০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিচারের নামে বিবাদীদের মারপিটের অভিযোগ

নওগাঁ সদরের কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের আতোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে বিচারের নামে ডেকে নিয়ে এসে বিবাদী তিনজনকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপূরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত¡রে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই তিন জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মারপিটের এই ঘটনায় চেয়্যারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ্য গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তোভ‚গীরা।

আহতরা হলেন, একই ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ফিরোজ হোসেন (২৭), জাহিদুল ইসলাম নারু (৫৫) ও শাজাহান আলী ভুট্ট (৩৯)।

জানা গেছে, মাগুরা গ্রামের শাজাহান আলী ভুট্ট ও মোহাম্মাদ আলী শাহের ছেলে হাসুসহ পাঁচজন শরিকানা একটি পুকুর রয়েছে। বুধবার সকালে গ্রামের রাসেল নামে এক ব্যক্তির একটি শ্যালো মেশিন ভাড়া করে নিয়ে এসে পুকুর থেকে জোর পূর্বক পানি তুলছিলেন হাসু।

এসময় শাজাহান আলীর স্ত্রী শাহনাজ পানি উঠাতে রাসেলকে নিষেধ করে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুকুরের শরিকানা মালিক হাসু লাঠি দিয়ে শাহনাজকে আঘাত করে। বিষয়টি শাহনাজ তার স্বামী শাজাহান আলীকে জানান। পরে শাজাহান আলী ঘটনাস্থলে আসলে আবারো উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শাজাহান আলীর বাড়িতে হামলা চালান প্রতিপক্ষ হাসু। থানায় বিষয়টি অবগত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওই দিন বিকেলে শ্যালো মেশিনের মালিক রাসেলের বাবা আদেশ আলী বাদী হয়ে গ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম আদালতে শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ও সাত্তারের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় তাদের ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়। সময় মতো শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ইউনিয়ন পরিষদের এলে তাদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান কোন কথা ছাড়াই একে একে ঘর থেকে বের করে লাঠি দিয়ে তাদের মারপিট করে আহত করেন। এ সময় জোরর্পূবক তাদের নিকট থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন জানতে পেরে আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

আহত শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু ও ফিরোজ হোসেন জানান, গ্রাম আদালতে বিচারের নামে চেয়ারম্যান আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ডেকে কোন কথা ছাড়াই আমাদের লাঠিপেটা করেন। অন্যায় ভাবে আমাদের নির্যাতন করা হয়েছে। উধ্বর্তন মহলের কাছে আমরা চেয়ারম্যান আতোয়ার হোসেনের বিচার দাবী করছি।

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান মারপিটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যাদেরকে মারপিট করা হয়েছে তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে মারপিট করা আমার দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, বিচারের নামে কাউকে মারপিট করার নিয়ন ইউপি চেয়ারম্যানদের নাই। গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনের তিনি নোটিশ ও জরিমানা করতে পারেন।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দি হোসেন জানান, ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ করলে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিচারের নামে বিবাদীদের মারপিটের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৬:৫০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী ২০২১

নওগাঁ সদরের কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের আতোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে বিচারের নামে ডেকে নিয়ে এসে বিবাদী তিনজনকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপূরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত¡রে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই তিন জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মারপিটের এই ঘটনায় চেয়্যারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ্য গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তোভ‚গীরা।

আহতরা হলেন, একই ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ফিরোজ হোসেন (২৭), জাহিদুল ইসলাম নারু (৫৫) ও শাজাহান আলী ভুট্ট (৩৯)।

জানা গেছে, মাগুরা গ্রামের শাজাহান আলী ভুট্ট ও মোহাম্মাদ আলী শাহের ছেলে হাসুসহ পাঁচজন শরিকানা একটি পুকুর রয়েছে। বুধবার সকালে গ্রামের রাসেল নামে এক ব্যক্তির একটি শ্যালো মেশিন ভাড়া করে নিয়ে এসে পুকুর থেকে জোর পূর্বক পানি তুলছিলেন হাসু।

এসময় শাজাহান আলীর স্ত্রী শাহনাজ পানি উঠাতে রাসেলকে নিষেধ করে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুকুরের শরিকানা মালিক হাসু লাঠি দিয়ে শাহনাজকে আঘাত করে। বিষয়টি শাহনাজ তার স্বামী শাজাহান আলীকে জানান। পরে শাজাহান আলী ঘটনাস্থলে আসলে আবারো উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শাজাহান আলীর বাড়িতে হামলা চালান প্রতিপক্ষ হাসু। থানায় বিষয়টি অবগত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওই দিন বিকেলে শ্যালো মেশিনের মালিক রাসেলের বাবা আদেশ আলী বাদী হয়ে গ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম আদালতে শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ও সাত্তারের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় তাদের ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়। সময় মতো শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ইউনিয়ন পরিষদের এলে তাদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান কোন কথা ছাড়াই একে একে ঘর থেকে বের করে লাঠি দিয়ে তাদের মারপিট করে আহত করেন। এ সময় জোরর্পূবক তাদের নিকট থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন জানতে পেরে আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

আহত শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু ও ফিরোজ হোসেন জানান, গ্রাম আদালতে বিচারের নামে চেয়ারম্যান আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ডেকে কোন কথা ছাড়াই আমাদের লাঠিপেটা করেন। অন্যায় ভাবে আমাদের নির্যাতন করা হয়েছে। উধ্বর্তন মহলের কাছে আমরা চেয়ারম্যান আতোয়ার হোসেনের বিচার দাবী করছি।

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান মারপিটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যাদেরকে মারপিট করা হয়েছে তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে মারপিট করা আমার দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, বিচারের নামে কাউকে মারপিট করার নিয়ন ইউপি চেয়ারম্যানদের নাই। গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনের তিনি নোটিশ ও জরিমানা করতে পারেন।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দি হোসেন জানান, ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ করলে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ