১২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

যশোরে এক বছরে ১২০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ১২০ কোটি টাকার মাদক, অস্ত্র, ডলার ও স্বর্ণসহ বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব। এ সময় চোরাচালানে জড়িত ৩৭৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

যশোর ৪৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্তে পাচারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শার্শা-বেনাপোল সীমান্তের কায়বা, রুদ্রপুর, গোগা, অগ্রভুলাট, পাঁচভুলাট, শালকোনা, পাকশিয়া, ডিহি, শিকারপুর, রামচন্দ্রপুর এবং বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা ও ধান্যখোলা সীমান্তের পাচারকারীরা অনেক বেশি সক্রিয়।

শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে এক বছরের পরিসংখ্যানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৩টি বিদেশী পিস্তল, ৪১টি ম্যাগাজিন, ১০৫টি গুলি, প্রায় ৫৫ হাজার ৪৯৮ বোতল ফেনসিডিল, ৯৫৩ কেজি গাঁজা, ৫৫০ বোতল দেশী-বিদেশী মদ ও ১ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪১ দশমিক ৭৭২ কেজি স্বর্ণ ও ৭ লাখ ৩৮ হাজার ডলার জব্দ করা হয়েছে।

বেনাপোল ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার জানান, যেহেতু দেশের অধিকাংশ মাদক বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে, তাই এ সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বিজিবি, পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রম অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গডফাদার যেই জড়িত থাক, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে যে সুপারিশ করবে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা জানান, চোরাচালানের মূল হোতারা স্বর্ণ, অস্ত্র ও মাদকসহ চোরাই পণ্য বহন করে না। এ কারণে তাদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয় না। তবে কোনো কোনো সময় বহনকারীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মূল হোতাদের আটক করে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

উল্লেখ্য, যশোর এলাকায় ভারতের সঙ্গে ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত পথ রয়েছে। সেখানে সীমান্ত রক্ষায় ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছেন পাঁচ শতাধিক বিজিবি সদস্য। বিজিবি সীমান্তে নাইট ভিশন ক্যামেরা, ভাসমান বিওপি, নৌরুটে স্পিডবোটসহ বেশকিছু আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

‘ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে’, ইরানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

যশোরে এক বছরে ১২০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

প্রকাশিত : ০৩:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী ২০২১

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ১২০ কোটি টাকার মাদক, অস্ত্র, ডলার ও স্বর্ণসহ বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব। এ সময় চোরাচালানে জড়িত ৩৭৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

যশোর ৪৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্তে পাচারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শার্শা-বেনাপোল সীমান্তের কায়বা, রুদ্রপুর, গোগা, অগ্রভুলাট, পাঁচভুলাট, শালকোনা, পাকশিয়া, ডিহি, শিকারপুর, রামচন্দ্রপুর এবং বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা ও ধান্যখোলা সীমান্তের পাচারকারীরা অনেক বেশি সক্রিয়।

শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে এক বছরের পরিসংখ্যানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৩টি বিদেশী পিস্তল, ৪১টি ম্যাগাজিন, ১০৫টি গুলি, প্রায় ৫৫ হাজার ৪৯৮ বোতল ফেনসিডিল, ৯৫৩ কেজি গাঁজা, ৫৫০ বোতল দেশী-বিদেশী মদ ও ১ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪১ দশমিক ৭৭২ কেজি স্বর্ণ ও ৭ লাখ ৩৮ হাজার ডলার জব্দ করা হয়েছে।

বেনাপোল ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার জানান, যেহেতু দেশের অধিকাংশ মাদক বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে, তাই এ সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বিজিবি, পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রম অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গডফাদার যেই জড়িত থাক, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে যে সুপারিশ করবে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা জানান, চোরাচালানের মূল হোতারা স্বর্ণ, অস্ত্র ও মাদকসহ চোরাই পণ্য বহন করে না। এ কারণে তাদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয় না। তবে কোনো কোনো সময় বহনকারীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মূল হোতাদের আটক করে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

উল্লেখ্য, যশোর এলাকায় ভারতের সঙ্গে ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত পথ রয়েছে। সেখানে সীমান্ত রক্ষায় ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছেন পাঁচ শতাধিক বিজিবি সদস্য। বিজিবি সীমান্তে নাইট ভিশন ক্যামেরা, ভাসমান বিওপি, নৌরুটে স্পিডবোটসহ বেশকিছু আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান