ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ঢাকায় পৌঁছেছেন। শনিবার বিকাল পৌনে ৪টা ৩৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
উইদোদো বিমানবন্দরে পৌঁছেলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা আর তোপধ্বনির উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে দুই দিনের এই সফরে এলেন তিনি।
বিমান থেকে নেমে আসার সময় ২১ বার তোপধ্বনিতে তাদেরকে স্বাগত জানানো হয়। দুটি শিশু ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও ফার্স্ট লেডিকে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ইউন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে মঞ্চে আসার পর দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে সফররত রাষ্ট্রপ্রধান গার্ড পরিদর্শন করেন।
গার্ড পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচিত হন উইদোদো।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকায় ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ওপরে এবং সামনে দুই দেশের পতাকা দেখা যায়। এছাড়া ভিভিআইপি টার্মিনালের দুই পাশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ ও উইদোদোর দুটি বড় ছবি স্থাপন করা হয়েছে।
সফরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং মিয়ানমারে তাদের ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের কথা শুনবেন।
লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা দিয়ে যে ভূমিকা বাংলাদেশ রেখেছে, তার প্রতি সংহতি জানিয়ে গত সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদিকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো।
কক্সবাজার রওনা হওয়ার আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
দেশটির জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অরচন্দ্র তাহার সম্প্রতি জাকার্তায় সাংবাদিকদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর এবারের বাংলাদেশ সফরে ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির একটি চুক্তি হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়, যেখানে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানির পরিমাণই ছিল ১.১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

























