০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

৩০ দিবসে মূলধন বাড়লো ৮০ হাজার কোটি টাকা

  • এ. আর আকাশ
  • প্রকাশিত : ০৬:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২১
  • 105

টানা ৬ সপ্তাহ দাপট ধরে রেখেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই। গত ৩০ কার্যদিবসেই ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছিল ১ লাখ কোটি টাকা। গত ছয় সপ্তাহেই এর আশি ভাগ ফিরে পেয়েছে ডিএসই। এদিকে শিগগিরই শেয়ারবাজার অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ঢাকার শেয়ারবাজারে নতুন বছরের শুরুটা হয়েছে দাপুটে লেনদেনের মধ্য দিয়ে। আগামী দিনেও এই বাজার বিনিয়োগবান্ধব বাজারে রূপ নেবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বলছে, গেলো সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরণের উত্থান হয়েছে। এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক চার শতাংশের ওপরে বেড়েছে। শুধু তাই নয়, এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় পাঁচ শতাংশ। আর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৭০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যা এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল চার লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে টানা ছয় সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ল ৭৯ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বৃদ্ধির অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মেলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা চার দশমিক ০৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৮৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৫২ শতাংশ। তার আগের চার সপ্তাহেও সূচক বেড়েছিল। এতে টানা ছয় সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৭৫০ পয়েন্ট বেড়েছে।
প্রধান মূল্য সূচকরে পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি বেড়েছে ৮৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা চার দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮৭ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বা চার দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের চার সপ্তাহেও সূচকটি বেড়েছিল। এতে ছয় সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচক বেড়েছে ৩৫৮ পয়েন্ট।

ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও টানা ছয় সপ্তাহ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯২ শতাংশ। এতে পাঁচ সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১৪৭ পয়েন্ট।

সবকটি মূল্য সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৫টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৪টির। আর ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ১৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৮২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে নয় হাজার ৯৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ৮০৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে চার হাজার ১৪৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ গ্রপ বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৭৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ১৮ দশমিক শ্ণ্যূ ২ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রপের দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ অবদান ছিল।

গেল সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইএফআইসি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, রবি, লাফার্জহোলসিম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, পাওয়ার গ্রীড, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং অ্যাক্টিভ ফাইন।

শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দাপুটে’ আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ড. জায়েদ বখত আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই শেয়ারবাজার একসময় অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্যের প্রাণকেন্দ্র হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

৩০ দিবসে মূলধন বাড়লো ৮০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ০৬:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২১

টানা ৬ সপ্তাহ দাপট ধরে রেখেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই। গত ৩০ কার্যদিবসেই ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছিল ১ লাখ কোটি টাকা। গত ছয় সপ্তাহেই এর আশি ভাগ ফিরে পেয়েছে ডিএসই। এদিকে শিগগিরই শেয়ারবাজার অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ঢাকার শেয়ারবাজারে নতুন বছরের শুরুটা হয়েছে দাপুটে লেনদেনের মধ্য দিয়ে। আগামী দিনেও এই বাজার বিনিয়োগবান্ধব বাজারে রূপ নেবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বলছে, গেলো সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরণের উত্থান হয়েছে। এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক চার শতাংশের ওপরে বেড়েছে। শুধু তাই নয়, এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় পাঁচ শতাংশ। আর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৭০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যা এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল চার লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে টানা ছয় সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ল ৭৯ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বৃদ্ধির অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মেলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা চার দশমিক ০৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৮৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৫২ শতাংশ। তার আগের চার সপ্তাহেও সূচক বেড়েছিল। এতে টানা ছয় সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৭৫০ পয়েন্ট বেড়েছে।
প্রধান মূল্য সূচকরে পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি বেড়েছে ৮৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা চার দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮৭ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বা চার দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের চার সপ্তাহেও সূচকটি বেড়েছিল। এতে ছয় সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচক বেড়েছে ৩৫৮ পয়েন্ট।

ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও টানা ছয় সপ্তাহ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯২ শতাংশ। এতে পাঁচ সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১৪৭ পয়েন্ট।

সবকটি মূল্য সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৫টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৪টির। আর ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ১৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৮২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে নয় হাজার ৯৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ৮০৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে চার হাজার ১৪৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ গ্রপ বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৭৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ১৮ দশমিক শ্ণ্যূ ২ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রপের দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ অবদান ছিল।

গেল সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইএফআইসি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, রবি, লাফার্জহোলসিম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, পাওয়ার গ্রীড, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং অ্যাক্টিভ ফাইন।

শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দাপুটে’ আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ড. জায়েদ বখত আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই শেয়ারবাজার একসময় অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্যের প্রাণকেন্দ্র হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর