০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মৃত্যুশয্যায় পুলিশের নির্যাতনের কথা বলেছিলেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজা

বরিশালে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় নির্যাতনের কথা বলে গেছেন তিনি।

রেজার স্ত্রী মারুফা আক্তার দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্যাতনের কথা জানিয়েছে রেজাউল। এসআই মহিউদ্দিন ওই নির্যাতন চালায় বলে মৃত্যু শয্যায় তিনি জানিয়েছিলেন।

এদিকে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলা করেন নিহত রেজাউলের পিতা ইউনুস মিয়া।

মামলায় ডিবির এসআই মহিউদ্দিন মাহীসহ ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর রাতে এই মহিউদ্দিন নগরের সাগরদী ধান গবেষণা এলাকা থেকে রেজাউলকে গ্রেফতার করেছিল।

এসআই মহিউদ্দিনকে ডিবি থেকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ক্লোজ এর চিঠি ইস্যু হলেও পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানিয়েছেন, ‘যেহেতু অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং অভিযোগটি তারই বিরুদ্ধে তাই তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।’

এদিকে এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতার অপ-ব্যবহার ও অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্ত বৈভবেরও মালিক হয়েছেন মহিউদ্দিন।

গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে সাগরদী ধান গবেষণা এলাকা থেকে রেজাকে গ্রেফতার করেন মহিউদ্দিন। ইনজেকটেবল ড্রাগসহ গাঁজা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই তাকে হস্তান্তর করা হয় কোতোয়ালি মডেল থানায়। পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় রেজাকে।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর জেলখানায় আনার সময়ই অসুস্থ ছিল রেজা। কাগজপত্রে অসুস্থ উল্লেখ করে তাকে গ্রহণ করে কারা কর্তৃপক্ষ।

১ জানুয়ারি রাতে দুই পায়ের সংযোগস্থল থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ৩ জানুয়ারি ভোরে সে মারা যায়।

ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে পরিবার। পূর্ব শত্রুতার জেরে রেজাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অভিযোগ করে রেজাউলের স্ত্রী মারুফা আক্তার বলেন, মহিউদ্দিন এবং আমাদের বসবাস একই এলাকায়। এর আগেও বিভিন্ন সময় আমার স্বামীকে নানা ভয় ভীতি দেখাতেন তিনি।

রেজাউলের বাবা ইউনুস মিয়া বলেন, হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় শুয়েও আমার ছেলে বলেছে তার কাছে কোনো মাদক ছিল না। মহিউদ্দিন তার পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছি।

দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্ত শেষে রিপোর্ট দেয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সংক্ষেপে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক আনিসুর রহমান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

‘ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে’, ইরানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

মৃত্যুশয্যায় পুলিশের নির্যাতনের কথা বলেছিলেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজা

প্রকাশিত : ০৭:২১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ জানুয়ারী ২০২১

বরিশালে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় নির্যাতনের কথা বলে গেছেন তিনি।

রেজার স্ত্রী মারুফা আক্তার দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্যাতনের কথা জানিয়েছে রেজাউল। এসআই মহিউদ্দিন ওই নির্যাতন চালায় বলে মৃত্যু শয্যায় তিনি জানিয়েছিলেন।

এদিকে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলা করেন নিহত রেজাউলের পিতা ইউনুস মিয়া।

মামলায় ডিবির এসআই মহিউদ্দিন মাহীসহ ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর রাতে এই মহিউদ্দিন নগরের সাগরদী ধান গবেষণা এলাকা থেকে রেজাউলকে গ্রেফতার করেছিল।

এসআই মহিউদ্দিনকে ডিবি থেকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ক্লোজ এর চিঠি ইস্যু হলেও পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানিয়েছেন, ‘যেহেতু অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং অভিযোগটি তারই বিরুদ্ধে তাই তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।’

এদিকে এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতার অপ-ব্যবহার ও অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্ত বৈভবেরও মালিক হয়েছেন মহিউদ্দিন।

গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে সাগরদী ধান গবেষণা এলাকা থেকে রেজাকে গ্রেফতার করেন মহিউদ্দিন। ইনজেকটেবল ড্রাগসহ গাঁজা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই তাকে হস্তান্তর করা হয় কোতোয়ালি মডেল থানায়। পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় রেজাকে।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর জেলখানায় আনার সময়ই অসুস্থ ছিল রেজা। কাগজপত্রে অসুস্থ উল্লেখ করে তাকে গ্রহণ করে কারা কর্তৃপক্ষ।

১ জানুয়ারি রাতে দুই পায়ের সংযোগস্থল থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ৩ জানুয়ারি ভোরে সে মারা যায়।

ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে পরিবার। পূর্ব শত্রুতার জেরে রেজাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অভিযোগ করে রেজাউলের স্ত্রী মারুফা আক্তার বলেন, মহিউদ্দিন এবং আমাদের বসবাস একই এলাকায়। এর আগেও বিভিন্ন সময় আমার স্বামীকে নানা ভয় ভীতি দেখাতেন তিনি।

রেজাউলের বাবা ইউনুস মিয়া বলেন, হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় শুয়েও আমার ছেলে বলেছে তার কাছে কোনো মাদক ছিল না। মহিউদ্দিন তার পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছি।

দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্ত শেষে রিপোর্ট দেয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সংক্ষেপে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক আনিসুর রহমান।