ঢাকা দুপুর ২:৪৬, রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আনুশকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল না, দাবি মায়ের

দিহানের সঙ্গে রাজধানীর কলাবাগানের ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থী আনুশকার কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিল না দাবি করে ধর্ষণ ও হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চেয়েছেন তার মা। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনের মা এ দাবি করেন।

এসময় পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার আইনে করা, দিহান ও তার সঙ্গীদের বিচারের আওতায় আনা, স্বচ্ছ ডিএনএ পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে যেন অযাচিত অসুবিধার শিকার না হতে হয় সে দাবি জানানো হয়।

তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে এসে দেখি, দিহানসহ তার তিন সঙ্গী বসে আছে। তারা আমার পা জড়িয়ে ধরে বলে ‘আন্টি আমাদের বাঁচান’। মেয়েকে দেখতে চাইলে দেখতে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে জানান, ‘আমার মেয়ে মারা গেছে।’

সেদিনের ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীর মা দাবি করেন, ৭ জানুয়ারি দিহান ও তার সঙ্গীরা তার মেয়েকে অপহরণ করে বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তার মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার পরে তাকে ফোন করা হয়। দিহান তাকে ফোন করে তার মেয়ে সেন্সলেস (অজ্ঞান) হয়ে গেছে বলে জানায়।

শিক্ষার্থীর মা আরও বলেন, দিহানকে জিজ্ঞেস করি, আমার মেয়েকে কোথায় পেলে, কেন মারা গেলো? তখন সে বলে, ‘আমরা চারজন ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাই, সেখানেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়।’ এরপর বাসায় আর কোন মেয়ে বন্ধু বা মা-বাবা ছিল কি-না জানতে চাই। দিহান বলে, ‘আমরা চারজনই তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম।’ এরপর আমার বুঝতে বাকি থাকে না।

তিনি অভিযোগ করেন, তারা যেভাবে চেয়েছেন পুলিশ সেভাবে মামলাটি নেয়নি। এছাড়া একটি মহল দিহান ও তার সঙ্গীদের আড়াল করতে তার মেয়ের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। বলছে, তার মেয়ের সঙ্গে দিহানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি ঠিক নয় দাবি করে তিনি জানান, কিছু কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষার্থীর বাবা জানান, তার অনুমতি ছাড়া মেয়ে কিছু করতো না, কোথাও যেত না। সেদিনও বিপদে পড়ে বা বাইরে যাওয়ার অনুমতি নিতে তাকে ফোন করেছিল। কিন্তু কলটা তিনি ধরতে পারেননি। ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটতো না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, ‘শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়নি।’ কিন্তু শিক্ষার্থীর মায়ের দেখানো ছবিতে পিঠে কালশিটে দাগ দেখা গেছে, যা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। এ সময় তিনি হাইকোর্টের রায় অনুযাযী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘যৌন নিপীড়ন অভিযোগ সেল’ গঠনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি করা হয়। যথা- যৌন নির্যাতনে সাইবার মাধ্যম ব্যবহার ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র শিশু-কিশোর ও তরুণের মানসিক বিকাশের উপযোগী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং যৌন অপরাধ প্রতিরোধে পাঠ্যসূচিতে যৌন ও প্রজনন শিক্ষার অন্তর্ভূক্তি।

এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যেরে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমা মুসলেম, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাব নেছা, ঢাকা মহানগর মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস প্রমুখ। এছাড়া ঘটনার শিকার ওই শিক্ষার্থীর চার সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ