১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বছরে জিডিপিতে যোগ হবে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠা পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ চারটি আলোচিত মেগা প্রকল্প ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন হচ্ছে- এমনটা জানিয়েছেন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসব প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রক্ষেপন বিবেচনায় নিলে, এই চারটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর যুক্ত হবে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।

রবিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে প্রেস ব্রিফিংকালে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের যে দায়িত্বটি আমি পালন করছি সেখানে তিনটি মেগা প্রজেক্ট আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে। সবগুলো আগামী বছর উদ্বোধন করতে পারব, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

সরকারি এবং বেসরকারি গবেষণাপত্রগুলো বলছে, পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’তে বছরে দুই শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি যুক্ত হবে। ঢাকা মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলে যুক্ত হবে দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে অর্থনীতিতে যুক্ত হবে আরও প্রায় এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি। চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতিতে যুক্ত হবে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যা বাংলাদেশের জিডিপি’কে স্বপ্নের ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি’র (নমিনাল) আকার প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ২৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এই চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতিতে সাড়ে চার শতাংশ জিডিপি যুক্ত হবে। এই হিসাবে প্রতিবছর জিডিপি’তে যুক্ত হবে ১ লাখ ২২ হাজার ৪শ কোটি টাকা। সরকারি প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প চারটির কাজ শেষ হলে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকেই অর্থনীতিতে ব্যাপক গতি আসবে। ওই অর্থবছর থেকেই বাংলাদেশের চলমান জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হবে আরও সাড়ে চার শতাংশ বাড়তি প্রবৃদ্ধি। এর মাধ্যমে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের কাছে চলে যাবে বাংলাদেশ এমনটাই আশা করছেন অর্থনীতিবিদগণ।

রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে মানুষকে কী দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন। ইশতেহারে যে প্রতিশ্রতি দিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়ন মূল চ্যালেঞ্জ। করোনা সারাবিশ্বকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একদিকে করোনা মোকাবিলা করছি এবং অর্থনীতি সচল রেখেছি। ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ জায়গায় আছে। সবদিক থেকে আমরা আগাচ্ছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে আগাচ্ছি। করোনার জন্য অনেকে কাজ হারিয়েছে বেকার হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন করা এবং কাজ দেয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের ইশতেহারে আছে বেকারদের কর্মসংস্থান।

‘পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত আছে, সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন। ভ্যাকসিনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন- জানুয়ারির শেষনাগাদ ভ্যাকসিন আসতে পারে। একটি সরকার এত বছর ধরে ক্ষমতায় আছে, ফলে অসম্পূর্ণ কাজ করতে পারছে। আমাদের দেশে এক সরকার গেলে অন্য সরকার সেটি বাতিল করে। এমনও হতে পারে আওয়ামী লীগ করেছে বলে পদ্মা সেতু ভেঙে দেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় থাকতে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ (রবিবার) সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিচারণ করছি। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল ছিলেন, তিনি দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন আমি আজ তাকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ অসুস্থ, তিনি আমার এলাকার মানুষ। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

বছরে জিডিপিতে যোগ হবে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ০৮:১৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ জানুয়ারী ২০২১

বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠা পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ চারটি আলোচিত মেগা প্রকল্প ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন হচ্ছে- এমনটা জানিয়েছেন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসব প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রক্ষেপন বিবেচনায় নিলে, এই চারটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর যুক্ত হবে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।

রবিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে প্রেস ব্রিফিংকালে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের যে দায়িত্বটি আমি পালন করছি সেখানে তিনটি মেগা প্রজেক্ট আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে। সবগুলো আগামী বছর উদ্বোধন করতে পারব, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

সরকারি এবং বেসরকারি গবেষণাপত্রগুলো বলছে, পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’তে বছরে দুই শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি যুক্ত হবে। ঢাকা মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলে যুক্ত হবে দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে অর্থনীতিতে যুক্ত হবে আরও প্রায় এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি। চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতিতে যুক্ত হবে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যা বাংলাদেশের জিডিপি’কে স্বপ্নের ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি’র (নমিনাল) আকার প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ২৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এই চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতিতে সাড়ে চার শতাংশ জিডিপি যুক্ত হবে। এই হিসাবে প্রতিবছর জিডিপি’তে যুক্ত হবে ১ লাখ ২২ হাজার ৪শ কোটি টাকা। সরকারি প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প চারটির কাজ শেষ হলে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকেই অর্থনীতিতে ব্যাপক গতি আসবে। ওই অর্থবছর থেকেই বাংলাদেশের চলমান জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হবে আরও সাড়ে চার শতাংশ বাড়তি প্রবৃদ্ধি। এর মাধ্যমে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের কাছে চলে যাবে বাংলাদেশ এমনটাই আশা করছেন অর্থনীতিবিদগণ।

রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে মানুষকে কী দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন। ইশতেহারে যে প্রতিশ্রতি দিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়ন মূল চ্যালেঞ্জ। করোনা সারাবিশ্বকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একদিকে করোনা মোকাবিলা করছি এবং অর্থনীতি সচল রেখেছি। ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ জায়গায় আছে। সবদিক থেকে আমরা আগাচ্ছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে আগাচ্ছি। করোনার জন্য অনেকে কাজ হারিয়েছে বেকার হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন করা এবং কাজ দেয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের ইশতেহারে আছে বেকারদের কর্মসংস্থান।

‘পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত আছে, সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন। ভ্যাকসিনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন- জানুয়ারির শেষনাগাদ ভ্যাকসিন আসতে পারে। একটি সরকার এত বছর ধরে ক্ষমতায় আছে, ফলে অসম্পূর্ণ কাজ করতে পারছে। আমাদের দেশে এক সরকার গেলে অন্য সরকার সেটি বাতিল করে। এমনও হতে পারে আওয়ামী লীগ করেছে বলে পদ্মা সেতু ভেঙে দেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় থাকতে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ (রবিবার) সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিচারণ করছি। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল ছিলেন, তিনি দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন আমি আজ তাকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ অসুস্থ, তিনি আমার এলাকার মানুষ। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর