসাব-নিকাশ। তবে যে পদ্মার ভাঙন দেখে বড় হয়েছেন সেই পদ্মার ওপরের একটি সেতু যে মানুষের জীবন-জীবিকা বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তাতে তিনিও আশান্বিত। যাদের ভিটেমাটির ওপর দিয়ে গড়ে উঠেছে সেতু, পরিবর্তন তাদেরও প্রশান্তি দেয়।
আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, এখন রাস্তাঘাট ক্লিয়ার হয়ে গেছে। দেখে ভালো লাগছে, পদ্মা সেতু হচ্ছে।
পদ্মা সেতু, পায়রা ও মোংলা বন্দরের পাশাপাশি রেললাইন, বিমানবন্দর, মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, শিল্পায়নের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল। এসব নিয়ে করা হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান। উদ্দেশ্য অর্থনীতির গতিবৃদ্ধি, দক্ষিণে প্রবৃদ্ধির সুবাতাস ছড়িয়ে দেওয়া।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ মান্নান বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে দক্ষিণবঙ্গের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ঘটবে। একই সঙ্গে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-পায়রার চারলেন হতেই হবে।
বিনিয়োগ বাণিজ্যে গতি আনতে সরকারের মহাপরিকল্পানায় পালে হাওয়া লেগেছে ব্যবসায়ীদের। পদ্মার দুই পাড়ে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত তারা।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের একটি প্রভাব ফেলবে এই কমিউনিকেশনের এই প্রজেক্ট।
বছরের পর বছর দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায়। নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা। তবে এখন সেতু ঘিরে যে স্বপ্নের জাল বুনেছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসী, তার পূর্ণ সুফল পেতে প্রয়োজন কর্মমুখী পরিকল্পনার।
অর্থনীতিবিদ ডা. নাজনীন আহমেদ বলেন, পদ্মার দুই পাড়কে ঘিরে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হবে। ইতিমধ্যে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোতে হবে।
সব স্প্যান বসানো শেষে চলছে রোড ও রেলস্ল্যাব বসানোর কাজ। এখন যান চলার ক্ষণগণনা। কখনো প্রমত্তা কখনো সর্বনাশা পদ্মা। এই নাম ছাপিয়ে হাজার বছরের পদ্মার দুই প্রান্ত এক করে একটি সেতু আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। গর্বের এই আশীর্বাদ বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে বহু দূর। সমৃদ্ধির পথে এই অগ্রযাত্রায় বিজয়ের মাসে শুভকামনা বাংলাদেশ।





















