০২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

আজ রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো  । শনিবার দু’দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসেছেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসেন তিনি ।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

তিনি বলেন, এ সফরের ফাঁকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অমানবিক রাষ্ট্রীয় আচরণ রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় ভিকটিম হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিতদের দেখতে দুপুরের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন তিনি। সেজন্য কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে শুরু করে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে কোটবাজার ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানাতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশসহ (ডিআইজি) পদস্থ কর্মকর্তারা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে আসছেন ফার্স্ট লেডি ইরিয়ান জোকো উইদোদোসহ একাধিক মন্ত্রী। এ ছাড়া একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী দল তার সঙ্গে রয়েছে।

জোকো উইদোদো রোববার কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর দিকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমারের বেশ সুসম্পর্ক। ইন্দোনেশিয়াই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানে মিয়ানমারকে সদস্য করেছিল। তাই রোহিঙ্গা সংকটকালে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পাওে এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি ইন্দোনেশিয়া। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রবল জনমত রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদোর বাংলাদেশ সফর আয়োজনের প্রথমদিকে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার কোনো কর্মসূচি ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে জনমতের চাপের কথা বিবেচনা করে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাকার্তা তার প্রথমদিকের অবস্থানে খানিকটা পরিবর্তন করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত : ০৯:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৮

আজ রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো  । শনিবার দু’দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসেছেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসেন তিনি ।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

তিনি বলেন, এ সফরের ফাঁকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অমানবিক রাষ্ট্রীয় আচরণ রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় ভিকটিম হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিতদের দেখতে দুপুরের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন তিনি। সেজন্য কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে শুরু করে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে কোটবাজার ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানাতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশসহ (ডিআইজি) পদস্থ কর্মকর্তারা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে আসছেন ফার্স্ট লেডি ইরিয়ান জোকো উইদোদোসহ একাধিক মন্ত্রী। এ ছাড়া একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী দল তার সঙ্গে রয়েছে।

জোকো উইদোদো রোববার কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর দিকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমারের বেশ সুসম্পর্ক। ইন্দোনেশিয়াই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানে মিয়ানমারকে সদস্য করেছিল। তাই রোহিঙ্গা সংকটকালে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পাওে এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি ইন্দোনেশিয়া। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রবল জনমত রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদোর বাংলাদেশ সফর আয়োজনের প্রথমদিকে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার কোনো কর্মসূচি ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে জনমতের চাপের কথা বিবেচনা করে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাকার্তা তার প্রথমদিকের অবস্থানে খানিকটা পরিবর্তন করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।